মধ্যপ্রাচ্যে চরম সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ
নৌপথ হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। গত
সপ্তাহান্তে এই প্রণালী দিয়ে ৪০টিরও বেশি পণ্যবাহী জাহাজ পার হয়েছে, যার মধ্যে
শুধুমাত্র শনিবারই রেকর্ডসংখ্যক ৩৭টি জাহাজ চলাচল করেছে।
সামুদ্রিক পরিবহন চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর তথ্যের ভিত্তিতে রাশিয়ার সংবাদ
সংস্থা তাস (TASS) এই খবর নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ অঞ্চলে
সাম্প্রতিক সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে একদিনে এত বিপুলসংখ্যক জাহাজ চলাচলের ঘটনা
এটিই প্রথম। এর আগে গত ১৪ এপ্রিল সর্বোচ্চ ১৬টি জাহাজ এই পথ অতিক্রম করেছিল। এছাড়া
গত ১৯ এপ্রিল প্রণালীটি পুনরায় বন্ধের ঘোষণা আসার আগ পর্যন্ত আরও ৮টি জাহাজ এটি পার
হতে সক্ষম হয়।
তবে এই নৌপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে স্নায়ুযুদ্ধ
শুরু হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি শুরুতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের
জন্য হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু এর পরপরই মার্কিন
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে না পৌঁছানো পর্যন্ত
ওয়াশিংটন ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ অব্যাহত রাখবে।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইরানের এলিট ফোর্স ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড
কর্পস (আইআরজিসি) পাল্টাপাল্টি ঘোষণা দিয়ে জানায়, মার্কিন নৌ-অবরোধ পুরোপুরি
প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত তারা পুনরায় এই প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে। আইআরজিসি
জাহাজ মালিকদের মার্কিন কোনো নির্দেশনা না মেনে শুধুমাত্র ইরানের পরামর্শ অনুসরণ
করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘অবিশ্বাস্য’ বলে
প্রত্যাখ্যান করেছে।
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়।
ফলে এই পথে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের
অস্থিরতার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

























