ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) চলতি আসরে চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে নিজের
হারানো ছন্দ অবশেষে খুঁজে পেলেন সাঞ্জু স্যামসন। আসরের প্রথম তিন ম্যাচে ব্যাট হাতে
চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিলেও চতুর্থ ম্যাচে এসে রাজকীয়ভাবে জ্বলে উঠলেন এই
উইকেটকিপার ব্যাটার। শনিবার চিপকের চেনা মাঠে দিল্লি ক্যাপিটালসের বোলারদের ওপর
রীতিমতো তাণ্ডব চালিয়ে ৫২ বলে নিজের চতুর্থ আইপিএল সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। এটি
কেবল এই মৌসুমের প্রথম শতকই নয়, বরং দীর্ঘ পাঁচ বছরের অপেক্ষার পর আইপিএলে
স্যামসনের প্রথম সেঞ্চুরি।
রাজস্থান রয়্যালস থেকে ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে চেন্নাই শিবিরে যোগ দেওয়ার পর থেকেই
স্যামসনকে নিয়ে ভক্তদের মাঝে ব্যাপক প্রত্যাশা ছিল। বিশেষ করে ভারতের সবশেষ
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ে তাঁর ধারাবাহিক তিনটি হাফ সেঞ্চুরি সেই প্রত্যাশাকে আরও
উসকে দিয়েছিল। তবে আইপিএলের শুরুতে টানা তিন ম্যাচে ৬, ৭ এবং ৯ রান করে তিনি
রীতিমতো খেই হারিয়ে ফেলেছিলেন। সমালোচকরা যখন তাঁর ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু
করেছিলেন, ঠিক তখনই দিল্লির বিপক্ষে এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলে সব সমালোচনার কড়া জবাব
দিলেন কেরালা থেকে উঠে আসা এই তারকা।
মাঠের লড়াইয়ে এদিন শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন স্যামসন। মাত্র ২৬ বলে হাফ
সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর তাঁর ব্যাট আরও ধারালো হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত ৫৬ বল খেলে
তিনি দলকে ২১২ রানের এক পাহাড়সম সংগ্রহ এনে দিতে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। তাঁর এই
ইনিংসটি সাজানো ছিল ১৪টি দৃষ্টিনন্দন চার এবং ৩টি বিশাল ছক্কায়। পেসারদের বিরুদ্ধে
এদিন বিশেষ আগ্রাসী মেজাজে ছিলেন তিনি; ফাস্ট বোলারদের মোকাবিলা করে ৩৯ বলে একাই
সংগ্রহ করেন ৮৪ রান। স্পিনারদের বিপক্ষে কিছুটা সতর্ক থাকলেও রানের গতি সচল
রেখেছিলেন ১৭ বলে ৩১ রান তুলে।
এই সেঞ্চুরির মাধ্যমে স্যামসন বেশ কিছু ব্যক্তিগত রেকর্ডও নিজের করে নিয়েছেন।
চেন্নাই সুপার কিংসের ইতিহাসে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের তালিকায় চতুর্থ স্থানে উঠে
এসেছেন তিনি, যেখানে ১২৭ রান নিয়ে এখনো শীর্ষে আছেন মুরালি বিজয়। তবে সবচেয়ে
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, লোকেশ রাহুলের পর দ্বিতীয় ভারতীয় ব্যাটার হিসেবে আইপিএলে
তিনটি ভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজির (দিল্লি, রাজস্থান ও চেন্নাই) হয়ে সেঞ্চুরি করার এক
অনন্য রেকর্ড স্পর্শ করলেন তিনি।
সাঞ্জু স্যামসনের এই রাজকীয় প্রত্যাবর্তন চেন্নাই শিবিরের জন্য বড় স্বস্তির বার্তা
নিয়ে এসেছে। আসরের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দলের অন্যতম প্রধান স্তম্ভের এমন বিধ্বংসী
ফর্ম কেবল চেন্নাইকেই নয়, বরং আসন্ন বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে থাকা ভারতীয় ক্রিকেট
প্রেমীদেরও দারুণভাবে উজ্জীবিত করেছে। চিপকের গ্যালারি ভর্তি দর্শকদের হর্ষধ্বনির
মধ্য দিয়ে স্যামসন প্রমাণ করলেন যে, সাময়িক অফ-ফর্ম তাঁকে দমাতে পারলেও দীর্ঘক্ষণ
আটকে রাখা অসম্ভব। তাঁর এই সেঞ্চুরিটি বর্তমান মৌসুমের অন্যতম সেরা একক
পারফরম্যান্স হিসেবে ইতিমধ্যে ফুটবল মহলে প্রশংসিত হচ্ছে।
























