২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের মহাযজ্ঞ শুরু হতে হাতে বাকি আর মাত্র ৭২ দিন। এমন এক
সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে বড় ধরনের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঘানা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন
(জিএফএ)। টানা হারের বৃত্ত থেকে বের হতে না পারায় জাতীয় দলের প্রধান কোচ অটো
আদ্দোকে আনুষ্ঠানিকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। গতকাল রাতে জার্মানির বিপক্ষে
আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে ২-১ গোলে পরাজয়ের কিছুক্ষণ পরই তাঁকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে
দেওয়ার ঘোষণা আসে। বিশ্বকাপের ঠিক আগমুহূর্তে প্রধান কোচের এই প্রস্থান দলটিকে এক
চরম অনিশ্চয়তা ও নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
জার্মানির বিপক্ষে সেই প্রীতি ম্যাচে অবশ্য ঘানা বেশ লড়াকু ফুটবল উপহার দিয়েছিল।
ম্যাচের ৮৮ মিনিট পর্যন্ত ১-১ গোলে সমতা বজায় থাকলেও শেষ মুহূর্তের এক গোলে পরাজয়
নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় আফ্রিকান এই দেশটিকে। তবে কেবল জার্মানির কাছে এই হারই আদ্দোর
বিদায়ের একমাত্র কারণ নয়। সাম্প্রতিক সময়ে ঘানার পারফরম্যান্স ছিল অত্যন্ত
হতাশাজনক। বর্তমান আন্তর্জাতিক বিরতির প্রথম ম্যাচে তারা অস্ট্রিয়ার কাছে ৫-১ গোলে
বিধ্বস্ত হয়েছিল। এর আগে গত নভেম্বরে এশিয়ান পরাশক্তি জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার কাছেও
হার মেনেছিল দলটি। টানা চারটি আন্তর্জাতিক ম্যাচে হারের গ্লানিই মূলত ৫০ বছর বয়সী
এই কোচের বিদায় ঘণ্টা বাজিয়ে দিয়েছে।
ঘানা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে অটো আদ্দোকে তাঁর দীর্ঘকালীন
অবদানের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছে এবং তাঁর ভবিষ্যৎ পথচলার জন্য শুভকামনা প্রকাশ
করেছে। একই সঙ্গে সংস্থাটি জানিয়েছে যে, ব্ল্যাক স্টারস বা ঘানা জাতীয় দলের পরবর্তী
টেকনিক্যাল পরিকল্পনা এবং নতুন কোচের নাম যথাসময়ে ভক্তদের জানানো হবে। অটো আদ্দো
ঘানা ফুটবলের এক পরিচিত মুখ। তিনি ২০২৪ সালের মার্চে দ্বিতীয় মেয়াদে দলের দায়িত্ব
গ্রহণ করেছিলেন। এর আগে ২০২২ সালের বিশ্বকাপেও তাঁর অধীনে ঘানা লড়েছিল। খেলোয়াড় এবং
কোচ—উভয় পরিচয়ে ঘানাকে বিশ্বকাপে প্রতিনিধিত্ব করার এক অনন্য ইতিহাস গড়েছিলেন তিনি।
তাঁর অধীনেই ঘানা এবারের বিশ্বকাপের টিকিট কাটতে সক্ষম হয়েছিল।
এবারের বিশ্বকাপে ঘানা ‘এল’ গ্রুপে স্থান পেয়েছে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে
রয়েছে ইংল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া ও পানামার মতো শক্তিশালী দলগুলো। আগামী ১৭ জুন
টরন্টোতে পানামার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ঘানার বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
তবে সেই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ডাগআউটে অটো আদ্দোকে আর দেখা যাবে না। বিশ্বকাপের এমন
শেষ মুহূর্তে এসে কোচ পরিবর্তন দলের ওপর কেমন প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে এখন ফুটবল
বিশ্বে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। ঘানা এখন নতুন এক নেতৃত্বের সন্ধানে রয়েছে, যার হাত
ধরে তারা বিশ্বমঞ্চে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছে।
























