স্প্যানিশ লা লিগার শিরোপা পুনরুদ্ধারের পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেল বার্সেলোনা। লিগের
২৮তম রাউন্ডের হাইভোল্টেজ ম্যাচে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রাফিনিয়ার অসামান্য
হ্যাটট্রিকে সেভিয়াকে ৫-২ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে কাতালানরা। গত রাতে ঘরের মাঠ
ক্যাম্প ন্যুতে ৫০ হাজারেরও বেশি উল্লাসিত দর্শকের সামনে দাপুটে ফুটবল খেলে মাঠ
ছাড়ে স্বাগতিকরা। এই জয়ের ফলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে ৪ পয়েন্টের
ব্যবধানে এগিয়ে থেকে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান আরও সুসংহত করল বার্সেলোনা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক কৌশল অবলম্বন করে সেভিয়ার রক্ষণভাগকে ব্যস্ত করে
তোলে বার্সেলোনা। দলের পক্ষে গোল উৎসবের সূচনা করেন রাফিনিয়া। ম্যাচের ২১তম এবং
৩৯তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে নিখুঁত শটে বল জালে জড়িয়ে দলকে চালকের আসনে বসিয়ে দেন এই
ব্রাজিলিয়ান তারকা। বিরতির ঠিক আগে ৪০ মিনিটের মাথায় দানি ওলমো দুর্দান্ত এক গোল
করলে ব্যবধান দাঁড়ায় ৩-০। যদিও প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে ওসো সেভিয়ার হয়ে এক গোল
শোধ করে ম্যাচে ফেরার কিছুটা আশা জাগিয়েছিলেন, তবে দ্বিতীয়ার্ধে বার্সার আক্রমণের
ধার কমেনি।
বিরতি থেকে ফিরে এসে ম্যাচের ৫১ মিনিটে নিজের একক নৈপুণ্যে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন
রাফিনিয়া। চলতি লিগ মৌসুমে এটিই তার প্রথম হ্যাটট্রিক, যা দলের জয়কে প্রায় নিশ্চিত
করে দেয়। এরপর ৬০ মিনিটের মাথায় পর্তুগিজ তারকা জোয়াও ক্যানসেলো দলের হয়ে পঞ্চম
গোলটি করলে সেভিয়া পুরোপুরি ম্যাচ থেকে ছিটকে যায়। খেলার অন্তিমলগ্নে জিব্রিল সো
সফরকারী সেভিয়ার হয়ে আরও একটি গোল শোধ করলেও তা কেবল পরাজয়ের ব্যবধানই কমিয়েছে। শেষ
পর্যন্ত ৫-২ গোলের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা।
এই জয়টি বার্সেলোনার জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ আগামী বুধবার
উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ১৬-র লড়াইয়ে তারা শক্তিশালী নিউক্যাসেল ইউনাইটেডের
মুখোমুখি হবে। সেই বড় ম্যাচের আগে এই জয় ফুটবলারদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে
দিয়েছে। এছাড়া এই জয়ের মাধ্যমে ঘরের মাঠে টানা ১৪টি লিগ ম্যাচ জেতার এক অনন্য
মাইলফলক স্পর্শ করল বার্সেলোনা। বর্তমানে ২৮ ম্যাচে ৭০ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে
অবস্থান করছে তারা, যেখানে সমান ম্যাচে ৬৬ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে রিয়াল
মাদ্রিদ। অন্যদিকে, পরাজয়ের গ্লানি নিয়ে ২৮ ম্যাচে ৩১ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার ১৪তম
স্থানে পড়ে রইল সেভিয়া। তাদের পরবর্তী লড়াই ঘরের মাঠে ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে।
























