ইরানে সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিকে হত্যার ৪০ দিন পূর্তি উপলক্ষে দেশজুড়ে
ব্যাপক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সম্প্রচারে দেখা গেছে, রাজধানী
তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিপুলসংখ্যক মানুষ একত্র হয়েছেন। ইরানি সমাজে
রাজনৈতিক বিভাজন থাকা সত্ত্বেও এই ঘটনায় অনেক মানুষ একত্র হয়েছেন বলে জানা গেছে।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বিভিন্ন মতাদর্শের ইরানিরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার
বিরুদ্ধে প্রতিবাদে অংশ নিচ্ছেন। বিশেষ করে রাতের বেলায় অনেক মানুষ ইরানের পতাকা
নিয়ে রাস্তায় জড়ো হচ্ছেন। প্রতিবাদে অংশ নেওয়া সবাই সরকারপন্থি নন, তবে বর্তমান
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় তারা একত্র হচ্ছেন।
সমাবেশে অংশ নেওয়া কিছু মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কেউ কেউ যুদ্ধবিরতির
বিরোধিতা করছেন। তাদের মতে, ইরানি সমাজে যে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার
প্রতিশোধ নিতে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া উচিত।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল
বিন ফারহান আল সৌদি ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরঘচি টেলিফোনে কথা বলেছেন।
ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা শুরুর পর এটি দুই দেশের মধ্যে প্রথম আনুষ্ঠানিক
যোগাযোগ।
সৌদির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, আলোচনায় বর্তমান পরিস্থিতির
সর্বশেষ অগ্রগতি এবং উত্তেজনা কমানোর উপায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা ইমাম আয়াতুল্লাহ আলী খোমেনিকে হত্যার
মধ্য দিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। ইমাম খামেনির
মৃত্যুর পর ইরানের সরকার ৪০ দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করে। সেই শোক পালনে ইরানের
রাজধানী তেহরানে জনতার ঢল দেখা গেছে। এই শোকসভা থেকে শত্রু বাহিনীর বিরুদ্ধে অটল
প্রতিরোধের অঙ্গীকার করেছে ইরানের বিপ্লবী জনতা।
গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন মতে, তেহরানের শোক
মিছিলগুলো জোমহুরি স্কোয়ার থেকে শুরু হয়ে ইমাম খামেনির হত্যাকাণ্ডের স্থানে গিয়ে
শেষ হয়। এসব শোকমিছিল বিপ্লবী পথের প্রতি জনতার আনুগত্যের গর্জনময় ঘোষণা এবং
শত্রুপক্ষের নৃশংসতার তীব্র নিন্দায় পরিণত হয়। তেহরানের এসব শোকযাত্রায় শোকাহত
মানুষ স্লোগান দেয়, শোকগাথা পাঠ করে এবং তার বিপ্লবী আদর্শের প্রতি পুনরায়
অঙ্গীকার ব্যক্ত করে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি শাসনের উসকানিহীন আগ্রাসন শুধু ইরানের নেতৃত্বই নয় বরং
বেসামরিক অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করে। এর মধ্যে মিনাবের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে
বিধ্বংসী হামলায় ১৭০ জনের বেশি শিক্ষার্থী নিহত হয়।
এর জবাবে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ইসরায়েল-অধিকৃত অঞ্চল এবং যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক
স্থাপনাগুলোর ওপর ১০০ দফা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়, যা শত্রুপক্ষকে
অপমানজনকভাবে পিছু হটতে বাধ্য করে।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায়, যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের ১০ দফা প্রস্তাব গ্রহণ করার পর একটি
যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। গত বুধবার ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল কাউন্সিল (এসএনএসসি) এই
যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয়, যা সংঘাতের সাময়িক অবসান নির্দেশ করে।
ইসলামী বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানায়, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির
শাহাদাত তার জীবদ্দশার নেতৃত্বের মতোই ইসলামী বিপ্লবকে আরও শক্তিশালী করেছে। জাতীয়
ঐক্য, প্রতিরোধ এবং শত্রুর বিরুদ্ধে শত আঘাতকে তারা তার ত্যাগের ‘ঐশ্বরিক আশীর্বাদ’
হিসেবে উল্লেখ করে।
























