ভারতীয় চলচ্চিত্রের বাণিজ্যিক ইতিহাসে নতুন এক মহাকাব্য রচনা করছে সুপারস্টার রণবীর
সিং অভিনীত এবং প্রখ্যাত নির্মাতা আদিত্য ধর পরিচালিত স্পাই-থ্রিলার ‘ধুরন্ধর ২’।
মুক্তির মাত্র ৩০ দিনের মাথায় বিশ্বব্যাপী ছবিটি আয়ের ক্ষেত্রে এক অবিশ্বাস্য
উচ্চতা স্পর্শ করেছে। সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শনের এক মাস
পূর্ণ হওয়ার আগেই ছবিটির মোট সংগ্রহের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার ৭৪২ কোটি
টাকা। এই অভাবনীয় সাফল্যের মধ্য দিয়ে ছবিটি এসএস রাজামৌলির ‘আরআরআর’ এবং সাম্প্রতিক
সময়ের ব্লকবাস্টার ‘কল্কি ২৮৯৮ এডি’র মতো বড় বাজেটের ছবিগুলোর আজীবনের আয়ের
রেকর্ডকেও পেছনে ফেলে দিয়েছে।
ট্রেড এনালিস্ট ও বক্স অফিস বিশ্লেষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৩০ দিন শেষে ‘ধুরন্ধর
২’ বিশ্বজুড়ে মোট ১ হাজার ৭৪২ দশমিক ২৩ কোটি টাকা আয় করেছে। ছবিটির সাফল্যের
সিংহভাগই এসেছে ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে। শুধুমাত্র ভারতের প্রেক্ষাগৃহগুলো
থেকেই এর নিট আয় দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১০৫ কোটি টাকার বেশি। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক
বাজারেও রণবীর সিংয়ের এই নতুন অবতার ব্যাপক সমাদৃত হয়েছে, যেখান থেকে সংগৃহীত হয়েছে
প্রায় ৪১৮ কোটি টাকা। আয়ের এই সুষম বণ্টনই ছবিটিকে বৈশ্বিক চলচ্চিত্রের মানচিত্রে
এক অনন্য অবস্থানে নিয়ে গেছে।
মুক্তির এক মাস পেরিয়ে গেলেও ছবিটির জনপ্রিয়তায় বিন্দুমাত্র ভাটা পড়েনি। ৩০তম দিনেও
ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ৪ হাজারেরও বেশি শো সচল ছিল, যা সচরাচর অন্য কোনো বড়
বাজেটের সিনেমার ক্ষেত্রে দেখা যায় না। ওই একদিনেই ভারত থেকে প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ
টাকা এবং বিদেশের বাজার থেকে আরও ৮৫ লাখ টাকা যোগ হয়েছে ছবিটির মোট ঝুলিতে।
দর্শকদের এমন অভাবনীয় সমাগম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতিবাচক প্রচারণাই মূলত
ছবিটিকে এই দীর্ঘস্থায়ী বাণিজ্যিক সফলতা এনে দিয়েছে বলে মনে করছেন চলচ্চিত্র
বোদ্ধারা।
‘ধুরন্ধর ২’ প্রথম থেকেই রেকর্ড গড়ার দিকে মনোযোগী ছিল। মুক্তির মাত্র প্রথম
সপ্তাহেই এটি ১ হাজার কোটির অভিজাত ক্লাবে প্রবেশ করে বিরল কৃতিত্ব স্থাপন করেছিল।
দ্রুততম সময়ে ১ হাজার কোটির মাইলফলক ছোঁয়া ভারতীয় চলচ্চিত্রগুলোর তালিকায় এটি এখন
প্রথম সারিতে অবস্থান করছে। কেবল এশিয়া নয়, উত্তর আমেরিকার বাজারেও ছবিটি রীতিমতো
সুনামি সৃষ্টি করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বাজারে এটি এখন পর্যন্ত অন্যতম
সর্বোচ্চ আয়কারী ভারতীয় চলচ্চিত্রের মর্যাদা লাভ করেছে, যা হলিউডের বড় বড়
ফ্র্যাঞ্চাইজির সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার সামর্থ্য প্রমাণ করে।
চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, আদিত্য ধরের সুনিপুণ পরিচালনা এবং রণবীর সিংয়ের
ক্যারিয়ার-সেরা অভিনয়ই এই বিশাল সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। টানটান উত্তেজনার
চিত্রনাট্য আর আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার দর্শকদের প্রেক্ষাগৃহমুখী করতে বড় ভূমিকা
রেখেছে। বর্তমান আয়ের গতিধারা বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, ‘ধুরন্ধর ২’
খুব শীঘ্রই ২ হাজার কোটির মাইলফলক স্পর্শ করার লক্ষ্যে এগোবে। যদি এই ধারা অব্যাহত
থাকে, তবে ভারতীয় চলচ্চিত্রের বক্স অফিস ইতিহাসে এটি এক স্বর্ণালী অধ্যায় হিসেবে
অক্ষয় হয়ে থাকবে। আপাতত দেশজুড়ে ও বিদেশের মাটিতে ‘ধুরন্ধর ২’ এর জয়যাত্রা অব্যাহত
রয়েছে।

























