গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলা-এ গরু চুরি সন্দেহে গণপিটুনিতে তিনজন নিহতের ঘটনায়
দায়ের হওয়া হত্যা মামলাকে কেন্দ্র করে কয়েকটি গ্রামে গ্রেপ্তার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, গরু চুরি ঠেকাতে রাত জেগে পাহারা দিতে গিয়ে এখন তারা নতুন করে
হয়রানির আশঙ্কায় রয়েছেন।
নিহতরা হলেন ঢাকার মিরপুর-এর সেলিম হোসেন (৩৮), গাজীপুরের শ্রীপুর-এর আজাহারুল
ইসলাম (৩৫) এবং সিলেটের সিলেট সদর-এর কৃষ্ণ কান্ত (৪৬)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এলাকায় গরু চুরির ঘটনা
বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয়রা রাত জেগে পাহারা দিচ্ছিলেন। শনিবার গভীর রাতে ১০ থেকে ১২
সদস্যের একটি দল একটি পিকআপ ভ্যানে করে উপজেলার বাগচালা এলাকায় প্রবেশ করলে
স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে ধাওয়া দিয়ে তিনজনকে আটক করা হয় এবং গণপিটুনির ঘটনা ঘটে।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গুরুতর আহত তিনজনকে উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ
মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর কালিয়াকৈর থানা-র অধীন ফুলবাড়িয়া পুলিশ ক্যাম্প-এর ইনচার্জ বাদী হয়ে
অজ্ঞাত ২০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকেই স্থানীয়দের মধ্যে গ্রেপ্তার
আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করছেন, প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হোক,
তবে নিরীহ গ্রামবাসী যেন হয়রানির শিকার না হন।
স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারাও একই দাবি জানিয়ে বলেছেন, আইনের প্রয়োগে যেন নিরপরাধ কেউ
ক্ষতিগ্রস্ত না হন।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, নিহতদের মরদেহ
ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে। তদন্ত
শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে জনগণকে আইন নিজের হাতে তুলে না
নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

























