পবিত্র ঈদুল ফিতর মানেই বড় পর্দায় নতুন সব চমক, আর বর্তমান সময়ে সেই উন্মাদনার
কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ছোট পর্দার একসময়ের রাজপুত্র ও বর্তমানের বড় পর্দার সেনসেশন
আফরান নিশো। ‘সুড়ঙ্গ’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে রাজকীয় অভিষেকের পর এবারের ঈদে
তিনি দর্শকদের সামনে হাজির হয়েছেন ‘দম’ নিয়ে। রেদওয়ান রনি পরিচালিত ‘দম: আনটিল দ্য
লাস্ট ব্রেথ’ সিনেমাটি ঘিরে দর্শকদের কৌতূহল এখন তুঙ্গে, যার অন্যতম প্রধান কারণ
প্রথমবারের মতো বড় পর্দায় আফরান নিশো ও চঞ্চল চৌধুরীর একসঙ্গে অভিনয়। এই দুই
শক্তিমান অভিনেতার দ্বৈরথ সিনেমাটিকে এক অন্য মাত্রায় নিয়ে গেছে।
‘দম’ সিনেমাটি মূলত একটি সারভাইভাল ড্রামা বা বেঁচে থাকার লড়াইয়ের গল্প।
কাজাখস্তানের হাড়কাঁপানো হাড়কাঁপানো শীত থেকে শুরু করে পাবনার গ্রামীণ
মেঠোপথ—সর্বত্রই ‘শাহজাহান ইসলাম নূর’ চরিত্রের মধ্য দিয়ে নিশো ফুটিয়ে তুলেছেন একজন
সাধারণ মানুষের অসাধারণভাবে টিকে থাকার গল্প। তবে এই সিনেমার প্রচারণার ফাঁকেই নিশো
তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং দেশের সিনেমার অ্যাকশন ঘরানা নিয়ে নিজের সুচিন্তিত
দর্শনের কথা জানিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, গতানুগতিক বা অবাস্তব মারপিটের
প্রতি তাঁর কোনো আগ্রহ নেই। বরং তিনি এমন এক ধরনের ‘অ্যাকশন’ সিনেমা করতে চান, যা
দর্শকদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য এবং শৈল্পিক মনে হবে।
একটি সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে আফরান নিশো দেশের প্রচলিত অ্যাকশন সিনেমার ধরন নিয়ে
তাঁর অনীহার কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। তাঁর মতে, বাংলা সিনেমায় অ্যাকশন দৃশ্যগুলো
অনেক ক্ষেত্রেই অত্যন্ত সাধারণ বা ‘কনভেনশনাল’ ধাঁচের হয়, যা তাঁর কাছে বেশ একঘেয়ে
ও বিরক্তিকর মনে হয়। তিনি মনে করেন, অ্যাকশন মানেই কেবল উদ্দেশ্যহীনভাবে গুলি
চালানো কিংবা অতিরঞ্জিত মারপিট নয়। নিশো তাঁর বক্তব্যে কারো নাম উল্লেখ না করে বলেন
যে, তিনি কারো প্রতিযোগী হিসেবে কাজ করছেন না। বড় পর্দায় তিনি নিজেকে একজন নতুন মুখ
বা ‘নিউ কামার’ হিসেবেই দেখেন এবং তাঁর লক্ষ্য হলো অভিনয়ের মাধ্যমে নিজের একটি
স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করা।
অ্যাকশন সিনেমা নিয়ে নিজের ভিশন পরিষ্কার করতে গিয়ে নিশো জানান, তিনি ভবিষ্যতে এমন
অ্যাকশন ফিল্ম করতে চান যা দেখে দর্শকের মনে হবে এটি একটি খাঁটি বাংলাদেশি সিনেমা।
তিনি চান অ্যাকশন দৃশ্যের মধ্যেও শ্রম ও কষ্টের প্রতিফলন থাকুক, যা দেখে দর্শক
অনুপ্রাণিত হবে। তিনি শৈশব থেকেই যুদ্ধের সিনেমা দেখে বড় হয়েছেন এবং সেই
বাস্তবসম্মত অ্যাকশনই তাঁকে টানে। নিশোর ভাষ্যে, তিনি যদি ভবিষ্যতে হার্ডকোর
অ্যাকশন সিনেমাও করেন, সেখানেও শারীরিক শ্রম ও বাস্তবতার সমন্বয় থাকবে। তিনি চান না
এমন কিছু করতে যা দর্শকদের মনে স্থায়ী কোনো ছাপ ফেলবে না।
পরিশেষে আফরান নিশো তাঁর দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে বলেন, মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রির একজন
মানুষ হিসেবে তাঁর কিছু ব্যক্তিগত ইচ্ছা ও পরিকল্পনা রয়েছে, যার প্রতিফলন তাঁর পরপর
তিনটি সিনেমায় দেখা যাচ্ছে। তিনি কেবল উৎসব বা ঈদকে কেন্দ্র করে নয়, বরং সারা বছরই
ভালো মানের সিনেমা উপহার দিতে চান। ইতিমধ্যে তিনি তাঁর ভবিষ্যৎ প্রজেক্টগুলো নিয়ে
পরিকল্পনা সাজিয়ে ফেলেছেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। নিশোর এই নতুন চিন্তাধারা ও সিনেমার
প্রতি তাঁর ভিন্নধর্মী দৃষ্টিভঙ্গি বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পে এক নতুন ধারার
সূচনা করবে বলে চলচ্চিত্র বোদ্ধারা মনে করছেন।
























