জার্মান কাপের (ডিএফবি পোকাল) সেমিফাইনালে বায়ার লেভারকুসেনকে ২-০ গোল ব্যবধানে
হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে বায়ার্ন মিউনিখ। বুধবার রাতের এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে
বায়ার্নের হয়ে গোল দুটি করেছেন হ্যারি কেন ও লুইস দিয়াজ। এই জয়ের ফলে দীর্ঘ কয়েক
মৌসুম পর আবারও এই টুর্নামেন্টের শিরোপা নির্ধারণী মঞ্চে জায়গা করে নিল
বাভারিয়ানরা। মাঠের লড়াইয়ে আধিপত্য বজায় রেখে তারা বার্লিনের টিকিট নিশ্চিত করেছে।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে লেভারকুসেনের রক্ষণভাগকে চাপে রাখে
বায়ার্ন। তবে প্রতিপক্ষের গোলরক্ষক মার্ক ফ্লেকেন গোলবারে ছিলেন অত্যন্ত সজাগ। তিনি
পুরো ম্যাচে মোট ৮টি নিশ্চিত গোল সেভ করে ব্যবধান বাড়তে দেননি। তবে বায়ার্নের
মুহুর্মুহু আক্রমণ সামলাতে গিয়ে ২২তম মিনিটে পরাস্ত হয় লেভারকুসেন। লুইস দিয়াজের
সাথে চমৎকার ওয়ান-টু-ওয়ান পাসিং থেকে ডি-বক্সের ভেতর বল পেয়ে নিখুঁত শটে লক্ষ্যভেদ
করেন বায়ার্ন অধিনায়ক হ্যারি কেন।
এক গোলে পিছিয়ে পড়ে সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে বায়ার লেভারকুসেন। দ্বিতীয়ার্ধে তারা
বায়ার্নের রক্ষণে বেশ কয়েকবার ভীতি ছড়িয়েছিল। বিশেষ করে নাথান টেল্লার নেওয়া একটি
বুলেট গতির শট গোল হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। তবে অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যার
অবিশ্বাস্য ক্ষিপ্রতায় বলটি রুখে দিয়ে বায়ার্নকে বিপদমুক্ত করেন। নয়্যারের এই
গুরুত্বপূর্ণ সেভটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় এবং লেভারকুসেনের ম্যাচে ফেরার স্বপ্ন
ফিকে করে দেয়।
ম্যাচ যখন শেষের পথে, ঠিক তখনই ইনজুরি টাইমে পাল্টা আক্রমণ থেকে দ্বিতীয় গোলটি পায়
বায়ার্ন। সেন্টার ব্যাক কিম মিন-জের বাড়ানো চমৎকার এক থ্রু পাস খুঁজে নেয় লিয়ন
গোরেৎজকাকে। গোরেৎজকা নিজে শট নেওয়ার সুযোগ থাকলেও ডি-বক্সের ভেতর থাকা লুইস
দিয়াজকে পাস দেন। কলম্বিয়ান এই ফরোয়ার্ড ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠিয়ে ২-০ ব্যবধানের
জয় এবং দলের ফাইনাল নিশ্চিত করেন। এই গোলের পর লেভারকুসেনের আর ম্যাচে ফেরার কোনো
সুযোগ অবশিষ্ট ছিল না।
২০১৯-২০ মৌসুমের পর এই প্রথম বায়ার্ন মিউনিখ জার্মান কাপের ফাইনালে খেলার যোগ্যতা
অর্জন করল। গত কয়েক বছর টুর্নামেন্টের শুরুর দিকে বিদায় নেওয়ার আক্ষেপ ঘুচিয়ে তারা
এখন শিরোপা জয়ের দৌড়ে রয়েছে। ফাইনালে বায়ার্নের প্রতিপক্ষ হবে স্টুটগার্ট ও
ফ্রেইবার্গের মধ্যকার দ্বিতীয় সেমিফাইনালের বিজয়ী দল। ট্রফি জয়ের লক্ষ্যে বার্লিনের
অলিম্পিক স্টেডিয়ামে নিজেদের সেরাটা দিতে এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করেছে
বাভারিয়ানরা।

























