ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা লড়াইয়ে ম্যানচেস্টার সিটির পয়েন্ট হারানোর দিনে বড় এক
স্বস্তির নিশ্বাস ফেলল আর্সেনাল। হিল ডিকিনসন স্টেডিয়ামে স্বাগতিক এভারটনের বিপক্ষে
৩-৩ গোলে ড্র করে দুই পয়েন্ট হারিয়েছে পেপ গার্দিওলার দল। হারের মুখ থেকে যোগ করা
সময়ের অন্তিম মুহূর্তে জেরেমি ডকুর গোলে রক্ষা পেলেও, শিরোপা জয়ের সমীকরণ এখন
গানারদের জন্য অনেক সহজ হয়ে গেছে। এই ড্রয়ের ফলে লিগের বাকি তিনটি ম্যাচ জিতলেই
দীর্ঘ ২২ বছরের শিরোপা খরা কাটানোর সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে আর্সেনালের সামনে।
লিগ টেবিলের বর্তমান চিত্র অনুযায়ী, ৩৫ ম্যাচে ৭৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থান আরও মজবুত
করেছে আর্সেনাল। অন্যদিকে, এক ম্যাচ কম খেলা ম্যানচেস্টার সিটির সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে
৭১ পয়েন্টে। গানারদের চেয়ে পাঁচ পয়েন্টে পিছিয়ে থাকা সিটি এখন এক ম্যাচ হাতে পেলেও
আর্সেনালের ওপর চাপ সৃষ্টি করা তাদের জন্য বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এভারটনের এই
অদম্য লড়াই মূলত আর্সেনালকে লিগ জয়ের লড়াইয়ে এক বড় কৌশলগত সুবিধা এনে দিয়েছে। এখন
থেকে নিজেদের হাতে থাকা ম্যাচগুলো জিততে পারলেই চ্যাম্পিয়ন হবে মিকেল আর্তেতার দল।
ম্যাচের শুরুটা ম্যানসিটির জন্য ইতিবাচক ছিল এবং ৪৩ মিনিটে জেরেমি ডকুর অসাধারণ এক
বাঁকানো শটে তারা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায়। তবে দ্বিতীয়ার্ধে দৃশ্যপট
আমূল বদলে দেয় এভারটন। ১৪ মিনিটের এক বিধ্বংসী ঝড়ে তিনবার সিটির জাল কাঁপায়
স্বাগতিকরা। ৬৮ মিনিটে মার্ক গুয়েহির মারাত্মক ভুলের সুযোগ নিয়ে থিয়েরনো বারি সমতা
ফেরান। এরপর ৭৩ মিনিটে জেক ও’ব্রায়ানের শক্তিশালী হেড এবং ৮১ মিনিটে বারির
ব্যক্তিগত দ্বিতীয় গোলে ৩-১ ব্যবধানে লিড নিয়ে সিটিকে পরাজয়ের মুখে ঠেলে দেয়
এভারটন।
দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর মরিয়া হয়ে আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ে ম্যানচেস্টার সিটি। দলের
প্রধান তারকা আর্লিং হালান্ড দ্রুত একটি গোল শোধ করে ব্যবধান ৩-২ এ কমিয়ে এনে
ম্যাচের উত্তেজনা বাড়িয়ে দেন। যখন মনে হচ্ছিল এভারটন কোচ ডেভিড ময়েস প্রথমবারের মতো
গার্দিওলার বিপক্ষে জয়ের স্বাদ পেতে যাচ্ছেন, ঠিক তখনই ত্রাতা হয়ে আসেন ডকু। যোগ
করা সময়ের একেবারে শেষ মিনিটে ব্যক্তিগত দ্বিতীয় গোলটি করে সিটির হার এড়ান এই
বেলজিয়ান ফরোয়ার্ড। নাটকীয় এই ড্রয়ে ১ পয়েন্ট পেলেও মাঠ ছাড়ার সময় সিটিজেনদের
চোখেমুখে ছিল হতাশার ছাপ।
সামগ্রিকভাবে, সিটির রক্ষণভাগের দুর্বলতা এবং মার্ক গুয়েহির মতো নির্ভরযোগ্য
ডিফেন্ডারের ভুল এই ম্যাচে বড় পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। এভারটনের বিপক্ষে এই হোঁচট
ম্যানসিটির শিরোপা ধরে রাখার মিশনে এক বিশাল বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অন্যদিকে আর্সেনাল এখন অনেকখানি নির্ভার হয়ে তাদের পরবর্তী ম্যাচগুলোর পরিকল্পনা
সাজাতে পারবে। ফুটবল বিশ্বের সব নজর এখন প্রিমিয়ার লিগের শেষ কয়েকটা ম্যাচের দিকে,
যেখানে সামান্যতম ভুলও ট্রফি জয়ের স্বপ্ন ভেঙে দিতে পারে। মূলত এভারটনের এই সাহসী
পারফরম্যান্সই লিগের শিরোপা লড়াইকে এক নতুন মোড় দিয়েছে।

























