সাংস্কৃতিক প্রতিরোধের ঐতিহ্যকে ধারণ করে নতুন বছরের প্রথম সূর্যোদয়ের সাথে সাথে
বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলা নববর্ষকে বরণ করল জাতি। চিরায়ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের
ধারাবাহিকতায় ছিল নানা অনুষ্ঠান। এসবের মধ্যে ছিল বৈশাখী শোভাযাত্রা, ক্রীড়া ও
সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, হালখাতা, পুতুল নাচ, ঘুড়ি ও বেলুন ওড়ানো ও লোকজ মেলা।
দৈনিক বাংলার নিজস্ব প্রতিবেদক, জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:
ঢাকা: সাংস্কৃতিক প্রতিরোধের ঐতিহ্যকে ধারণ করে রাজধানীর রমনা বটমূলের ঐতিহ্যবাহী
প্রভাতী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষকে বরণ করে নেয় ছায়ানট। বিশ্বকবি
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নির্ভীক সমাজের দর্শন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এবারের অনুষ্ঠানের
প্রতিপাদ্য ছিল—‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির’। মঙ্গলবার সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে
সম্মেলক কণ্ঠে ‘জাগো আলোক-লগনে’ গানের মাধ্যমে শুরু হয় প্রভাতী আয়োজন। গানটি
পরিবেশন করেন মিরাজুল জান্নাত সোনিয়া, ঐশ্বর্য সমাদ্দার, প্রিয়ন্তু দেব ও সমুদ্র
শুভম।
অনুষ্ঠানে মোট ২৪টি পরিবেশনা ছিল, যার মধ্যে আটটি ছিল সম্মেলক সংগীত এবং ১৪টি একক
গান ও আবৃত্তি। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা থেকে সকাল নটায় বের হয় বৈশাখী
শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রার শুরুর দিকে ছিল অশ্বারোহী। তারপর পর্যায়ক্রমে আইনশৃঙ্খলা
রক্ষাকারী বাহিনী, বাংলাদেশের পতাকা হাতে শিক্ষার্থী, রোভার স্কাউট, প্রক্টরিয়াল
টিম, সবশেষে শোভাযাত্রার প্রধান ব্যানার। শোভাযাত্রার এবারের প্রতিপাদ্য ছিল
‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের নেতৃত্বে
শোভাযাত্রায় উপস্থিত হন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। আরও উপস্থিত ছিলেন
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য, প্রক্টর ও শিক্ষকরা। এছাড়া ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়কে
সকাল থেকেই পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক মিলনমেলায়। ‘জাগাও পথিকে, ও সে ঘুমে
অচেতন’ প্রতিপাদ্যে বর্ষবরণ পর্ষদের আয়োজনে দিনব্যাপী উৎসব ও মঙ্গল শোভাযাত্রাকে
ঘিরে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
সকাল ৯টায় দেশাত্মবোধক ও বৈশাখী গানের সমবেত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা
হয়। ‘আমার সোনার বাংলা’, ‘ধন ধান্য পুষ্প ভরা’ এবং ‘এসো হে বৈশাখ’ গানে একসঙ্গে
কণ্ঠ মেলান শিল্পীরা, যা মুহূর্তেই ছড়িয়ে দেয় নববর্ষের আমেজ। রাজধানী ছাড়াও বর্ণিল
আয়োজনে সারাদেশে নববর্ষকে বরণ করা হয়। এ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন জেলায় নানা রকমের
আয়োজন করা হয়।
বরগুনা: বর্ণাঢ্য আয়োজন ও উৎসবমুখর পরিবেশে বরগুনায় বাংলা নববর্ষ উদযাপন করা হয়েছে।
দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শোভাযাত্রা ও বিভিন্ন আয়োজনে মেতে ওঠেন জেলার
সর্বস্তরের মানুষ।
সকালে বরগুনা শহরের শিমুলতলায় সংগীতানুষ্ঠানের মাধ্যমে নববর্ষকে বরণ করে নেওয়া হয়।
এ সময় স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় ‘এসো হে বৈশাখ’ শিরোনামে গান ও নৃত্য পরিবেশিত
হয়, যা উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দেয়।
পরে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
শোভাযাত্রায় বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
এছাড়া একইভাবে জেলার পাথরঘাটা, বামনা, বেতাগী, আমতলী ও তালতলী উপজেলায় উপজেলা
প্রশাসনের উদ্যোগে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে নববর্ষ উদযাপন করা হয়।
রাজশাহী : ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’-সময়োপযোগী এ স্লোগানকে সামনে
রেখে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে রাজশাহীতে উদযাপিত হয় পহেলা
বৈশাখ। মঙ্গলবার সকাল ৭টায় রাজশাহী কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানার সামনে থেকে একটি
বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ
শেষে শিশু একাডেমি প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়।
শোভাযাত্রায় অংশ নিতে সকাল থেকেই বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ রঙিন পোশাক ও বৈশাখী
সাজে সজ্জিত হয়ে জড়ো হন। ব্যানার-ফেস্টুন ও বাঙালিয়ানা ঐতিহ্যের নানা উপকরণে সাজানো
