টটেনহাম হটস্পারের উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের যাত্রা এখন ঘোরতর সংকটের মুখে। তরুণ
গোলরক্ষক আন্তোয়ান কিনস্কির একের পর এক অমার্জনীয় ভুলের খেসারত দিয়ে অ্যাতলেটিকো
মাদ্রিদের মাঠ থেকে ৫-২ গোলের বিশাল হার নিয়ে ফিরতে হয়েছে ইংলিশ ক্লাবটিকে। এর ফলে
কোয়ার্টার ফাইনালের স্বপ্ন ম্লান হওয়ার পাশাপাশি টটেনহাম কোচ ইগোর টিউডরের কৌশল ও
সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে বড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
খেলার শুরুটা ছিল টটেনহামের জন্য এক বিভীষিকাময় দুঃস্বপ্ন। লিগ ম্যাচে টিকে থাকাকে
গুরুত্ব দিতে গিয়ে কোচ যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছিলেন, তা দলের জন্য বিপর্যয় বয়ে
আনে। ২২ বছর বয়সী গোলরক্ষক কিনস্কিকে নামানোর সিদ্ধান্ত ছিল পুরোপুরি আত্মঘাতী।
মাত্র ৬ মিনিটের মাথায় তাঁর একটি ভুল ক্লিয়ারেন্স থেকে সুযোগ কাজে লাগিয়ে মার্কোস
লরেন্তে অ্যাতলেটিকোকে এগিয়ে দেন। ১৪ মিনিটের মাথায় ডিফেন্ডার মিকি ফন দে ফেনের
পিছলে যাওয়ার সুযোগ নিয়ে ব্যবধান ২-০ করেন আন্তোয়ান গ্রিয়েজমান। তবে এর মাত্র ৯২
সেকেন্ড পর কিনস্কি যে ভুলটি করেন, তা ফুটবল ভক্তদের হতবাক করে দিয়েছে। একটি দুর্বল
ব্যাকপাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে কিনস্কি বলটি সরাসরি উপহার দেন জুলিয়ান আলভারেজকে, যা
জালে জড়াতে কোনো কষ্টই করতে হয়নি এই আর্জেন্টাইন তারকার। এমন পরিস্থিতিতে বিপর্যস্ত
কিনস্কিকে মাত্র ১৭ মিনিটের মাথায় মাঠ থেকে তুলে নিয়ে অভিজ্ঞ গুগলিয়েলমো ভিকারিওকে
নামাতে বাধ্য হন কোচ টিউডর।
গোলরক্ষক বদলালেও অ্যাতলেটিকোর জয়যাত্রা থামাতে পারেনি স্পাররা। ২২ মিনিটের মাথায়
রবিন লে নরমান্দের এক দুর্দান্ত হেডে ৪-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে টটেনহাম। বড় হারের
শঙ্কায় থাকা দলটি দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে লড়াইয়ে ফেরার কিঞ্চিৎ ইঙ্গিত দিয়েছিল।
পেদ্রো পোরো ও ডমিনিক সোলাঙ্কে গোল করে ব্যবধান কিছুটা কমিয়ে আনলেও আলভারেজ নিজের
দ্বিতীয় গোলটি পূর্ণ করলে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় টটেনহাম। রক্ষণের চরম সমন্বয়হীনতা
আর শুরুর নাটকীয়তা মিলিয়ে সফরকারীদের জন্য ম্যাচটি ছিল এক চূড়ান্ত গ্লানির।
মজার বিষয় হলো, এদিন গ্যালারিতে বসে উত্তর লন্ডনের ক্লাবটির এই ভরাডুবি প্রত্যক্ষ
করেছেন তাদেরই সাবেক সফল কোচ মাউরিসিও পচেত্তিনো। সমর্থকরা পচেত্তিনোকে সাদর
অভ্যর্থনা জানালেও মাঠে বর্তমান কোচ ইগোর টিউডরের অসহায়ত্ব ছিল প্রকট। টানা চারটি
হারে ইগোর টিউডরের ওপর প্রবল চাপ তৈরি হয়েছে এবং তাঁর নিয়োগের মাত্র ২৯ দিনের মাথায়
বিদায়ের সুর বেজে উঠতে শুরু করেছে। এখন চ্যাম্পিয়ন্স লিগে টিকে থাকতে হলে ফিরতি
লেগের ম্যাচে অবিশ্বাস্য কোনো অলৌকিক কিছু করে দেখানো ছাড়া টটেনহামের সামনে আর কোনো
পথ খোলা নেই।
























