রাজশাহীর বাঘা উপজেলার পাকুড়িয়ার বাসিন্দা মো. ফিরোজ আহমেদ (২৯) নবম শ্রেণিতে
পড়াকালীন সহপাঠী বিপ্লব হোসেনের (৩০) প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। শৈশব থেকে গড়ে ওঠা প্রেমিক
সম্পর্ক তাদের মধ্যে গভীর বন্ধন তৈরি করে। তারা একসাথে ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখলেও, ঘর
বাঁধার শর্ত ছিল ফিরোজকে তার প্রকৃতি অনুযায়ী নারী হিসেবে নিজেকে রূপান্তর করা।
২০২৪ সালে নিজের পুরুষত্ব ত্যাগ করে নারী হিসেবে পরিচয় নেন ফিরোজ। তিনি নৃত্যশিল্পী
হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু সার্জারির পর দেশে ফিরে আসার পর পরিস্থিতি বিপরীত মোড়
নেয়। তিনি জানতে পারেন, প্রেমিক বিপ্লব বরিশাল নগরীর ধান গবেষণা রোড এলাকায় অন্য
নারীর সঙ্গে সংসার করছেন।
ফিরোজ অভিযোগ করেন, সম্পর্কের দোহাই দিয়ে বিপ্লব প্রায়শই আর্থিক সুবিধা নিতেন। তার
হাত ধরে তিনবারে মোট ৫০ লাখ টাকা তুলে নেওয়া হয়েছিল। ফিরোজ বলেন, আমাদের প্রেম
স্কুল জীবনে শুরু হয়েছিল এবং আমরা বিদেশে গিয়ে বিয়ে করার পরিকল্পনা করেছিলাম।
কিন্তু সার্জারির পর দেশে ফিরে জানতে পারি বিপ্লব অন্যত্র সংসার সাজিয়েছে। তিনি
সম্পর্কের নামে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
ফিরোজ আরও জানান, বরিশালে নিজ স্বীকৃতি ও নিরাপত্তা দাবি করলে বিপ্লব থেকে হুমকি
পান। তাই তিনি বাধ্য হয়ে নিজের সম্পদ বিক্রি করে যে অর্থ তুলে দিয়েছিলেন তা ফেরত
চেয়ে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। অন্যদিকে, বিপ্লব এই অভিযোগ
অস্বীকার করে বলেছেন, ফিরোজ আমাকে জিম্মি করে টাকা আদায়ের চেষ্টা করছেন।
ফিরোজ জানিয়েছেন, তিনি চাইছেন ন্যায়বিচার এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক। প্রেমিকের
কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নেওয়া বা প্রভাব খাটানোর চেষ্টা চলতে পারে, কিন্তু আমার
উদ্দেশ্য শুধু নিজের অর্থ ফেরত ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
নিহিত তথ্য অনুযায়ী, স্কুল জীবন থেকে গড়ে ওঠা সম্পর্কের বয়স ১৭ বছর। বিষয়টি
সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি একই লিঙ্গের সম্পর্ক ও যৌন পরিচয় পরিবর্তনের পর
সামাজিক প্রতিক্রিয়া এবং আর্থিক বিতর্ক উভয়ই উঠে এসেছে। পেশায় নৃত্যশিল্পী হিসেবে
ফিরোজের পরিচিতি থাকায় বিষয়টি মিডিয়াতেও আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় সমাজ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একে শুধু ব্যক্তিগত বা অর্থনৈতিক বিষয় হিসেবে দেখা
উচিত নয়। এটি সমাজে যৌন পরিচয়, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে
সম্পর্কিত। তারা মনে করান, একই লিঙ্গের সম্পর্ক ও পরিচয় পরিবর্তনের ক্ষেত্রে
সতর্কতা, সম্মান এবং আইনি সচেতনতা অপরিহার্য।
বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম জানান, এ
সংক্রান্ত অভিযোগ গত ফেব্রুয়ারিতে থানায় দায়ের করা হয়েছিল। তবে বাদী পরে থানায়
উপস্থিত না হওয়ায় এবং আদালতের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের পরিকল্পনা থাকায় প্রশাসন তা
নথিভুক্ত রেখেছে।

























