ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) সোমবার রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে
ঐতিহাসিক এক ব্যাটিং বিপর্যয়ের সাক্ষী হয়েছে দিল্লি ক্যাপিটালস। আগের ম্যাচে ২৬৪
রানের পাহাড় গড়া দলটি এদিন মাত্র ৭৫ রানেই গুটিয়ে গেছে। ম্যাচের সবচেয়ে লজ্জাজনক
অধ্যায় ছিল দিল্লির ইনিংসের শুরুটা, যেখানে মাত্র ৮ রানেই তারা টপ অর্ডারের ৬টি
উইকেট হারিয়ে ফেলে। আইপিএলের ইতিহাসে এর আগে কোনো দল এত কম রানে ৬ উইকেট হারানোর
নজির গড়েনি। দিল্লির এই ধ্বংসযজ্ঞের মুখে বেঙ্গালুরু মাত্র ৮১ বল হাতে রেখেই বিশাল
জয় নিশ্চিত করে।
পাওয়ার প্লে বা প্রথম ছয় ওভারেও একাধিক নেতিবাচক রেকর্ডের মালিক হয়েছে দিল্লি
ক্যাপিটালস। এই সময়ে তারা ৬ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১৩ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়, যা
আইপিএলের ইতিহাসে পাওয়ার প্লেতে সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ এবং সর্বোচ্চ উইকেট পতনের
নতুন রেকর্ড। এর আগে সর্বনিম্ন পাওয়ার প্লে সংগ্রহের রেকর্ডটি ছিল ১৪ রানের। পুরো
ম্যাচটি স্থায়ী হয়েছিল মাত্র ১৩৮ বল বা ২৩ ওভার, যা টুর্নামেন্টের ইতিহাসে দ্বিতীয়
সর্বনিম্ন দৈর্ঘ্যের ম্যাচের মর্যাদা পেয়েছে। দিল্লির এই ৭৫ রান আইপিএল ইতিহাসের
সপ্তম সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ হিসেবে নথিবদ্ধ হয়েছে।
বেঙ্গালুরুর বোলারদের দাপুটে বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি দিল্লির ব্যাটাররা।
স্পিনার সুয়াশ শর্মা ৪ ওভার বল করে মাত্র ৭ রান দিয়ে আইপিএলের অন্যতম ইকোনমিক্যাল
স্পেল উপহার দেন, যেখানে ২০টি বলই ছিল ডট বা কোনো রান হয়নি। এটি আইপিএলে একজন
স্পিনারের করা সর্বোচ্চ ডট বলের রেকর্ড। এছাড়া পেস আক্রমণে জশ হ্যাজলউড ৪টি এবং
ভুবনেশ্বর কুমার ৩টি উইকেট শিকার করেন। হ্যাজলউড ও ভুবনেশ্বর দুজনেই পাওয়ার প্লেতে
৩টি করে উইকেট নেন, যা আইপিএলের ইতিহাসে প্রথম কোনো ম্যাচে দুই বোলারের একই সাথে
পাওয়ার প্লেতে ৩টি করে উইকেট নেওয়ার ঘটনা।
৭৬ রানের ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ৮১ বল হাতে
রেখেই ১০ উইকেটের বড় জয় তুলে নেয়। আইপিএলের ইতিহাসে বলের ব্যবধানে এটি দ্বিতীয়
বৃহত্তম জয়। এই ম্যাচে জয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি এক অনন্য বিশ্বরেকর্ড স্পর্শ
করেছেন তারকা ব্যাটার বিরাট কোহলি। ২৩ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়ার সময় তিনি
আইপিএলের প্রথম ব্যাটার হিসেবে ৯ হাজার রানের মাইলফলক পূর্ণ করেন। এই জয়ের ফলে
বেঙ্গালুরু কেবল গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টই অর্জন করেনি, বরং তাদের নেট রানরেটও অনেক
বাড়িয়ে নিয়েছে। অন্যদিকে, দিল্লির জন্য এই হারটি টুর্নামেন্টের অন্যতম বড় লজ্জা
হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

























