ওমান উপকূলে ভারতীয় পতাকাবাহী একটি জাহাজে হামলা হয়েছে। এই হামলায় জাহাজটি ডুবে
গেছে। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে নয়াদিল্লি। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ
ঘটনাকে অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেছে।
গত বুধবারের (১৩ মে) ওই হামলার পর সামুদ্রিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষকরা জানিয়েছে,
কার্গো জাহাজটি ডুবে গেছে। তবে হামলার জন্য কাকে দায়ী করা হচ্ছে, সে বিষয়ে ভারত
সরকার বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ওমান উপকূলে ভারতীয় পতাকাবাহী
জাহাজে হামলা অগ্রহণযোগ্য। বাণিজ্যিক জাহাজ ও বেসামরিক নাবিকদের লক্ষ্যবস্তু বানানো
অত্যন্ত উদ্বেগজনক। মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, জাহাজে থাকা সব ভারতীয় নাবিক নিরাপদে
আছেন এবং তাদের উদ্ধারে সহায়তা করায় ওমান কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়েছে ভারত।
সামুদ্রিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ভ্যানগার্ড জানিয়েছে, জাহাজটির নাম এমএসভি হাজি
আলী। এতে ১৪ জন নাবিক ছিলেন। ওমানের লিমাহ উপকূলের কাছে, যা হরমুজ প্রণালির দক্ষিণে
অবস্থিত— বিস্ফোরণের পর জাহাজটি ডুবে যায় বলে খবর পাওয়া গেছে।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, সোমালিয়ার বিচ্ছিন্নতাবাদী অঞ্চল সোমালিল্যান্ডের বেরবেরা
বন্দর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহে গবাদিপশু বহন করছিল জাহাজটি। পথে ড্রোন বা
ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভ্যানগার্ড জানিয়েছে, বিস্ফোরণের পর জাহাজে আগুন ধরে যায় এবং নাবিকরা জাহাজ ত্যাগ
করতে বাধ্য হন। পরে জাহাজটি ডুবে যায়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ
প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি করেছে ইরান। বিশ্বের প্রায়
এক-পঞ্চমাংশ তেল ও এলএনজি এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
অন্যদিকে, নাজুক যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে
নৌঅবরোধ চালিয়ে যাচ্ছে। হরমুজ প্রণালী ও উপসাগরীয় নৌপথে অস্থিরতার কারণে বিশ্ব
জ্বালানি বাজারে অস্থিতিশীলতা বেড়েছে, যা ভারতের মতো জ্বালানি আমদানিনির্ভর
দেশগুলোর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
ভারত বলেছে, বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্যবস্তু করা, নিরীহ নাবিকদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলা
এবং আন্তর্জাতিক নৌচলাচল ও বাণিজ্যে বাধা সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার ভারত ব্রিকস জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের আয়োজন
করেছে। এতে অংশ নিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
নয়াদিল্লিতে বক্তব্য দেওয়ার সময় আরাগচি হামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ না করলেও বলেন, যারা
ইরানের নৌবাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা করবে, তাদের জন্য হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত রয়েছে।
























