মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে এই প্রথমবারের মতো ইরানকে সরাসরি ও কঠোর
সতর্কবার্তা দিয়েছে সৌদি আরব। রিয়াদের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, ইরান
যদি আরব অঞ্চলের দেশগুলোকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রাখে,
তবে চলমান যুদ্ধে তেহরানের ‘সর্বোচ্চ পরাজয়’ ঘটবে। রবিবার (৮ মার্চ) সৌদির
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে ইরানের প্রতি এই কঠিন হুঙ্কার
ছুড়ে দিয়েছে। মূলত গত শনিবার সৌদির অন্যতম বৃহত্তম তেলক্ষেত্র ‘শায়েবাহ অয়েল
ফিল্ড’-এ ইরানি ড্রোন হামলার প্রতিক্রিয়ায় রিয়াদ এই অবস্থান নিল।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের সমালোচনা করে বলা
হয়েছে, দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ও বাস্তব কাজের
মধ্যে কোনো মিল নেই। রিয়াদের অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান প্রতিবেশী আরব
দেশগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা বন্ধের আশ্বাস দিয়েছিলেন, কিন্তু বাস্তবে সেই
প্রতিশ্রুতির কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কোনো সুনির্দিষ্ট
কারণ ছাড়াই ইরান আরব বিশ্বের রাষ্ট্রগুলোর ওপর অত্যন্ত অযৌক্তিকভাবে এবং নির্বিচারে
আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ঠেলে
দিয়েছে।
সৌদি আরবের এই সতর্কবার্তায় সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়েও গভীর উদ্বেগের ইঙ্গিত দেওয়া
হয়েছে। রিয়াদ সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, এমন উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে
সৌদি-ইরান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক দীর্ঘস্থায়ী নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া
ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সৌদির এই কড়া অবস্থান যুদ্ধের
গতিপ্রকৃতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। সৌদির মতো প্রভাবশালী আরব রাষ্ট্রের এই
হুঁশিয়ারি তেহরানের ওপর বড় ধরণের আন্তর্জাতিক চাপ তৈরি করবে।
উল্লেখ্য, ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বর্তমানে কেবল ইসরায়েলে সীমাবদ্ধ নেই
বরং তা পার্শ্ববর্তী অন্যান্য দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে। সৌদির তেলক্ষেত্রে হামলার পর
রিয়াদের ধৈর্যচ্যুতি ঘটা স্বাভাবিক বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এখন দেখার বিষয়,
সৌদির এই সর্বোচ্চ পরাজয়ের হুঁশিয়ারির জবাবে তেহরান তাদের সামরিক কৌশলে কোনো
পরিবর্তন আনে কি না। মধ্যপ্রাচ্যের দুই বড় শক্তির এই মুখোমুখি অবস্থান পুরো অঞ্চলের
নিরাপত্তা পরিস্থিতির জন্য এক অশনি সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
























