আফ্রিকার অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় এক বৈপ্লবিক বাণিজ্যিক পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে
গণচীন। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মহাদেশটির ৫৪টি দেশের মধ্যে ৫৩টি দেশ এখন থেকে
চীনের বাজারে কোনো প্রকার শুল্ক ছাড়াই পণ্য রপ্তানি করার সুযোগ পাবে। আগামী দুই
বছরের জন্য কার্যকর থাকা এই বিশেষ সুবিধার আওতায় দক্ষিণ আফ্রিকা, মিশর ও নাইজেরিয়ার
মতো আফ্রিকার শীর্ষ ২০টি শক্তিশালী অর্থনীতিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। শুক্রবার (১ মে)
থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হওয়া এই উদ্যোগকে চীন-আফ্রিকা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য
সম্পর্ক সম্প্রসারণের এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
এমন সময়ে চীন এই উদার বাণিজ্যিক নীতি গ্রহণ করল যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড
ট্রাম্পের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র আমদানির ওপর কর বাড়িয়ে কঠোর সুরক্ষাবাদী নীতির
দিকে ঝুঁকছে। সম্প্রতি ট্রাম্প ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে আমদানিকৃত গাড়ির ওপর ২৫ শতাংশ
শুল্কারোপের ঘোষণা দিয়ে বিশ্ব বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছেন। ঠিক সেই
মুহূর্তে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আফ্রিকার দেশগুলোর জন্য শুল্কমুক্ত
প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করে বিশ্ব বাণিজ্যে নিজের প্রভাব আরও সংহত করার কৌশল নিয়েছেন।
এর আগে চীন আফ্রিকার ৩৩টি অনুন্নত দেশের জন্য শুল্ক তুলে নিলেও এবার মহাদেশের প্রায়
সব দেশকেই এই সুবিধার আওতায় নিয়ে আসা হলো।
আফ্রিকার ৫৪টি রাষ্ট্রের মধ্যে একমাত্র দেশ হিসেবে এই বিশাল শুল্কমুক্ত সুবিধার
বাইরে থাকছে ইসওয়াতিনি। বেইজিংয়ের এই কঠোর অবস্থানের মূল কারণ হলো, ইসওয়াতিনি
আফ্রিকার একমাত্র রাষ্ট্র যারা এখনো তাইওয়ানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ও পূর্ণাঙ্গ
কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে। চীনের ‘এক চীন’ নীতির প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন না
করায় দেশটি এই বিশেষ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হলো। তবে বাকি ৫৩টি দেশ এই চুক্তির ফলে
সরাসরি উপকৃত হবে এবং চীনের বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজারে তাদের রপ্তানি পণ্যের
বাজারজাতকরণ অনেক সহজ ও লাভজনক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নতুন এই নীতি বাস্তবায়নের সুফল এরই মধ্যে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। চীনের রাষ্ট্রীয়
সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ২৪ মেট্রিক টন আপেলের একটি
বিশাল চালান শুক্রবার চীনের শেনঝেন বন্দরে পৌঁছেছে, যা কোনো প্রকার শুল্ক ছাড়াই
প্রথম পণ্য হিসেবে বাজারে প্রবেশের অনুমতি পেয়েছে। কেনিয়ার কফি ও অ্যাভোকাডো এবং
দক্ষিণ আফ্রিকার সাইট্রাস ফল ও ওয়াইনের ওপর আগে ৮ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত উচ্চ শুল্ক
ধার্য ছিল, যা এখন সম্পূর্ণ মওকুফ করা হয়েছে। এ ছাড়া আইভরি কোস্ট ও ঘানার মতো
দেশগুলোও তাদের রপ্তানি পণ্যের ওপর এই বিশাল ছাড় পাওয়ায় দারুণভাবে লাভবান হবে বলে
জানিয়েছে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
চীনের স্টেট কাউন্সিলের শুল্ক কমিশনের মতে, এই উদ্যোগ কেবল বাণিজ্যই বাড়াবে না বরং
চীন ও আফ্রিকার মধ্যকার পারস্পরিক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে এক নতুন উচ্চতায়
নিয়ে যাবে। বিপুল জনসংখ্যার এই মহাদেশ থেকে সস্তায় কাঁচামাল ও খাদ্যপণ্য সংগ্রহের
মাধ্যমে চীন যেমন তার অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাবে, তেমনি আফ্রিকার দেশগুলোও অর্থনৈতিক
স্বনির্ভরতা অর্জনে সক্ষম হবে। বিশ্ব বাণিজ্যের এই নতুন মেরুকরণ ভবিষ্যতে
আন্তর্জাতিক বাজারে পশ্চিমা দেশগুলোর আধিপত্যের প্রতি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে
দাঁড়াবে বলে ধারণা করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।
























