ইউরোপ সেরার লড়াই উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আরও একটি স্মরণীয় রাত উপহার দিল
প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। লিভারপুলের ঘরের মাঠ অ্যানফিল্ডে উসমান দেম্বেলের
বিধ্বংসী জোড়া গোলে স্বাগতিকদের স্বপ্ন চুরমার করে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত
করেছে ফরাসি জায়ান্টরা। কোয়ার্টার ফাইনালের ফিরতি লেগের এই ম্যাচে ২-০ ব্যবধানে
জিতে দুই লেগ মিলিয়ে ৪-০ অগ্রগামিতায় শেষ চারে পা রাখল লুইস এনরিকের শিষ্যরা।
বিপরীতে, নিজেদের চেনা মাঠে ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখতে চেয়েও ব্যর্থতার
গ্লানি নিয়ে বিদায় নিতে হলো ছয়বারের ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন লিভারপুলকে।
ম্যাচের প্রেক্ষাপট ছিল লিভারপুলের জন্য বেশ কঠিন। গত সপ্তাহে প্যারিসে প্রথম লেগের
ম্যাচে ২-০ গোলে হেরে ব্যাকফুটে ছিল অলরেডরা। তাসত্ত্বেও অ্যানফিল্ডের গ্যালারি ভরা
দর্শকদের উন্মাদনা আশা জাগিয়েছিল যে, হয়তো আরও একবার কোনো মিরাকল বা অলৌকিক কিছু
ঘটিয়ে ঘুরে দাঁড়াবে ইংলিশ ক্লাবটি। মাঠের লড়াইয়ে লিভারপুল শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক
মেজাজে থাকলেও পিএসজির জমাট রক্ষণভাগ ভাঙতে হিমশিম খাচ্ছিল। ম্যাচের সবচেয়ে বড়
নাটকীয়তা তৈরি হয় দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি সময়ে, যখন লিভারপুলের পক্ষে একটি
পেনাল্টির বাঁশি বাজিয়েছিলেন রেফারি। তবে ভিএআর (VAR) পরীক্ষার পর সেই সিদ্ধান্ত
বাতিল হয়ে গেলে গোল পাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ হারায় স্বাগতিকরা, যা ম্যাচের মোড় পুরোপুরি
ঘুরিয়ে দেয়।
পিএসজির জয়ের নায়ক উসমান দেম্বেলে এদিন আক্ষরিক অর্থেই লিভারপুলের রক্ষণের জন্য
বিভীষিকা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। যদিও গত ম্যাচে এবং এই ম্যাচের প্রথমার্ধে বেশ কিছু সহজ
সুযোগ নষ্ট করে তিনি সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন, তবে শেষ দিকে তাঁর অসাধারণ ফিনিশিং
সব আক্ষেপ ঘুচিয়ে দেয়। ম্যাচের ৭২ মিনিটে ডি-বক্সের ঠিক বাইরে থেকে বাম পায়ের এক
নিখুঁত নিচু শটে লিভারপুল গোলরক্ষক জিওর্গি মামারদাশভিলিকে পরাস্ত করেন এই ফরাসি
ফরোয়ার্ড। দেম্বেলের এই গোলটি মুহূর্তেই স্তব্ধ করে দেয় পুরো অ্যানফিল্ড। এরপর
ম্যাচ যখন অন্তিমলগ্নে, ঠিক তখনই যোগ করা সময়ে এক দারুণ দলীয় আক্রমণ থেকে নিজের
দ্বিতীয় গোলটি পূর্ণ করেন দেম্বেলে। বল কোণায় পাঠিয়ে জয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি
লিভারপুলের বিদায়ঘণ্টাও বাজিয়ে দেন তিনি।
এই জয়ের ফলে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজি এখন সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে রিয়াল
মাদ্রিদ অথবা বায়ার্ন মিউনিখের। প্রথম লেগের লড়াইয়ে জার্মান জায়ান্ট বায়ার্ন ২-১
ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে, টানা দ্বিতীয়বারের মতো পিএসজির কাছে হেরে
চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে বিদায় নিল লিভারপুল। গত বছরও শেষ ১৬-র লড়াইয়ে এই ফরাসিদের
কাছেই স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল তাদের। ঘরোয়া লিগেও লিভারপুল বর্তমানে বেশ চাপের মুখে
রয়েছে। এই হারের পর ক্লাবটির জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ইংলিশ প্রিমিয়ার
লিগের শীর্ষ পাঁচে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখা, যাতে আগামী মৌসুমে আবারও ইউরোপের এই
শ্রেষ্ঠত্বের আসরে ফেরার সুযোগ পায় তারা। আপাতত প্যারিসের জয়গানে মুখরিত ইউরোপীয়
ফুটবলের আঙিনা।

























