ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমার জুনিয়রকে ঘিরে ফুটবল বিশ্বে আবারও নতুন গুঞ্জনের
ডালপালা মেলেছে। বর্তমানে ব্রাজিলের ক্লাব সান্তোসে খেলা এই তারকা ফুটবলার সম্প্রতি
আর্জেন্টিনা সফরে গেলে সেখানে তাঁর বোকা জুনিয়র্সে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে জোর
আলোচনা শুরু হয়েছে। কোপা সুদামেরিকানায় সান লরেঞ্জোর বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে নেইমার
বুয়েনস এইরেসে গিয়েছিলেন, কিন্তু মাঠের খেলার চেয়েও তাঁর ক্লাবের বাইরের
কার্যক্রম সমর্থকদের বিশেষ নজর কেড়েছে।
আর্জেন্টিনায় অবস্থানকালে নেইমার বোকা জুনিয়র্সের ঐতিহাসিক স্টেডিয়াম ‘লা
বোম্বোনেরা’ এবং ক্লাবের ট্রেনিং কমপ্লেক্স ‘কাসা আমারিয়া’ পরিদর্শন করেন। সেখানে
তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান ক্লাবের শীর্ষ কর্মকর্তারা। বিশেষ করে বোকা জুনিয়র্সের
প্রেসিডেন্ট এবং ফুটবল কিংবদন্তি হোয়ান রোমান রিকুয়েলমের সাথে তাঁর সাক্ষাৎ আলাদা
মাত্রা যোগ করেছে। রিকুয়েলমে নেইমারকে ক্লাবের ঐতিহ্যবাহী নীল-হলুদ জার্সি উপহার
দেন, যার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক
উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
নেইমারকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই উন্মাদনা প্রশমিত করতে বোকা জুনিয়র্স কর্তৃপক্ষ একে
নিছক একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবে অভিহিত করেছে। ক্লাব সূত্র জানিয়েছে, নেইমারের
ট্রান্সফার বা দলবদল নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব বা আলোচনা এখনো হয়নি। তবে
সমর্থকদের মতে, দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবলে নিজেদের হারানো আধিপত্য পুনরুদ্ধারে বোকা
জুনিয়র্স যে বড় পরিকল্পনা করছে, তাতে নেইমারের মতো বিশ্বসেরা তারকাকে অন্তর্ভুক্ত
করার বিষয়টি মোটেও অসম্ভব নয়।
এই জল্পনার পেছনে নেইমারের ঘনিষ্ঠ ফুটবলারদের ভূমিকাও বেশ জোরালো বলে মনে করা
হচ্ছে। নেইমারের পিএসজি সতীর্থ ও আর্জেন্টিনা মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস
ইতিপূর্বে নেইমারের সাথে আবারও একই ক্লাবে খেলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। এছাড়া এই
সফরকালে নেইমারের সাথে আন্দ্রে হেরেরার সাক্ষাৎ এবং লা বোম্বোনেরার পরিবেশের প্রতি
নেইমারের ব্যক্তিগত মুগ্ধতা আলোচনার পালে হাওয়া দিয়েছে। বোকা সমর্থকরা সামাজিক
মাধ্যমে নেইমারকে বরণ করে নেওয়ার দাবি তুলছেন।
বোকা জুনিয়র্স কেবল নেইমারকেই নয়, বরং দলবদলের বাজারে পাওলো দিবালার মতো বড়
তারকাদের দিকেও নজর রাখছে বলে শোনা যাচ্ছে। ক্লাবটির মূল লক্ষ্য হলো শক্তিশালী
স্কোয়াড গঠনের মাধ্যমে আবারও কোপা লিবার্তোদোরেস জয় করে দক্ষিণ আমেরিকার সেরা হওয়া।
নেইমার বা দিবালার মতো তারকারা যদি শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টাইন এই ক্লাবটিতে যোগ দেন,
তবে তা দক্ষিণ আমেরিকান ক্লাব ফুটবলে এক নতুন বাণিজ্যিক ও ক্রীড়া যুগের সূচনা করবে
বলে ধারণা করা হচ্ছে।

























