দীর্ঘ এক বছরের বিরতি কাটিয়ে ছোট পর্দায় সগৌরবে ফিরেছেন পাকিস্তানের জনপ্রিয়
অভিনেত্রী হানিয়া আমির। তার প্রত্যাবর্তনের মাধ্যম হিসেবে বেছে নেওয়া ‘মেরি
জিন্দেগি হ্যায় তু’ ধারাবাহিকটি ইতিমধ্যে দর্শকদের মাঝে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
এই ধারাবাহিকে হানিয়ার বিপরীতে প্রথমবারের মতো অভিনয় করেছেন দর্শকপ্রিয় অভিনেতা
বিলাল আব্বাস খান। আইরা ও কাময়ার চরিত্রে এই নতুন জুটির অনবদ্য রসায়ন দর্শকদের
মুগ্ধ করেছে, যার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনাগুলোতে।
২০২৫ সালের ৭ নভেম্বর এআরআই ডিজিটালে যাত্রা শুরু করা এই সিরিয়ালটি অল্প সময়েই
সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছেছে। ইউটিউবে এর প্রতিটি পর্ব কোটির বেশি ভিউ পাচ্ছে এবং চলতি
বছরের জানুয়ারির শুরুতেই এটি ৬০০ মিলিয়ন ভিউ অতিক্রমের মাইলফলক স্পর্শ করেছে।
সিরিয়ালটির জনপ্রিয়তা কেবল পাকিস্তানের সীমানায় সীমাবদ্ধ নেই, বরং ভারত ও
বাংলাদেশের দর্শকদের মধ্যেও এর আবেদন প্রবলভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রেম, বিশ্বাস,
ভুল–বোঝাবুঝি এবং আবেগের জটিল সমীকরণ নিয়ে আবর্তিত এই গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র
কাময়ার ও আইরার সম্পর্কের টানাপোড়েন দর্শকদের মানসিকভাবে আবিষ্ট করে রেখেছে।
সিক্স সিগমা প্লাসের প্রযোজনায় এবং মুসাদ্দিক মালেকের পরিচালনায় নির্মিত এই
ধারাবাহিকের টাইটেল গানটিও বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রেন্ডিংয়ে রয়েছে।
নেটিজেনরা হানিয়া ও বিলালের অনস্ক্রিন রসায়নের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেও কিছু ক্ষেত্রে
নেতিবাচক আলোচনাও রয়েছে। দর্শকদের একাংশের মতে, গল্পের গতি কিছুটা ধীর এবং অতিরিক্ত
ফ্ল্যাশব্যাক ব্যবহারের কারণে চিত্রনাট্য আরও ঝরঝরে হওয়ার সুযোগ ছিল।
হানিয়া আমির কেবল ছোট পর্দাতেই নয়, বড় পর্দাতেও নিজের সাফল্যের ছাপ রেখে চলেছেন। গত
বছরের মাঝামাঝিতে ‘সর্দার জি ৩’ সিনেমার মাধ্যমে তাঁর বলিউডে অভিষেক ঘটে। উল্লেখ্য
যে, ২০১৬ সালে ‘জনান’ চলচ্চিত্র দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করা হানিয়া গত এক দশকে ‘মেরে
হামসাফার’, ‘ফেইরি টেল’, ‘দিলরুবা’ ও ‘আনা’র মতো জনপ্রিয় ধারাবাহিকে অভিনয় করে
নিজেকে পাকিস্তানের প্রথম সারির অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এক বছরের
বিরতি শেষে তাঁর এই দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন ভক্তদের মাঝে নতুন উন্মাদনা সৃষ্টি
করেছে।

























