বলিউডের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র নির্মাতা রোহিত শেঠির মুম্বাইয়ের বাসভবন লক্ষ্য করে
অতর্কিত গুলিবর্ষণ করেছে একদল অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্ত। আজ রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি)
ভোররাতে মুম্বাইয়ের অভিজাত এলাকা জুহুর একটি বহুতল ভবনে তাঁর ফ্ল্যাট লক্ষ্য করে
অন্তত পাঁচ রাউন্ড গুলি চালানো হয় বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। এই নজিরবিহীন হামলার
ঘটনায় বলিউডের চলচ্চিত্র পাড়া ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগের
সৃষ্টি হয়েছে।
মুম্বাই পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আজ ভোরের দিকে দুর্বৃত্তরা জুহু এলাকার ওই ভবনের
সামনে এসে এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। গুলির শব্দ শুনে
ভবনটির নিরাপত্তা রক্ষী ও বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের
একটি বিশেষ দল এবং অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ ভবনের প্রবেশপথ ও আশপাশের সড়কের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ
করেছে। এছাড়া রোহিত শেঠির ফ্ল্যাটের ব্যালকনি এবং দেয়াল থেকে বুলেটের চিহ্ন ও
ফরেনসিক নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে হামলার সময় জনপ্রিয় এই নির্মাতা বাড়িতে
অবস্থান করছিলেন কি না, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
হামলার প্রকৃত কারণ এবং এর নেপথ্যে কারা জড়িত, তা নিয়ে ইতোমধ্যে অনুসন্ধান শুরু
হয়েছে। প্রাথমিকভাবে কুখ্যাত ‘বিষ্ণোই গ্যাং’-এর সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে সন্দেহ করা
হচ্ছে, কারণ অতীতেও এই গোষ্ঠীটি বলিউডের একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বকে লক্ষ্য করে
হুমকি ও হামলা চালিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন এই হামলার দায়
স্বীকার করে কোনো বার্তা পাঠায়নি। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং রোহিত শেঠির
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাঁর বাসভবন ও কর্মস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বলিউড তারকাদের ওপর এমন প্রাণঘাতী হামলার চেষ্টা মুম্বাইয়ে নতুন কোনো ঘটনা নয়। এর
আগে সুপারস্টার সালমান খানের গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের সামনে একইভাবে গুলিবর্ষণ
করা হয়েছিল, যার দায় স্বীকার করেছিল লরেন্স বিষ্ণোইয়ের দল। এছাড়া শাহরুখ খানকেও
একাধিকবার আন্ডারওয়ার্ল্ড থেকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। গত বছরের জুলাই মাসে
জনপ্রিয় কমেডিয়ান কপিল শর্মার রেস্তোরাঁতেও নয় রাউন্ড গুলি চালিয়েছিল দুর্বৃত্তরা।
একের পর এক এমন ঘটনায় মুম্বাইয়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং বিশেষ করে সেলিব্রিটিদের
নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরণের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, তারা বিষয়টি
সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

























