মাদারীপুর সদর উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের সৈয়দ বাড়ি হাফেজিয়া মাদ্রাসা-সংলগ্ন
বিশালাকার আলগী দিঘি কালের সাক্ষী হয়ে আজও টিকে আছে, যা আলগী কাজীবাড়ি দিঘি নামেও
পরিচিত।
বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ এনায়েত হোসেনের কাছে এ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান,
দিঘিটি প্রায় চারশত বছর আগে ষোড়শ শতাব্দীর দিকে এটা গায়েবীভাবে তৈরি হয়েছিল এবং এ
দিঘির পাশে একটি গায়েবী মসজিদও তৈরি হয়। সেখানে স্থানীয়রাসহ দূর-দূরান্ত থেকে আগত
অনেক দর্শনার্থী মানত হিসেবে টাকা-পয়সা, হাস-মুরগি, ফলফলাদি, ছাগল ইত্যাদি দান করে
থাকেন। সেখানকার বাসিন্দাদের অনেকই বলেন, কে বা কারা কখন এই দিঘিটি খনন করেছেন তার
কোনো তথ্য আমাদের কাছে জানা নেই। তারা ধারণা করছেন মোঘল সম্রাটের আমলেও দিঘিটি খনন
হয়ে থাকতে পারে। কথিত আছে, ওই এলাকার বিবাহ-শাদী থেকে শুরু করে কোনো সামাজিক
অনুষ্ঠানে রান্না-বান্না ও আপ্যায়ন কাজে ডেগ, করাই, থালা-বাসুন ইত্যাদির প্রয়োজন
হলে এলাকাবাসী দীঘির মালিকের কাছে তা চাইলে তারা সেগুলো দিঘির তীরে গায়েবীভাবে পেয়ে
যেতেন। যদিও এর কোনো ভিত্তি খুঁজে পাওয়া যায়নি।
দিঘিটির সম্পর্কে একই এলাকার সৈয়দ এনামুল হাসান সোহাগ বলেন, ‘এটা প্রায় ৫-৬ একর
জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং কোথাও এর গভীরতা ৩০-৪০ ফুটের মতো।’ তিনি আরও বলেন, ‘দিঘিতে
রয়েছে প্রচুর দেশীয় প্রজাতির মিঠাপানির মাছ।’
অত্র এলাকার চারপাশের শত শত পরিবার এখানে দৈনন্দিন গৃহস্থালি কাজকর্ম সম্পাদনসহ
গোসলের কাজ সারতেন; কিন্তু বর্তমানে তা আর সম্ভব হচ্ছে না। এখন দিঘিটিতে তেমন
নাব্যতা নেই, যথাযথ সংরক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে দিঘিটি তার জৌলুস হারিয়ে
ময়লা-আবর্জনা ও কচুরিপানার স্তূপে ঢেকে গিয়ে মানুষের ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।’
সেখানকার বাসিন্দারা সরকারিভাবে দিঘিটির সংরক্ষণ, খনন, সংস্কার ও পরিচর্যার মাধ্যমে
এটিকে মাদারীপুরের একটি ঐতিহ্যবাহী দর্শনীয় পর্যটন স্পট হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান
জানিয়েছেন। উল্লখ্য, দিঘিটি পরিদর্শনে এখনো দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা আগমন করে
থাকেন।
























