বলিউডের জনপ্রিয়তম কমেডি ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘হেরা ফেরি’র তৃতীয় কিস্তি নিয়ে দর্শকদের
দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষা এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। আইনি জটিলতার বেড়াজালে আটকে
যাওয়ায় আপাতত সিনেমাটির ভবিষ্যৎ অন্ধকারাচ্ছন্ন। পর্দার জনপ্রিয় তিন চরিত্র রাজু,
শ্যাম ও বাবুরাওকে আবারও একত্রে দেখার যে আশা ভক্তরা বুনেছিলেন, তা বড় ধরণের বাধার
সম্মুখীন হয়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে স্বয়ং বলিউড সুপারস্টার অক্ষয় কুমার
গভীর শঙ্কা ও হতাশা প্রকাশ করেছেন।
সম্প্রতি নিজের নতুন মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘ভূত বাংলা’র প্রচারণার অংশ হিসেবে একটি
ইউটিউব চ্যানেলে অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়েছিলেন অক্ষয় কুমার। সেখানে ক্যারিয়ার ও
ব্যক্তিগত জীবনের আলাপচারিতার এক পর্যায়ে উঠে আসে ‘হেরা ফেরি থ্রি’র প্রসঙ্গ।
সিনেমাটি কি অচিরেই আলোর মুখ দেখবে—এমন প্রশ্নের জবাবে অক্ষয় অত্যন্ত স্পষ্টভাবে
জানান যে, আপাতত এই প্রজেক্ট নিয়ে কোনো আশার আলো নেই। তিনি অত্যন্ত ভারাক্রান্ত
হৃদয়ে প্রকাশ করেন যে, সিনেমাটির কাজ অন্তত এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। এই
সিদ্ধান্তটি তাঁর জন্য একটি বড় ধাক্কা হলেও বিদ্যমান পরিস্থিতি মেনে নেওয়া ছাড়া
তাঁর কাছে আর কোনো উপায় ছিল না।
অক্ষয় কুমার সিনেমাটি পিছিয়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে চুক্তি সংক্রান্ত কিছু অভ্যন্তরীণ
ও জটিল সমস্যার দিকে ইঙ্গিত দিয়েছেন। পেশাদার খাতিরে সব তথ্য জনসমক্ষে না আনলেও
তাঁর কথায় স্পষ্ট ছিল যে সমস্যাটি বেশ গুরুতর। অক্ষয়, পরেশ রাওয়াল এবং সুনীল শেঠির
এই কালজয়ী ত্রয়ীকে আবারও পর্দায় দেখার অপেক্ষায় থাকা কোটি কোটি ভক্তের জন্য এই
সংবাদটি বেশ হতাশাজনক। অক্ষয় মজা করে একটি রূঢ় সত্য তুলে ধরেন যে, তাঁর একমাত্র
প্রার্থনা হলো যেন সিনেমাটি এমন কোনো সময়ে তৈরি না হয় যখন তাঁরা অভিনয়ের সামর্থ্য
হারিয়ে বৃদ্ধ হয়ে যাবেন। মূলত সময়ের সঠিক ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছেন এই অভিনেতা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই স্থবিরতার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে
রয়েছে সিনেমার স্বত্ব বা রাইটস নিয়ে একটি ত্রিভুজ আইনি লড়াই। প্রযোজক ফিরোজ
নাদিয়াদওয়ালার বিরুদ্ধে মাদ্রাজ হাইকোর্টে মামলা ঠুকে দিয়েছে ‘সেভেন আর্টস
ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। সংস্থাটির দাবি, ২০২২ সালেই তাঁরা
এই ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রয়োজনীয় স্বত্ব কিনে নিয়েছিলেন এবং ফিরোজের অধিকার ছিল কেবল
সিক্যুয়েল নির্মাণের, নতুন কোনো স্বতন্ত্র সিনেমা তৈরির নয়। এই জটিলতার প্যাঁচে পড়ে
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন অক্ষয় কুমার, কারণ তিনি ফিরোজের কাছ থেকেই স্বত্ব
বুঝে নিয়েছিলেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মাদ্রাজ হাইকোর্টের এই আইনি লড়াইয়ের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া
পর্যন্ত ‘হেরা ফেরি থ্রি’র ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না
সংশ্লিষ্টরা। এর ফলে রাজু, শ্যাম এবং বাবুরাওয়ের সেই চিরচেনা হাস্যরস আর রসায়ন বড়
পর্দায় ফেরার বিষয়টি এখন আদালতের রায়ের ওপর ঝুলে রইল। বলিউড বিশ্লেষকরা মনে করছেন,
আইনি ও বাণিজ্যিক এই জটিলতা যদি দ্রুত সমাধান না হয়, তবে হিন্দি সিনেমার ইতিহাসের
অন্যতম সফল এই কমেডি ফ্র্যাঞ্চাইজিটি তাঁর দীর্ঘদিনের গৌরব হারাতে পারে। আপাতত
অনিশ্চয়তার মেঘ না কাটা পর্যন্ত দর্শকদের অপেক্ষা আরও দীর্ঘায়িত হচ্ছে।
























