ইরান যুদ্ধ নিয়ে হঠাৎ সুর নরম করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের
বিরুদ্ধে চলমান ‘সামরিক অভিযান’ গুটিয়ে আনার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (২০ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট
বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের সামরিক প্রচেষ্টা গুটিয়ে আনার কথা বিবেচনা করছি, কারণ
আমরা আমাদের লক্ষ্য পূরণের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি।’
তবে একই সময়ে তার প্রশাসন অঞ্চলটিতে অতিরিক্ত ২ হাজার ৫০০ মেরিন মোতায়েন করছে এবং
যুদ্ধ ব্যয়ের জন্য কংগ্রেসের কাছে আরও ২০০ বিলিয়ন ডলার চেয়েছে, যা তার বক্তব্যের
সঙ্গে কিছুটা বৈপরীত্য তৈরি করেছে।
এর মধ্যে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় মার্কিন শেয়ারবাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি
সামাল দিতে জাহাজে তোলা ইরানি তেলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিলেরও ঘোষণা দিয়েছে
ওয়াশিংটন।
প্রেসিডেন্টের বার্তার পরপরই হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট
জানান, পেন্টাগনের হিসাব অনুযায়ী এই মিশন শেষ করতে চার থেকে ছয় সপ্তাহ সময় লাগতে
পারে। তিনি বলেন, ‘আগামীকাল শনিবার অভিযানের তৃতীয় সপ্তাহ পূর্ণ হবে। ইরান সরকারকে
পঙ্গু করে দিতে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনী চমৎকার কাজ করছে।’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম
হোয়াইট হাউজ থেকে অভিযানের একটি সম্ভাব্য সময়সীমা উল্লেখ করা হলো।
ট্রাম্পের কণ্ঠে যুদ্ধ শেষের সুর শোনা গেলেও মাঠের চিত্র ভিন্ন। পারস্য নববর্ষ
‘নওরোজ’-এর প্রথম দিনেই তেহরান ও এর আশপাশে মার্কিন-ইসরায়েলি বাহিনী হামলা
চালিয়েছে। গিলান প্রদেশের দাস্তাক গ্রামে শেল হামলায় অন্তত দুজন বেসামরিক নাগরিক
নিহত হয়েছেন।
পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরানও ভারত মহাসাগরে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের
যৌথ সামরিক ঘাঁটি ‘দিয়েগো গার্সিয়া’ লক্ষ্য করে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র
নিক্ষেপ করেছে। এছাড়া সৌদি আরবের তেল সমৃদ্ধ পূর্বাঞ্চলে ২০টি ড্রোন ভূপাতিত করার
দাবি করেছে রিয়াদ।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এক লিখিত বার্তায় মার্কিন-ইসরায়েলি এই যুদ্ধকে
একটি ‘ভয়াবহ ভুল গণনা’ বলে অভিহিত করেছেন। নওরোজ উপলক্ষে দেওয়া বার্তায় তিনি ইরানি
জনগণের ধৈর্য ও সাহসিকতার প্রশংসা করেন।
সূত্র: আল-জাজিরা
























