ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গেছে। মাত্র এক সপ্তাহের
ব্যবধানে দেশটির রিজার্ভ ৪ দশমিক ৮২ বিলিয়ন বা প্রায় ৪৮২ কোটি মার্কিন ডলার হ্রাস
পেয়েছে। শুক্রবার (১ মে) ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া
(আরবিআই) প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যান থেকে এই তথ্য জানা গেছে। এই পতনের ফলে দেশটির
মোট রিজার্ভ বর্তমানে ৬৯৮ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন বা ৬৯ হাজার ৮৪৯ কোটি ডলারে নেমে এসেছে,
যা গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থান।
আরবিআই-এর তথ্য অনুযায়ী, রিজার্ভের প্রায় প্রতিটি খাতেই এবার নেতিবাচক প্রভাব
পড়েছে। মজুতের সবচেয়ে বড় অংশ বিদেশি মুদ্রা সম্পদ (এফসিএ) ২ দশমিক ৮৪ বিলিয়ন ডলার
কমে বর্তমানে ৫৫৪ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে মূল্যবান ধাতু
স্বর্ণের মজুতও ১ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলার হ্রাস পেয়ে ১২০ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলারে
নেমেছে। এ ছাড়া স্পেশাল ড্রয়িং রাইটস (এসডিআর) এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের
(আইএমএফ) কাছে রক্ষিত রিজার্ভের পরিমাণও গত এক সপ্তাহে উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।
অথচ এর ঠিক আগের সপ্তাহে অর্থাৎ ১৭ এপ্রিল শেষ হওয়া সাত দিনে ভারতের বৈদেশিক
মুদ্রার রিজার্ভ বেশ ইতিবাচক অবস্থানে ছিল। সে সময় মজুত ২ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার
বেড়ে ৭০৩ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছিল। চলতি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ
দিকে ভারতের রিজার্ভ তার ইতিহাসের সর্বোচ্চ স্তর ৭২৮ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন ডলারে
পৌঁছেছিল। তবে সাম্প্রতিক এই ধারাবাহিক পতন দেশটির অর্থনীতিতে সাময়িক চাপের ইঙ্গিত
দিচ্ছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের
বিনিময় মূল্যের ওঠানামা এই পরিস্থিতির জন্য প্রধানত দায়ী। বিশেষ করে ভারতীয় রুপির
মানের বড় ধরনের পতন ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে খোলা বাজারে ডলার বিক্রি করে সরাসরি
হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে রিজার্ভের ওপর। আরবিআই
জানিয়েছে, তারা বর্তমান বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে এবং
বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং আমদানির ক্ষেত্রে
ডলারের ক্রমবর্ধমান চাহিদাও রিজার্ভের এই নিম্নমুখী প্রবণতাকে ত্বরান্বিত করেছে।
তবে নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, ভারতের বর্তমান মজুত এখনো যথেষ্ট শক্তিশালী অবস্থানে
রয়েছে যা দিয়ে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি বা দীর্ঘমেয়াদী আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সময়োপযোগী কৌশল এবং বৈদেশিক বিনিয়োগের প্রবাহ পুনরায় বৃদ্ধি
পেলে দ্রুতই এই ঘাটতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।
























