Ajker Digonto
মঙ্গলবার , ১২ জানুয়ারি ২০১৬ | ২৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. অর্থনীতি
  4. আইন- আদালত
  5. আইন-আদালত
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আলোচিত মামলা
  8. খুলনা
  9. খেলা
  10. খেলাধুলা
  11. চট্টগ্রাম
  12. চট্টগ্রাম বিভাগ
  13. জাতীয়
  14. ঢাকা
  15. তথ্য প্রযুক্তি

রাজনৈতিক দলের প্রতীকে মার্চে ইউপি নির্বাচন

প্রতিবেদক
Staff Reporter
জানুয়ারি ১২, ২০১৬ ৫:৪৫ অপরাহ্ণ

রাজনৈতিক দলের পরিচয় ও প্রতীকে দেশের চার হাজারের বেশি ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) আগামী মার্চের শেষ সপ্তাহে ভোট গ্রহণ শুরু হবে। আজ মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ জন্য নির্বাচন পরিচালনা বিধি ও আচরণবিধির খসড়া আজ নীতিগতভাবে অনুমোদন করা হয়েছে।

গত ৩০ ডিসেম্বর ২৩৪টি পৌরসভায় রাজনৈতিক দলের প্রতীকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ রাজনৈতিক দলগুলো ওই নির্বাচনে অংশ নিয়েছে।
এর আগে ২০১১ সালে প্রথম ধাপে ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিলের মধ্যে ৫৩৮টি ইউপিতে নির্বাচন হয়েছিল। এরপর ১ থেকে ৩১ মের মধ্যে ১৩৪ টি,১ থেকে ৩০ জুনের মধ্যে ৩ হাজার ১৫২ টি,১ থেকে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে ৪০৮টি এবং ১ আগস্ট থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে বিচ্ছিন্নভাবে ৩৪টি ইউপিতে নির্বাচন হয়েছে। এর বাইরে ২০১২ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে ১১২টি ইউপিতে নির্বাচন হয়।
আইন অনুযায়ী পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ইউপিতে নির্বাচন করতে হবে। এই হিসেবে এপ্রিল থেকে জুলাইয়ের মধ্যে ৪ হাজারের বেশি ইউপির মেয়াদ উত্তীর্ণ হবে। এ জন্য কমিশন সময় হাতে রেখে আগামী মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে তফসিল ঘোষণা করে মার্চে ভোট গ্রহণ শুরু করতে চায়।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ আজ সাংবাদিকদের বলেন, আইনি বাধ্যবাধকতার কারণেই প্রথম ধাপের নির্বাচন মার্চের মধ্যে শেষ করতে হবে। এরপর ধাপে ধাপে জুনের মধ্যে বাকি ইউপিতে নির্বাচন করা হবে। সে অনুযায়ী কমিশন প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু করেছে। যেহেতু নির্বাচন দলীয়ভাবে হবে, তাই নির্বাচন পরিচালনা বিধি ও আচরণবিধি নতুন করে তৈরি করা হচ্ছে। কয়েক দিনের মধ্যে বিধি চূড়ান্ত করে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
পৌরসভা নির্বাচনে বিস্তর হানাহানির পর আওয়ামী লীগের একাধিক শীর্ষ নেতা ইউপি নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে করার মত প্রকাশ করেছেন বলে দলটির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানায়। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার শাহনেওয়াজ প্রথম আলোকে বলেন, সেটি করতে হলে আইন সংশোধন করতে হবে। সেটা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। কিন্তু সরকারের দিক থেকে সেই রকম কোনো উদ্যোগ তো নেই। আবার কমিশনও বসে থাকতে পারে না। সুতরাং ধরে নিতে হবে নির্বাচন বিদ্যমান আইনেই হচ্ছে।
ভোটারের সই লাগবে না স্বতন্ত্র প্রার্থীর
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে চাইলে তাঁকে ভোটারের সমর্থনসূচক সই সংগ্রহ করে মনোনয়নপত্রে সঙ্গে জমা দিতে হবে না। কমিশন খসড়া নির্বাচন পরিচালনা বিধিতে এই প্রস্তাব করেছে।
পৌরসভা নির্বাচনের বিধিতে বলা আছে, স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থীদের ১০০ ভোটারের সমর্থনসূচক সই সংগ্রহ করতে হবে। পৌরসভা নির্বাচনে সমর্থক হিসেবে সই করা ভোটারদের অনেকের আপত্তির কারণে বেশ কয়েকজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যায়। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা অভিযোগ করেন, দলীয় প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলের চাপে পড়ে সমর্থনকারী ভোটাররা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে গিয়ে সই দেননি বলে সাক্ষ্য দেন। এ অভিজ্ঞতা থেকে কমিশন ভোটার সমর্থনসূচক সই সংগ্রহের নিয়মটি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এ ছাড়া বিধিতে বলা হয়েছে, দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থীকে মনোনয়ন পাওয়া সংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে। রাজনৈতিক দলের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক বা সমপদমর্যাদার কোনো ব্যক্তি অথবা তাঁদের কাছ থেকে ক্ষমতা পাওয়া কোনো ব্যক্তি এই প্রত্যয়নপত্রে সই করবেন। কোনো দল থেকে একাধিক প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হলে সবার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে ওই ইউপিতে দলটির কোনো প্রার্থী থাকবে না। একজন মাত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দেওয়ার বিধানের কারণে এবারের পৌরসভা নির্বাচনে ১২টি পৌরসভায় মেয়রপদে বিএনপির কোনো প্রার্থী ছিল না।
নির্বাচনী আচরণবিধিতে বলা আছে, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, সংসদের স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, সংসদ উপনেতা, চিফ হুইপ, হুইপ, বিরোধী দলীয় নেতা, বিরোধী দলীয় উপনেতা, সিটি করপোরেশনের মেয়র ও সদস্যরা নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না।
কমিশন বৈঠকের কার্যপত্র থেকে জানা যায়, কমিশনার আবদুল মোবারক ও মো. শাহনেওয়াজ এই তালিকায় উপজেলা চেয়ারম্যানদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে মত দেন। তবে অন্য কমিশনার ও কমিশন সচিবালয়ের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তারা আপত্তিতে তা গ্রহণ করা হয়নি।
নারীদের প্রতীক
নারীদের জন্য সংরক্ষিত সদস্য পদের (মেম্বার) নির্বাচনে প্রতীক হিসেবে এবার ক্যামেরা, হেলিকপ্টার, বই, কলম, বক, তালগাছ, মাইক, জিরাফ ও সূর্যমুখী ফুল প্রস্তাব করা হয়েছে। পৌরসভা নির্বাচনে নারীদের সংরক্ষিত পদের জন্য চুড়ি, ফ্রক, পুতুল, ভ্যানিটি ব্যাগ ইত্যাদি প্রতীক বরাদ্দ করা হয়েছিল। তখন নারী নেত্রীরা আপত্তি জানিয়ে বলেছিল, এসব প্রতীক নারীর ব্যক্তিত্ব ও সম্মানকে ক্ষুণ্ন করে। এ নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। যে কারণে কমিশন এবার নারীদের জন্য নির্দোষ প্রতীক বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সর্বশেষ - অন্যান্য