সেবা প্রকাশনীর কালজয়ী গোয়েন্দা চরিত্র ‘মাসুদ রানা’কে বড় পর্দায় দেখার দীর্ঘ
প্রতীক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে নির্মাতা সৈকত নাসির
পরিচালিত বহুল আলোচিত ‘মাসুদ রানা’ চলচ্চিত্রটি আগামী ঈদুল আজহায় মুক্তি পাওয়ার
চূড়ান্ত ঘোষণা এসেছে। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার আব্দুল আজিজ
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সিনেমাটির মুক্তিকে কেন্দ্র করে আগামী বৃহস্পতিবার এক
জমকালো আয়োজনের মাধ্যমে ট্রেলার প্রকাশ করা হবে, যার মাধ্যমে শুরু হবে আনুষ্ঠানিক
প্রচারযুদ্ধ।
কথাসাহিত্যিক কাজী আনোয়ার হোসেনের অমর সৃষ্টি ‘মাসুদ রানা’ সিরিজ থেকে অনুপ্রাণিত
হয়ে নির্মিত এই সিনেমাটি নিয়ে শুরু থেকেই সিনেমাপ্রেমীদের মাঝে এক ধরণের রোমাঞ্চ
কাজ করছিল। প্রযোজক আব্দুল আজিজ জানিয়েছেন, সিনেমাটির চিত্রনাট্য স্বয়ং কাজী আনোয়ার
হোসেন তাঁর মৃত্যুর আগে অনুমোদন দিয়ে গিয়েছিলেন। ফলে মূল গল্পের নির্যাস বজায় রেখেই
সেলুলয়েডের পর্দায় ‘মাসুদ রানা’কে জীবন্ত করে তোলা হয়েছে। জাজ মাল্টিমিডিয়ার অন্যতম
ব্যয়বহুল এই প্রজেক্টটিতে কারিগরি মান ও অ্যাকশন দৃশ্যের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব
দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানটি।
সিনেমাটির নির্মাণ যাত্রার ইতিহাস বেশ দীর্ঘ। এর দৃশ্যধারণের বড় একটি অংশ প্রায়
পাঁচ বছর আগেই শেষ হয়েছিল। তবে একটি বিশেষ গান এবং কারিগরি কিছু জটিলতার কারণে কাজ
ঝুলে ছিল এতদিন। সম্প্রতি বাকি থাকা শুটিংয়ের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। নির্মাতা ও
প্রযোজক সূত্রে জানা গেছে, এখন মাত্র এক দিনের দৃশ্যধারণ বাকি রয়েছে। এই শেষ অংশের
শুটিং সম্পন্ন করার জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতির অপেক্ষা
করছে টিম। অনুমতি পাওয়া মাত্রই ক্যামেরার কাজ শেষ করে এ মাসেই পূর্ণাঙ্গভাবে
সিনেমাটি প্রস্তুত করা হবে। উল্লেখ্য যে, ডাবিং ও সম্পাদনার মতো পোস্ট-প্রডাকশনের
কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
এই সিনেমায় ‘মাসুদ রানা’র আইকনিক চরিত্রে পর্দায় হাজির হবেন নবাগত অভিনেতা রাসেল
রানা। অন্যদিকে, সিরিজের জনপ্রিয় নারী চরিত্র ‘সোহানা’র ভূমিকায় অভিনয় করেছেন
চিত্রনায়িকা পূজা চেরি। এই চরিত্রে অভিনয়ের জন্য পূজাকে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে
এবং প্রথমবারের মতো তাঁকে পর্দায় বিধ্বংসী সব অ্যাকশন দৃশ্যে দেখা যাবে। এছাড়া
‘অবনিতা’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন সৈয়দা তিথি অমনি। একঝাঁক প্রতিভাবান শিল্পী আর
টানটান উত্তেজনার স্পাই থ্রিলার গল্প নিয়ে নির্মিত এই সিনেমাটি ঢাকাই চলচ্চিত্রের
বাণিজ্যে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২০২০ সালে ঘোষিত হওয়া ‘মাসুদ রানা’ প্রজেক্টটির একটি আন্তর্জাতিক সংস্করণ
‘এমআরনাইন: ডু অর ডাই’ গত বছর মুক্তি পেলেও সৈকত নাসিরের এই দেশীয় সংস্করণটির জন্য
দর্শকরা উন্মুখ হয়ে ছিলেন। প্রযোজক আব্দুল আজিজ অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে
জানিয়েছেন যে, ‘মাসুদ রানা’ দেশের মাল্টিপ্লেক্স থেকে শুরু করে জেলা পর্যায়ের সব
প্রেক্ষাগৃহে একযোগে মুক্তি দেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার ট্রেলার প্রকাশের পর থেকে
দর্শকরা সিনেমাটির স্কেল ও মান সম্পর্কে একটি পরিষ্কার ধারণা পাবেন। সব মিলিয়ে
আসন্ন কোরবানির ঈদে বড় পর্দার অন্যতম বড় আকর্ষণ হতে যাচ্ছে এই স্পাই থ্রিলারটি।

























