২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের চূড়ান্ত প্রস্তুতি ও খেলোয়াড় যাচাই-বাছাইয়ের অন্তিম লগ্নে
এসে বড় ধরনের চমক দেখালেন ব্রাজিল জাতীয় দলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি। আগামী মার্চ
মাসে অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক ফিফা উইন্ডোর প্রীতি ম্যাচগুলোর জন্য ২৬ সদস্যের
শক্তিশালী সেলেসাও স্কোয়াড ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এই তালিকায় সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়
হয়ে দাঁড়িয়েছে সুপারস্টার নেইমার জুনিয়রের অনুপস্থিতি। প্রাথমিক তালিকায় নাম থাকায়
ফুটবল বিশ্বে গুঞ্জন উঠেছিল যে, অবশেষে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে ফিরছেন এই ফরোয়ার্ড।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে ছাড়াই দল সাজিয়েছেন আনচেলত্তি, যা নেইমার ভক্তদের জন্য এক
বড় হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঘোষিত এই স্কোয়াড নিয়ে ব্রাজিলের পরবর্তী গন্তব্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সেখানে
আগামী ২৬ মার্চ বোস্টনে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে সেলেসাওরা। এর
মাত্র পাঁচ দিন পর, অর্থাৎ ৩১ মার্চ অরল্যান্ডোতে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে আরেকটি কঠিন
লড়াইয়ে নামবে আনচেলত্তির শিষ্যরা। নেইমারকে বাদ দিলেও এই দলে তরুণ তুর্কি
এন্ড্রিকের প্রত্যাবর্তন দলের আক্রমণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। রিয়াল মাদ্রিদের
সাবেক শিষ্য এন্ড্রিককে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবার জাতীয় দলে ডাকলেন আনচেলত্তি।
এন্ড্রিকের পাশাপাশি এবারই প্রথম সেলেসাও জার্সিতে সুযোগ পেয়েছেন ফ্ল্যামেঙ্গোর লিও
পেরেইরা, গালাতাসারেইয়ের গ্যাব্রিয়েল সারা, ব্রেন্টফোর্ডের ইগর থিয়াগো এবং তরুণ
প্রতিভা রায়ান। এছাড়া রক্ষণে অভিজ্ঞতা বাড়াতে আবারও ফেরানো হয়েছে দানিলো ও
ইবানেজকে।
দলে নেইমারের অনুপস্থিতি এবং ইনজুরি আক্রান্ত খেলোয়াড়দের নিয়ে মুখ খুলেছেন কার্লো
আনচেলত্তি। স্কোয়াড ঘোষণার পর তিনি জানিয়েছেন যে, খেলোয়াড়দের বর্তমান ফিটনেসকেই
তিনি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। রিয়াল মাদ্রিদ তারকা রদ্রিগো গোয়েস ইনজুরির
কারণে বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন থেকে ছিটকে যাওয়ায় তিনি দলে নেই। এছাড়া এডার মিলিটাও,
ব্রিনো গুইমারেস ও এস্তেভাওয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়রাও চোটের কারণে স্কোয়াডের
বাইরে রয়েছেন। আনচেলত্তি বলেন, অল্প সময়ের ব্যবধানে দীর্ঘ ভ্রমণ এবং উচ্চশক্তির
ম্যাচ খেলার জন্য যারা শতভাগ ফিট আছেন, কেবল তাদেরই বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। নেইমারের
বিষয়ে তিনি সরাসরি মন্তব্য না করলেও ধারণা করা হচ্ছে, ফিটনেস জটিলতা ও সাম্প্রতিক
সময়ে সান্তোসের হয়ে একটি ম্যাচ মিস করায় তাকে নিয়ে ঝুঁকি নেননি কোচ।
নতুন এবং পুরোনো খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে গড়া এই দলে গোলরক্ষক হিসেবে রয়েছেন অভিজ্ঞ
অ্যালিসন বেকার, এডারসন এবং বেন্তো। রক্ষণভাগে অ্যালেক্স সান্দ্রো, ব্রেমার,
দানিলো, ডগলাস সান্তোস, গ্যাব্রিয়েল মাগালায়েস, ইবানেজ, লিও পেরেইরা, মার্কিনিয়োস
এবং ওয়েসলিকে রাখা হয়েছে। মাঝমাঠ সামলানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ক্যাসেমিরো,
ফ্যাবিনিয়ো, অ্যান্দ্রে সান্তোস এবং গ্যাব্রিয়েল সারার মতো তারকাদের। অন্যদিকে
আক্রমণভাগে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রাফিনহা ও এন্ড্রিকের সঙ্গে থাকছেন গ্যাব্রিয়েল
মার্টিনেল্লি, ইগর থিয়াগো, জোয়াও পেদ্রো, লুইজ হেনরিক, ম্যাথিউস কুনহা এবং রায়ান।
আন্তর্জাতিক ফুটবল বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নেইমারকে ছাড়াই ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার মতো
শক্তিশালী দলের বিপক্ষে এই পরীক্ষা আনচেলত্তির জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে
বিশ্বকাপের আগে দলের মূল কাঠামো দাঁড় করাতে এই দুটি প্রীতি ম্যাচকে অগ্নিপরীক্ষা
হিসেবে দেখছেন সেলেসাও কোচ। নতুন চার মুখ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নিজেদের কতটুকু
মানিয়ে নিতে পারে এবং এন্ড্রিকের ফেরা ব্রাজিলের গোলখরা কাটাতে পারে কি না, সেটিই
এখন দেখার বিষয়। সব মিলিয়ে নেইমারহীন এই ব্রাজিল দল বিশ্ব ফুটবলের দুই পরাশক্তির
বিপক্ষে কেমন প্রতিরোধ গড়ে তোলে, তা নিয়ে ফুটবল দুনিয়ায় শুরু হয়েছে ব্যাপক
বিশ্লেষণ।

























