রিয়াল মাদ্রিদের ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রদ্রিগো গোয়েস বর্তমানে ক্যারিয়ারের অন্যতম
কঠিন এক সময় পার করছেন। রেফারিকে কটূক্তির দায়ে উয়েফা কর্তৃক চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দুই
ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পাওয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার চোটের কবলে পড়েছেন এই ২৫ বছর
বয়সী তারকা। ডান পায়ের হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে তাঁকে অন্তত ১০ দিনের জন্য মাঠের
বাইরে থাকতে হবে। প্লে-অফে বেনফিকার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ দুই ম্যাচে এমনিতেও
নিষেধাজ্ঞার কারণে তিনি মাঠে থাকতে পারছেন না, তার ওপর এই আকস্মিক চোট লস ব্লাঙ্কোস
শিবিরের দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের আসন্ন প্লে-অফ ম্যাচে লিসবনে বেনফিকার বিপক্ষে রদ্রিগোর অভাব
নিশ্চিতভাবেই অনুভব করবে রিয়াল। উয়েফার দেওয়া শাস্তির ফলে হোম ও অ্যাওয়ে—উভয়
ম্যাচেই তিনি সাইডলাইনে থাকবেন। এই নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে রদ্রিগো সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ম্যাচের উত্তেজনায় সময়
নষ্ট হওয়া নিয়ে অভিযোগ করতে গিয়ে তিনি মেজাজ হারিয়ে ফেলেছিলেন, যা তাঁর স্বভাবজাত
আচরণের পরিপন্থি। এই ভুলের জন্য ক্লাব, সতীর্থ এবং কোচদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে
তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, রিয়াল মাদ্রিদ আবারও ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াইয়ে ফিরবে। তবে
এই চোটের কারণে লা লিগার গুরুত্বপূর্ণ দুটি ম্যাচেও তাঁকে পাচ্ছে না স্প্যানিশ
জায়ান্টরা।
রিয়ালের বর্তমান পরিস্থিতিকে মরার ওপর খাঁড়ার ঘা বললেও ভুল হবে না। কারণ রদ্রিগোর
বাইরেও চোট ও নিষেধাজ্ঞার তালিকাটি বেশ দীর্ঘ। কার্ড জটিলতার কারণে তরুণ ডিফেন্ডার
রাউল অ্যাসেন্সিও এবং ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকেও পরবর্তী কিছু ম্যাচে মাঠের বাইরে কাটাতে
হবে। এছাড়া ইংলিশ মিডফিল্ডার জুড বেলিংহ্যামও হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে ভুগছেন। আগে
থেকেই চোটাক্রান্তের তালিকায় রয়েছেন ট্রেন্ট আলেক্সান্ডার-আরনল্ড, অ্যান্তনিও
রুডিগার এবং ফার্লে মেন্দি। প্রধান খেলোয়াড়দের এমন অনুপস্থিতি নতুন কোচ আলভারো
আরবেলোয়ার জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মৌসুমের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রিয়াল মাদ্রিদকে একই সঙ্গে মাঠের পারফরম্যান্স ও
প্রশাসনিক জটিলতা সামলাতে হচ্ছে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের লিগপর্বের শেষ ম্যাচে বেনফিকার
কাছে ৪-২ ব্যবধানে হেরে সরাসরি শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে তারা,
ফলে খেলতে হচ্ছে প্লে-অফ। ঘরোয়া লিগেও চলছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই; পয়েন্ট টেবিলে
শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার চেয়ে মাত্র ১ পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছে তারা। এমন এক সন্ধিক্ষণে
আরবেলোয়া কীভাবে তাঁর ভঙ্গুর রক্ষণভাগ ও আক্রমণভাগ সাজিয়ে বার্সেলোনার ওপর চাপ বজায়
রাখেন এবং ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় টিকে থাকেন, এখন সেটিই দেখার বিষয়। মূলত
গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের চোট ও নিষেধাজ্ঞার এই পাহাড় টপকানোই এখন রিয়ালের প্রধান
লক্ষ্য।
























