ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব চেলসিতে লিয়াম রসেনিয়রের অধ্যায় মাত্র চার মাসেই শেষ
হলো। বুধবার (২২ এপ্রিল) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে চেলসি কর্তৃপক্ষ তাকে বরখাস্ত করার
বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। চলতি বছরের জানুয়ারির শুরুতে ছয় বছরের দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতে
দায়িত্ব নিলেও টানা ব্যর্থতার দায়ে শেষ পর্যন্ত তাকে বিদায় নিতে হলো। এফএ কাপের
গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগেই ক্লাব কর্তৃপক্ষ কোচের ওপর আস্থা হারিয়ে এই কঠোর
সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
রসেনিয়রের অধীনে চেলসির পারফরম্যান্স ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। তার তত্ত্বাবধানে খেলা
২৩টি ম্যাচের মধ্যে ১১টি জয় থাকলেও ১০টিতেই হার এবং ২টিতে ড্র রয়েছে, যা ক্লাবের
ইতিহাসে কোনো স্থায়ী কোচের জন্য অন্যতম খারাপ পরিসংখ্যান। বিশেষ করে গত মাসে
চ্যাম্পিয়নস লিগে পিএসজির কাছে ৫-২ গোলের শোচনীয় পরাজয়ের পর থেকেই দলটির ছন্দপতন
শুরু হয়। এর ফলে ১৯১২ সালের পর প্রথমবারের মতো টানা পাঁচ ম্যাচে কোনো গোল করতে না
পেরে হারের তিক্ত স্বাদ পেয়েছে ব্লুজরা।
চেলসির সাম্প্রতিক ফর্ম এতটাই নিচে নেমে গিয়েছিল যে, শেষ আটটি ম্যাচের সাতটিতেই
তারা হারের মুখ দেখেছে। টানা পরাজয়ের এই ধারা চেলসিকে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ
প্রতিযোগিতার লড়াই থেকে কার্যত ছিটকে দিয়েছে, যার ফলে আগামী মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস
লিগে খেলার সম্ভাবনাও এখন অত্যন্ত ক্ষীণ। সবশেষ ব্রাইটনের কাছে হারের পর পরিস্থিতি
চরম আকার ধারণ করলে চেলসির নীতি-নির্ধারকরা জরুরি বৈঠকে বসেন এবং ৪১ বছর বয়সী এই
কোচের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।
দায়িত্ব নেওয়ার পর এতদিন কৌশল বা ব্যবস্থাপনা নিয়ে নমনীয় থাকলেও শেষ ম্যাচে
পরাজয়ের দায় সরাসরি খেলোয়াড়দের ওপর চাপান রসেনিয়র। ব্রাইটনের বিপক্ষে দলের
পারফরম্যান্সকে তিনি ‘অগ্রহণযোগ্য’ ও ‘অমার্জনীয়’ বলে বর্ণনা করেন এবং দাবি করেন যে
খেলোয়াড়দের মধ্যে লড়াইয়ের মানসিকতার ব্যাপক ঘাটতি ছিল। এদিকে ব্রাইটনের বিপক্ষে
ম্যাচে চেলসির সহ-মালিক বেহদাদ এগবালি এবং স্পোর্টিং ডিরেক্টর পল উইনস্ট্যানলি
উপস্থিত থেকে সরাসরি খেলা পর্যবেক্ষণ করেন। সমর্থকদের তীব্র ক্ষোভ এবং মালিকপক্ষের
অসন্তোষের মুখে শেষ পর্যন্ত বিদায় নিতে হলো এই ইংলিশ কোচকে।
