শোভাযাত্রাটি নগরজুড়ে সৃষ্টি করে এক উৎসবমুখর আবহ।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। বিশেষ অতিথি হিসেবে
উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, বিভাগীয়
কমিশনার আ ন ম বজলুর রশিদ এবং জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম।
পরে সেখানে শুরু হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায়
বর্ষবরণের গান, নৃত্য ও আবৃত্তিতে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল।
বান্দরবান : বান্দরবানে নববর্ষ উৎসব ঘিরে ছিল আনন্দ শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক
অনুষ্ঠানসহ নানা আয়োজন। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে জাতীয় সংগীত পরিবেশনার
মাধ্যমে শুরু হয় আয়োজন। এসময় বেলুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানের শুভ
সূচনা করেন বান্দরবান ৩০০ নম্বর আসনের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু।
এসময় বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শিক্ষা
প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এসময় উপস্থিত ছিলেন। শোভাযাত্রায় বাঙালি সম্প্রদায় ছাড়াও
পার্বত্য এলাকায় বসবাসরত ১১টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নারী- পুরুষ ঐতিহ্যবাহী পোশাকে
অংশগ্রহণ করে।
লক্ষ্মীপুর: আনন্দ শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে লক্ষ্মীপুরে বাংলা
নববর্ষ উদযাপন করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার সকালে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সদর উপজেলা
পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়।
শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে জেলা কালেক্টরেট প্রাঙ্গণে গিয়ে
শেষ হয়।
পরে সেখানে বেলুন উড়িয়ে বাংলা নববর্ষ এবং তিন দিনব্যাপী লোকজ মেলার উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন- জেলা প্রশাসক এসএম মেহেদী হাসান। এ সময় বিভিন্ন
শ্রেণিপেশার মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা অংশ নেন।
নেত্রকোনা: ঐতিহাসিক মোক্তার পাড়া মাঠের মুক্ত মঞ্চে জাতীয় সংগীত ও এসো হে বৈশাখ
এসো এসো সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে নেত্রকোনায় পহেলা বৈশাখকে বরণ করে নেওয়া হয়।
সকাল ৯টার দিকে জেলা শহরের মোক্তারপাড়া মাঠ থেকে বৈশাখী শোভাযাত্রা বের করা হয়।
শোভাযাত্রায় জেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষা
প্রতিষ্ঠানের ছাত্র শিক্ষক, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ সমাজের নানা
শ্রেণিপেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত অংশ গ্রহণ করে।
সকাল ১০টায় বেলুন উড়িয়ে দিনব্যাপী বর্ষবরণ, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
উদ্বোধন করেন নেত্রকোনা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসনের সংসদ সদস্য, জেলা বিএনপির সভাপতি
বিশিষ্ট অর্থোপেডিক্স চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক। পরে অতিথিবৃন্দ মেলার
বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করে।
এছাড়াও জেলা শহরে মিতালী সংঘ, প্রত্যাশা সাহিত্য গোষ্ঠী, মধুমাছি কচি-কাঁচার মেলা,
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বাউল দল, নেত্রকোনা জেলা শাখা সহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক
সংগঠনের উদ্যোগে পৃথক পৃথক স্থানে র্যালি, গ্রামীন খেলাধুলা ও বৈশাখী মেলার আয়োজন
করে।
ময়মনসিংহ: আনন্দ শোভাযাত্রা ও দেশীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা আনন্দ আয়োজনের
মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষকে উদযাপন করেছে ময়মনসিংহের সকল শ্রেণিপেশার মানুষ। মোরগ,
ঘোড়া, পায়রা, টেপা পুতুল, ইলিশ পালকি, জেলে, কামার-কুমার কিংবা কৃষক সাজে এতে অংশ
নেয় অনেকেই। প্রথমবারের মতো সিটি করপোরেশনে উদ্যোগে আয়োজিত এই শোভাযাত্রায়
ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, ময়মনসিংহ-৫
(মুক্তাগাছা) মোহাম্মদ জাকির হোসেন এবং সিটি প্রশাসক মো. রোকনুজ্জামান রোকানসহ নানা
শ্রেণিপেশার মানুষ যোগ দেন। এরপর নগরীর ময়মনসিংহ মহাবিদ্যালয় থেকে আলাদা আরেকটি
আনন্দ শোভাযাত্রা বের করে জেলা প্রশাসন। শোভাযাত্রাটি জয়নুল আবেদিন উদ্যানে গিয়ে
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে। এ সময় সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া : ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপিত হয় পহেলা বৈশাখ।
মঙ্গলবার সকালে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে শহরের পৌর মুক্তমঞ্চ থেকে একটি বৈশাখী
