মধ্য আফ্রিকার দেশ ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে (ডি আর কঙ্গো) ৫০ বেসামরিক
ব্যক্তিকে হত্যা করেছে একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠী। সন্দেহভাজন এডিএফ বিদ্রোহীদের ভয়াবহ
হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছেন বলে শনিবার (২১ মার্চ) স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো
নিশ্চিত করেছে।
রেডিও ওকাপি জানিয়েছে, গত ৯ থেকে ১৫ মার্চের মধ্যে ইতুর প্রদেশের মাম্বাসা অঞ্চলের
মুচাচা ও বাবেসুয়া এলাকায় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে যে, মুচাচা স্বর্ণ খনি
এলাকায় ৩৫ জন এবং বাবেসুয়া এলাকায় ১৫ জন বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করা হয়েছে। কয়েক
বছর ধরে কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে সক্রিয় এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন
আইএস বা দায়েশ-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে জানা গেছে।
হামলার শিকার এলাকাগুলোতে বিদ্রোহীরা কেবল হত্যাকাণ্ডই চালায়নি, বরং ব্যাপক লুটপাট
ও অগ্নিসংযোগও করেছে। তারা অসংখ্য ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে এবং সাধারণ মানুষের
মূল্যবান সম্পদ ছিনিয়ে নিয়েছে।
এই সহিংসতার ফলে ৪ নম্বর জাতীয় সড়ক সংলগ্ন এলাকাগুলো থেকে কয়েক ডজন পরিবার
বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়েছে। ২০২১ সাল থেকে উগান্ডা ও কঙ্গোর সরকারি বাহিনী এই এডিএফ
বিদ্রোহীদের দমনে যৌথ অভিযান পরিচালনা করলেও এখন পর্যন্ত সেখানে পূর্ণ শান্তি ফিরে
আসেনি। খনি সমৃদ্ধ এই অঞ্চলে বিদ্রোহীদের ক্রমাগত হামলা দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা ও
অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কঙ্গোর সুশীল সমাজ বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ইতুরি প্রদেশের নিরাপত্তা ও
মানবিক সংকটকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছে।
তারা দ্রুত রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবি তুলেছেন যাতে সাধারণ মানুষের
জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।
চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে কঙ্গো সরকার পূর্বাঞ্চলের খনি এলাকাগুলোতে এই ধরনের
প্রাণঘাতী হামলার তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেছে। তবে মাঠপর্যায়ে বিদ্রোহীদের দমনে আরও
কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয়কারী দফতর (ওসিএইচএ) গত ১৩ মার্চ এক বিবৃতিতে ইতুরি
প্রদেশের অব্যাহত সহিংসতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে যে,
ইতুরিতে ঘরবাড়ি হারানো মানুষের আশ্রয় শিবিরগুলোতে উপচে পড়া ভিড় তৈরি হচ্ছে এবং
সেখানে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে।
ক্রমবর্ধমান এই বিশৃঙ্খলার ফলে ওই অঞ্চলে এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় নেমে আসার আশঙ্কা
করা হচ্ছে। বিদ্রোহীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ না হলে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা আরও
বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
























