লিবিয়ার সাবেক শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি নিহত হয়েছেন।
সরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাতে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) এ তথ্য জানা
গেছে।
সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফির আইনজীবী খালেদ আল-জাইদি এবং তার রাজনৈতিক উপদেষ্টা
আবদুল্লাহ ওসমান সামাজিক মাধ্যমে আলাদা পোস্টে ৫৩ বছর বয়সী গাদ্দাফির মৃত্যুর খবর
নিশ্চিত করেন। তবে তারা ঘটনার বিস্তারিত জানাননি। খবর আল জাজিরার।
লিবিয়ার সংবাদমাধ্যম ফাওয়াসেল মিডিয়া জানায়, রাজধানী ত্রিপোলি থেকে প্রায় ১৩৬
কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে জিনতান শহরে নিজ বাসভবনে সশস্ত্র ব্যক্তিদের হামলায় নিহত
হন সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি।
পরে তার রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, চারজন মুখোশধারী ব্যক্তি
বাড়িতে ঢুকে তাকে হত্যা করে। বিবৃতিতে একে ‘কাপুরুষোচিত ও বিশ্বাসঘাতক হত্যাকাণ্ড’
বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে আরো বলা হয়, হামলাকারীদের সঙ্গে সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফির ধস্তাধস্তি হয় এবং
তারা বাড়ির নিরাপত্তা ক্যামেরা বন্ধ করে দেয়, যাতে ঘটনার আলামত গোপন রাখা যায়।
ত্রিপোলিভিত্তিক আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত রাষ্ট্রীয় সংস্থা হাই স্টেট কাউন্সিলের
সাবেক প্রধান খালেদ আল-মিশরি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জরুরি ও স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান
জানিয়েছেন।
সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফির কোনো আনুষ্ঠানিক সরকারি পদ ছিল না। তবে ২০০০ থেকে ২০১১ সাল
পর্যন্ত তাকে তার বাবার কার্যত ‘দ্বিতীয় ব্যক্তি’ হিসেবে বিবেচনা করা হতো। ২০১১
সালে লিবিয়ার বিরোধী শক্তির হাতে মুয়াম্মার গাদ্দাফি নিহত হলে তার দীর্ঘ শাসনের
অবসান হয়।
২০১১ সালে ত্রিপোলি পতনের পর দেশ ছাড়ার চেষ্টা করলে জিনতানে আটক হন সাইফ আল-ইসলাম
গাদ্দাফি। পরে ২০১৭ সালে সাধারণ ক্ষমার আওতায় মুক্তি পান। এরপর থেকে তিনি জিনতানেই
বসবাস করছিলেন।
১৯৭২ সালের জুনে ত্রিপোলিতে জন্ম নেওয়া সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি ছিলেন মুয়াম্মার
গাদ্দাফির দ্বিতীয় সন্তান। লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস থেকে পড়াশোনা করা এই নেতা
দীর্ঘদিন নিজেকে একজন সংস্কারক হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি সংবিধান প্রণয়ন,
মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা এবং পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের কথা বলতেন।
২০০০-এর দশকের শুরুতে লিবিয়ার গণবিধ্বংসী অস্ত্র কর্মসূচি পরিত্যাগ এবং লকারবি
বিমান হামলায় নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন
তিনি।
তবে ২০১১ সালে লিবিয়ায় গণবিদ্রোহ শুরু হলে সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি পরিবারের পক্ষ
নেন। বিরোধীদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়নে তিনি কঠোর অবস্থান নেন এবং আন্দোলনকারীদের
‘ইঁদুর’ বলে আখ্যা দেন।
সে সময় রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, লিবিয়ায় রক্তের নদী বইবে এবং
সরকার শেষ গুলি পর্যন্ত লড়াই করবে।
২০১১ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) তাকে
অভিযুক্ত করে। একই বছর তাকে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
২০১৫ সালে ত্রিপোলির একটি আদালত তাকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেন।
২০২১ সালে তিনি বিতর্কিতভাবে লিবিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা
দেন। তবে আগের দণ্ডের কারণে তাঁর প্রার্থিতা বাতিল করা হয়। এ নিয়ে সৃষ্ট বিরোধ ও
আইনি জটিলতার মধ্যেই শেষ পর্যন্ত নির্বাচন প্রক্রিয়া ভেঙে পড়ে এবং দেশটি ফের
রাজনৈতিক অচলাবস্থায় ফিরে যায়।

























