ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা শুরু হয়েছে
এবং প্রাথমিক প্রবণতায় ক্ষমতাসীন বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট বড় ব্যবধানে এগিয়ে
রয়েছে। সোমবার সকাল ৮টায় ভোট গণনা শুরু হওয়ার পর থেকেই জোটটি জয়ের ধারা বজায়
রেখেছে। নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বেলা ১১টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত
রাজ্যের ১২৬টি আসনের মধ্যে ৯৬টিতেই এগিয়ে আছে বিজেপি ও তার মিত্র দলগুলো। এই ফলাফল
বজায় থাকলে রাজ্যে টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করতে যাচ্ছে এনডিএ জোট, যা
বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর জনপ্রিয়তারই প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ‘ইনডিয়া’ জোট বর্তমানে ২৬টি আসনে
এগিয়ে রয়েছে। এ ছাড়া অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (এআইইউডিএফ) এবং
তৃণমূল-আম আদমি পার্টির সমন্বয়ে গঠিত জোটটি মাত্র ২টি আসনে লিড দিচ্ছে। একজন
স্বতন্ত্র প্রার্থীও একটি নির্দিষ্ট আসনে এগিয়ে আছেন। এবারের নির্বাচনে মোট ৭২২ জন
প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন, যার মধ্যে ২৫৮ জনই ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী।
কংগ্রেসের ঐতিহাসিক ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই রাজ্যে বিরোধীরা আপাতত বড় কোনো
চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারছে না বলে প্রাথমিক গণনায় ধারণা করা হচ্ছে।
প্রায় ৩ কোটি ২০ লাখ জনসংখ্যা অধ্যুষিত আসামের ১২৬টি বিধানসভা আসনে গত ৯ এপ্রিল
একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। রাজ্যের মোট ২ কোটি ৪০ লাখ ভোটারের একটি বড় অংশ
অর্থাৎ প্রায় ৪০ শতাংশই মুসলিম সম্প্রদায়ের। সাধারণত মুসলিম ভোটারদের সমর্থন আসামের
রাজনীতিতে বড় সমীকরণ হিসেবে কাজ করলেও এবার উন্নয়ন ও শক্তিশালী শাসনব্যবস্থার ওপরই
বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন সাধারণ ভোটাররা। ৩৫টি জেলাজুড়ে বিস্তৃত এই নির্বাচনী লড়াইয়ে
বিজেপি তাদের অবস্থান আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী করতে সক্ষম হয়েছে বলে পরিসংখ্যান
বলছে।
বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার জন্য এই নির্বাচনটি তাঁর ব্যক্তিগত
রাজনৈতিক কৌশলের একটি বড় পরীক্ষা। এক সময়ের প্রভাবশালী কংগ্রেস নেতা হিমন্ত ২০১৪
সালে দলটির সাথে মতবিরোধের জেরে সরে আসেন এবং ২০১৫ সালে বিজেপিতে যোগ দেন। তাঁর
বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ২০১৬ সালে রাজ্যে বিজেপি প্রথমবার ক্ষমতায় আসে। পরবর্তীতে
মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর আসামের শাসন ব্যবস্থায় তিনি ব্যাপক পরিবর্তন আনেন।
এবারের জয় নিশ্চিত হলে মুখ্যমন্ত্রীর পদে হিমন্ত বিশ্বশর্মার মেয়াদ আরও এক দফা
বৃদ্ধি পাবে এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজনীতিতে তাঁর একক আধিপত্য আরও সুপ্রতিষ্ঠিত
হবে।
আসামের এই নির্বাচনি ফলাফল পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের সাথে অনেকটা
সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে বিজেপি নিরঙ্কুশ আধিপত্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সীমান্তবর্তী
এই রাজ্যে শান্তিপূর্ণ ভোট গণনার জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত জোরদার করা হয়েছে
এবং প্রতিটি কেন্দ্রে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। যদিও চূড়ান্ত ফলাফল
আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হতে সন্ধ্যা পর্যন্ত সময় লাগতে পারে, তবে প্রাথমিক এই বিশাল
ব্যবধান বলছে আসামে ক্ষমতার পরিবর্তনের সম্ভাবনা এখন একেবারেই ক্ষীণ। এখন কেবল
আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মধ্য দিয়ে হিমন্ত বিশ্বশর্মার নতুন যাত্রার অপেক্ষা।
























