Ajker Digonto
শনিবার , ২২ অক্টোবর ২০২২ | ৯ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. অর্থনীতি
  4. আইন- আদালত
  5. আইন-আদালত
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আলোচিত মামলা
  8. খুলনা
  9. খেলা
  10. খেলাধুলা
  11. চট্টগ্রাম
  12. চট্টগ্রাম বিভাগ
  13. জাতীয়
  14. ঢাকা
  15. তথ্য প্রযুক্তি

আইন করেও নিরাপদ করা যায়নি সড়ক

প্রতিবেদক
আজকের দিগন্ত ডেস্ক
অক্টোবর ২২, ২০২২ ১১:৫৭ পূর্বাহ্ণ

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রণয়ন করা হয়েছিল সড়ক পরিবহন আইন। চার বছর আগে এই আইনটি প্রণীত হলেও তা কার্যকরে আজও বিধিমালা প্রণয়ন করা সম্ভব হয়নি। যদিও আইন প্রণয়নের ছয় মাসের মধ্যে এই বিধিমালা প্রণয়ন করার কথা। কিন্তু সড়ক পরিবহন মালিক ও শ্রমিক ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দের অদৃশ্য চাপের কারণে এই বিধিমালা চূড়ান্ত হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন নিরাপদ সড়ক নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠন।

এ প্রসঙ্গে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, সরকার আইন করেছে কিন্তু বিধিমালা করেনি। বিধিমালা না হওয়ার কারণে আইনের গুরুত্বপূর্ণ ধারাগুলো বাস্তবায়িত হচ্ছে না। ফলে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরছে না। একের পর এক সড়ক দুর্ঘটনায় বিপুল সংখ্যক মানুষের প্রাণহানি ঘটছে। তিনি বলেন, সড়ক পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা চান না এই আইনটি কার্যকর হোক। কারণ আইনটি পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হলে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে। সড়কে শৃঙ্খলা ফিরলে এক শ্রেণির নেতার চাঁদাবাজিও বন্ধ হয়ে যাবে।

‘জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস’ আজ :আজ ‘জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস’। সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে দিনটিতে জনসচেতনতা তৈরির নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়। নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) সংগঠন দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে সড়ককে নিরাপদ করার লক্ষ্যে আন্দোলন করে আসছে। সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের নজিরবিহীন আন্দোলনের পরও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরেনি। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর নেতৃত্বে আছে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল। সড়ক নিরাপত্তা উপদেষ্টা পরিষদ নামে আরেকটি শীর্ষ ফোরামের নেতৃত্বেও তিনি। দুটি শীর্ষ কমিটিতে প্রায় সব মন্ত্রণালয়ের সচিব-কর্মকর্তা ছাড়াও বিশেষজ্ঞরা আছেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের আছে নিরাপদ সড়কসংক্রান্ত আলাদা সেল। এসব ফোরামে বৈঠক হয়, সিদ্ধান্ত হয়, কমিটি হয়, তবে সিদ্ধান্ত বা সুপারিশ বাস্তবায়িত হয় কমই। ফলে সড়কে প্রাণহানি বাড়ছে প্রতি বছর ।

নিরাপদ সড়ক চাই-এর (নিসচা) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, সড়ক নিরাপদ না হওয়া আমাদের জন্য দুঃখজনক। দিন দিন সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েই চলছে। নিরাপদ সড়কের জন্য আমরা দীর্ঘদিন আন্দোলন চালিয়ে আসছি। আইনটি বাক্সবন্দি হয়ে ছিল। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে নতুন আইন পাশ হয়। কিন্তু এখনো নানা অজুহাতে আইনটি পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হয়নি।

ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ২০১৮ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে পাশ হয় সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮। চার বছর পার হলেও তা বাস্তবায়নের বিধিমালা তৈরি হয়নি। ফলে সড়ককে নিরাপদ করতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ ও আইনের বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, সড়ক পরিবহন বিধিমালা দ্রুত জারি ও এর যথাযথ বাস্তবায়নের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।

এদিকে সড়ক পরিবহন আইনের বিধিমালা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে রোড সেফটি কোয়ালিশন বাংলাদেশ। কোয়ালিশনের নেতৃবৃন্দ বলেছেন, বিধিমালায় আইনের বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে বলা থাকে। সে কারণে বিধিমালা ছাড়া আইনটি কার্যকর হচ্ছে না। ফলে সড়কে প্রতিষ্ঠা হচ্ছে না শৃঙ্খলা, বাড়ছে মৃত্যু। সড়ক পরিবহন বিধিমালা দ্রুত জারি ও এর যথাযথ বাস্তবায়নের জন্য সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নেবে সেই প্রত্যাশা করেন নেতারা।  বাংলাদেশ  প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (এআরআই) হিসাব মতে, ২০১৬ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ছয় বছরে ২১ হাজার ৬৬২ জন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। গত সাত মাসে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ২ হাজার ৪৫১টি। এর অর্ধেকের বেশি ১ হাজার ৩৫১টি দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাস, ট্রাক ও মোটরসাইকেল।

সড়কে প্রতিদিন ৬৪ মৃত্যু

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘সমিতির পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রতি বছর প্রায় ৮ হাজারের বেশি প্রাণহানির তথ্য মিলেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, সড়কে প্রতিদিন ৬৪ জন মানুষের প্রাণহানি ঘটছে। এই তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রতি বছর সড়ক দুর্ঘটনায় ২৩ হাজার ৩৬০ জন মানুষের প্রাণহানি হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ মানুষ আহত হচ্ছে।’ তিনি জানান,  প্রতি বছর সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ৮০ হাজার মানুষ  প্রতিবন্ধী হয়ে পড়ছে। এর মধ্যে ১২ হাজারের বেশি ১৭ বছরের কম বয়সি শিশু। এ হিসাবে দেখা যায়, প্রতিদিন গড়ে ২২০ জন মানুষ প্রতিবন্ধী হচ্ছে কেবল সড়ক দুর্ঘটনায়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, সারা বিশ্বে প্রতি বছর সড়ক দুর্ঘটনায় ১৩ লাখ মানুষ মারা যায়। বাংলাদেশে মারা যায় ২৪ হাজার ৯৫৪ জন। সংস্থাটির তথ্য মতে, হতাহতদের ৬৭ শতাংশই ১৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সি। আর বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনাজনিত জিডিপির ক্ষতি হয় ৫.৩ শতাংশ। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে ৩ হাজার ৫০২ জন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২৬ বছর আগে চট্টগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন ইলিয়াস কাঞ্চনের স্ত্রী জাহানারা কাঞ্চন। এরপর তিনি গড়ে তোলেন সামাজিক আন্দোলন ‘নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)’।  ২২ অক্টোবর জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস এবং জাহানারা কাঞ্চনের ২৬তম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১৭ সালে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ২২ অক্টোবরকে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর পর ২০১৮ সালের ২৯ জুলাই ঢাকার বিমানবন্দর সড়কে দুই কলেজ শিক্ষার্থী বাসের ধাক্কায় মারা যাওয়ার পর শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অচল হয়ে পড়েছিল দেশ। তখন সড়কে মৃত্যুর মিছিল ঠেকাতে আইন কঠোর করার পাশাপাশি নানা আশ্বাস দিয়ে শিক্ষার্থীদের ঘরে ফেরানো গেলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি।

সর্বশেষ - অন্যান্য