টানা পাঁচ সপ্তাহ ঊর্ধ্বগতির পর মালয়েশিয়ার বাজারে গত শুক্রবার পাম অয়েলের দামে
উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে।
প্রায় ১৬ মাসের মধ্যে এটিই ভোজ্যতেলটির সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক দরপতন হিসেবে চিহ্নিত
হয়েছে। উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনা এবং বৈশ্বিক চাহিদা কমে যাওয়ার আশঙ্কাই মূলত বাজারে
নেতিবাচক চাপ তৈরি করেছে। মার্চে দেশটিতে মজুদ সাত মাসের সর্বনিম্নে নেমে এলেও
দামের পতন থামানো যায়নি। এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিজনেস রেকর্ডার ও
হেলেনিক শিপিং নিউজ।
বুরসা মালয়েশিয়া ডেরিভেটিভস এক্সচেঞ্জে জুন সরবরাহের বেঞ্চমার্ক পাম অয়েলের দাম
কমেছে ২ দশমিক ৩৩ শতাংশ বা ১০৮ রিঙ্গিত। দিনশেষে প্রতি টন দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৫৩৫
রিঙ্গিতে। সপ্তাহজুড়ে দরপতন হয়েছে ৬ দশমিক ২৮ শতাংশ, যা ২০২৪ সালের পর সবচেয়ে বড়
সাপ্তাহিক পতন। এতে আমদানিকারক দেশগুলো কিছুটা স্বস্তি পেলেও উৎপাদকদের উদ্বেগ
বেড়েছে।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, রফতানি বাড়ায় টানা তিন মাস ধরে মজুদ কমছে। বর্তমানে বিশ্বের
দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎপাদক দেশটিতে মজুদ রয়েছে প্রায় ২১ লাখ ৭০ হাজার টন। তবে এই
ইতিবাচক প্রবণতাও দামের পতন ঠেকাতে পারেনি। বিশ্লেষকদের ধারণা, এপ্রিল থেকে জুন
পর্যন্ত ভরা মৌসুম হওয়ায় সরবরাহ আরও বাড়বে, যা দামের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে
পারে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং জাহাজ ভাড়া বৃদ্ধির কারণে ব্যবসায়ীদের
মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। মৌসুমী উৎপাদনের সঙ্গে রফতানি তাল মেলাতে না পারলে মজুদ
আবার বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। মালয়েশিয়ার ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান পেলিনডুং বেস্তারির
পরিচালক পারমালিঙ্গম সুব্রামানিয়াম জানান, বর্তমানে রফতানি পরিস্থিতি খুব একটা
আশাব্যঞ্জক নয়। চলতি মাসের প্রথম ১০ দিনের প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, রফতানি আগের
মাসের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।
আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও বাজারে প্রভাব ফেলছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে
যুদ্ধবিরতির খবরে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে, ফলে পাম অয়েলভিত্তিক বায়োডিজেলের
চাহিদা কমার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত শক্তিশালী হওয়ায়
বিদেশি ক্রেতাদের জন্য এই তেল কিনতে খরচ বেড়েছে। এতে ভারত ও চীনের মতো বড়
আমদানিকারকরা এখন অপেক্ষা–পর্যবেক্ষণে থাকায় বাজারে ক্রেতা সংকট দেখা দিয়েছে এবং
দাম নিম্নমুখী রয়েছে।

























