কেরালার রাজনীতিতে ৪৬ বছরের অজেয় দুর্গের পতন ঘটিয়ে ইতিহাস রচনা করেছেন ইন্ডিয়ান
ইউনিয়ন মুসলিম লিগের (আইইউএমএল) তরুণ নেত্রী ফাতেমা তাহলিয়া। সোমবার (৪ মে) ঘোষিত
ফলাফলে দেখা যায়, কোজিকোড জেলার পেরাম্বরা আসনে তিনি ক্ষমতাসীন এলডিএফ জোটের
কনভেনার ও হেভিওয়েট নেতা টি পি রামকৃষ্ণানকে বিপুল ব্যবধানে পরাজিত করেছেন।
এই জয়ের মাধ্যমে তাহলিয়া কেবল নিজের দলের প্রথম নারী বিধায়ক হওয়ার গৌরবই অর্জন
করেননি, বরং ১৯৮০ সাল থেকে সিপিআইএমের একচ্ছত্র আধিপত্য থাকা এই আসনে হানা দিয়ে
‘জায়ান্ট কিলার’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। পেশায় আইনজীবী ও হিজাব পরিহিত এই লড়াকু
তরুণীর বিজয়কে কেরালার রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বামপন্থিদের জন্য এক বড় ধরনের ধাক্কা
হিসেবে দেখছেন।
ফাতেমা তাহলিয়ার এই জয়ের পথটি মোটেও মসৃণ ছিল না। নির্বাচনি প্রচারণার সময় তার
বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক প্রচারণার অভিযোগ উঠেছিল, যার পরিপ্রেক্ষিতে কংগ্রেসের
নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ জোট নির্বাচন কমিশনে নালিশও করেছিল। তবে সব প্রতিকূলতা মাড়িয়ে
সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে নিজের গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণ করেছেন তিনি।
ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির মাঠে সক্রিয় তাহলিয়া আইইউএমএলের ছাত্র সংগঠন এমএসএফের
নারী শাখা ‘হারিতার‘ প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। দলীয় নেতৃত্বের ভেতর নারী অধিকার ও
লিঙ্গ সমতা নিয়ে সাহসী কথা বলে বিভিন্ন সময় আলোচনায় আসা এই তরুণী এখন কেরালা
বিধানসভায় আইইউএমএলের নারী প্রতিনিধিত্বের প্রতীকে পরিণত হয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, পেরাম্বরার সাধারণ মানুষ প্রথাগত রাজনীতির বাইরে একজন শিক্ষিত,
আধুনিক ও প্রতিবাদী তরুণীকে বেছে নিয়ে কেরালার ক্ষমতার ভারসাম্যে এক নতুন সমীকরণ
তৈরি করেছে।