শোভাযাত্রা বের হয়।
এতে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষ
বর্ণিল সাজে অংশগ্রহণ করে। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে
স্থানীয় ফারুকী পার্ক চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে লোকজ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান,
লাঠিখেলা, মোরগ লড়াইসহ নানা অনুষ্ঠান হয়।
এতে অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপি অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩
আসনের সংসদ সদস্য খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল, জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ, পুলিশ
সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফসহ আরও অনেকে। এদিকে ফারুকী পার্ক চত্বরে বসে দিনব্যাপী
লোকজ মেলা। এছাড়া শহরের শহীদ ধীরেন্দ্র নাথ দত্ত ভাষা চত্বরে ৭ দিনব্যাপী বৈশাখী
মেলার উদ্বোধন করা হয়েছে।
গোপালগঞ্জ: নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে গোপালগঞ্জে বাংলা নববর্ষকে বরণ করে নেওয়া
হয়েছে। সকাল সাড়ে ৬টায় গোপালগঞ্জ শহরের পৌরপার্কে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে
নববর্ষ পালনের কর্মসূচি শুরু করা হয়। পরে সেখানে এসো হে বৈশাখ গান গেয়ে পহেলা
বৈশাখকে বরণ করে নেওয়া হয়। এরপর হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এছাড়া শিশু একাডেমির
আয়োজনে চিত্রাঙ্কনসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ
করা হয়।
জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামানের নেতৃত্বে বের করা হয় বৈশাখীর বর্ণাঢ্য
শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রাটি জেলা শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন করে একই স্থানে গিয়ে
শেষ হয়।
জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এসব অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন
গোপালগঞ্জ-০২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদ
প্রশাসক শরীফ রফিকুজ্জামান, পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ, জেলা পরিষদের প্রধান
নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত কুমার দেবনাথ।
নওগাঁ: ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও বর্ণিল আয়োজনে নওগাঁয় নতুন বছরকে বরণ করা হয়েছে।
সকাল ৯টায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে শহরের এটিম মাঠ থেকে বের করা হয় একটি আনন্দ
শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিয়াম ল্যাবরেটরি
স্কুল অ্যান্ড কলেজ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।
শোভাযাত্রায় প্রধান অতিথি ছিলেন সদর আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধলু। এসময় জেলা
প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া সরকারি-বেসরকারি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন,
বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ
নেন শোভাযাত্রায়।
শেরপুর: অতীতের ভুলত্রুটি ও ব্যর্থতার গ্লানি ভুলে নতুন করে সুখ-শান্তি এবং সমৃদ্ধি
কামনায় শেরপুরে বর্ণিল আয়োজনে উদযাপিত হয় বাঙালির জাতিসত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ
প্রাণের উৎসব বাংলা বর্ষবরণ। বৈশাখী শোভাযাত্রা পুলিশ বাদকদলের ব্যান্ডের তালে তালে
শেরপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক
প্রদক্ষিণ শেষে ডিসি উদ্যানে গিয়ে শেষ হয়।
শোভাযাত্রায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী গরুর গাড়ি, পালকি,
হাতপাখা, একতারা, নানা রঙের ব্যানার-ফেস্টুনসহ গ্রাম-বাংলার বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে
অংশ নেন বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। পরে ডিসি উদ্যানে তিন দিনব্যাপী লোকজ মেলার
উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান।
এসময় জেলা পরিষদ প্রশাসক মামুনুর রশিদ পলাশ, পুলিশ সুপার মো. কামরুল ইসলাম,
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শাকিল আহমেদ, শেরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি
কাঁকন রেজা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান ভুঁঞা, পৌর প্রশাসক আরিফা
সিদ্দিকা, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবা হকসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের
কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, বিভিন্ন
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ অংশ নেন।

























