Ajker Digonto
বৃহস্পতিবার , ৭ জুন ২০১৮ | ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. অর্থনীতি
  4. আইন- আদালত
  5. আইন-আদালত
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আলোচিত মামলা
  8. খুলনা
  9. খেলা
  10. খেলাধুলা
  11. চট্টগ্রাম
  12. চট্টগ্রাম বিভাগ
  13. জাতীয়
  14. ঢাকা
  15. তথ্য প্রযুক্তি

ভারতীয় কৃষকদের আত্মহত্যার নেপথ্যে কী

প্রতিবেদক
Staff Reporter
জুন ৭, ২০১৮ ৯:৪৩ অপরাহ্ণ

সারা বিশ্বেই কৃষকরা বিপন্ন। তবে ভারতীয় কৃষকদের বিপন্নতা বর্ণনাতীত। ক্ষুদ্র কৃষকেরা সেখানে বাস করছেন দুর্যোগের কিনারায়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তীব্র খড়া, বিপুল পরিমাণ ঋণের বোঝা, করপোরেট বাজার ব্যবস্থার উৎপাদন প্রক্রিয়ার সঙ্গে টিকতে না পারায় আত্মহত্যাই সেখানকার কৃষকদের নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন পরিসংখ্যান ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কৃষকদের আত্মহত্যার নেপথ্যে প্রধান কারণ  ঋণের বোঝা। বিশ্লেষকরা বলছেন, সুরক্ষার প্রশ্নে কার্যকর নীতি-পরিকল্পনার অভাব থাকার কারণেই সেখানে ক্রমাগত ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন কৃষকরা। তাদের মতে, দশকের পর দশক ধরে ঋণের বোঝা থাকা, খরা ও আয় কমে যাওয়া ভারতের গ্রামাঞ্চলে কঠোর প্রভাব ফেলেছে। এছাড়া ভারতীয় কৃষির ভবিষ্যতকেও ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।

২০১১ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে আত্মহত্যা করেছেন ৬ হাজার ৭১ জন কৃষক। ২০১৩ সাল থেকে আত্মহত্যার হার বেড়েছে ২১ শতাংশ। পাঞ্জাব কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০০০ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত শুধু পাঞ্জাব রাজ্যেই ১৬ হাজার ৬০০ কৃষক আত্মহত্যা করেছেন। অর্থাৎ বছরে প্রায় এক হাজার কৃষক নিজেদের প্রাণ দিয়েছেন। কিন্তু এনসিআরবি’র তথ্য মতে, সেখানে বছরে তিনশ’র কম কৃষক আত্মহত্যা করেছেন।

আলজাজিরার সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন অনুযায়ী,  ঋণ শোধ করতে না পারায় পাওনাদারদের হাতে অপমান-লাঞ্ছনার পাশাপাশি অভাব সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন ভারতের কৃষকরা। ইকোনমিক ও পলিটিক্যাল উইকলি নামের সাময়িকী গত মে মাসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সরকারের উদ্যোগে সম্পন্ন হওয়া পাঞ্জাবভিত্তিক এক গবেষণা প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হয়েছে। ওই গবেষণায় দেখা গেছে, ঋণের বোঝাই সেখানকার ৭৫ শতাংশ কৃষকের আত্মহত্যার নেপথ্য কারণ।

বিক্ষোভের আয়োজক সংগঠন রাষ্ট্রীয় কিষাণ মহাসংঘের জাতীয় সমন্বয়ক অভিমন্যু কোহার আল-জাজিরাকে বলেছেন, এটি তাদের অস্তিত্বের লড়াই। তিনি বলেন, ‘আমাদের ঋণ থেকে মুক্তি দরকার। আমরা ভিক্ষা চাইছি না, আমরা অপরাধী নই। নিজেদের ব্যর্থতার কারণে কৃষকরা আজ ঋণে জর্জড়িত নয়, সরকারের ত্রুটিপূর্ণ নীতির কারণেই তাদের এই অবস্থা হয়েছে’।

কৃষক ফেডারেশনের পরিসংখ্যান বলছে, ভারতের ৯৪ শতাংশ কৃষক উৎপাদিত পন্য নূন্যতম সহায়ক মূল্যের (এমএসপি) চেয়ে কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হন। হরিয়ানার সোনেপাত এলাকার বাসিন্দা কোহার আল জাজিরাকে বলেন, গম, তুলা, সরিষা অথবা দুধ, সবকিছুরই উৎপাদন খরচ বাড়ছে। কিন্তু কৃষকদের নিশ্চয়তা মূল্যের চেয়ে কম দামে পণ্য বিক্রি করতে হয়। তিনি আরও বলেন, এই কারণেই ভারতীয় কৃষকরা অর্থ ধার করছে আর বিশাল দেনার দায়ে জেল পর্যন্ত খাটছেন।

কৃষকদের পরামর্শক সংগঠন আশা’র কভিথা কারুঙ্গতি বলেন, এটা টেকসই কৃষির অভাব ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, যার ফলে কৃষকরা সবসময় ঋণের আওতায় থাকছেন। তিনি আরও বলেন, যখন আয় কমে যাওয়া ও ফসলহানির মতো বিষয়গুলো একসঙ্গে ঘটে তখন পুরো পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কৃষকের জন্য কঠিন হয়ে ওঠে। ঋণদাতাদের অর্থ ফেরতের জন্য অব্যাহত চাপের পাশাপাশি অনেক সময় তাদের হাতে কৃষককে অপমান হতে হয়। এমনকি সম্পদ কেড়ে নেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটে। এসব কারণে ভারতে কৃষকরা প্রায়ই আত্মহত্যা করেন। উল্লেখ্য, সরকারি হিসাব মতেই, ভারতের ৫২ শতাংশ কৃষক পরিবার ঋণগ্রস্ত।

সর্বশেষ - অন্যান্য