মাদারীপুর শহরের স্বাধীনতা অঙ্গনে এক নির্বাচনি জনসভায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের
আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করিম তাঁর দলের ভবিষ্যৎ রূপরেখা
তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল দেশবাসীকে ‘সবুজ বাংলা’ কিংবা
‘ডিজিটাল বাংলা’র স্বপ্ন দেখালেও জনগণের ভাগ্যের প্রকৃত পরিবর্তন হয়নি। এই
প্রেক্ষাপটে তিনি ঘোষণা করেন যে, “ইসলামী আন্দোলন ক্ষমতায় গেলে ‘স্বর্ণের বাংলা’
নির্মাণ করবে।” তাঁর মতে, দেশের একমাত্র রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে ইসলামী আন্দোলনই
সঠিক নীতির মাধ্যমে জনগণের মুক্তি নিশ্চিত করতে সক্ষম।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রয়ারি) সন্ধ্যায় মাদারীপুর শহরের স্বাধীনতা অঙ্গনে নির্বাচনী
জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় ইসলামের সুমহান আদর্শের কথা
উল্লেখ করে রেজাউল করিম বলেন, “ইসলাম শুধু মুসলিমের জন্য নয়, মানুষের জন্য নয়; এটি
একটি পিপীলিকার স্বাধীনতার জন্যও, এর নামই হলো ইসলাম।” তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বিগত
৫৪ বছরে দেশে অনেক নেতা ও দলের শাসন প্রত্যক্ষ করা গেলেও সাধারণ মানুষ যা চেয়েছিল,
তা আজও অধরা রয়ে গেছে। বিশেষ করে চাঁদাবাজি ও অর্থ পাচারের মতো অপরাধগুলো বন্ধ না
হওয়ায় ব্যবসায়ীরা শান্তিতে ব্যবসা করতে পারছেন না। এই অস্থিতিশীলতা ও দুর্নীতির
অবসান ঘটাতে তিনি ‘হাতপাখা’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান।
জনসাধারণের নিরাপত্তার গুরুত্ব তুলে ধরে চরমোনাই পীর সতর্ক করে বলেন, “আরও মায়ের
কোল খালি করতে না চাইলে শান্তির জন্য হাতপাখা মার্কায় ভোট দিতে হবে।” একই সাথে
দেশের সম্পদ রক্ষা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “চাঁদার
মাধ্যমে দেশের মধ্যে অশান্তির আগুন জ্বালাতে না চাইলে, দেশের টাকা বিদেশে পাচার
করতে না চাইলে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে বিজয় করতে হবে।”
তিনি বিশ্বাস করেন, ইসলামের অনুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে দেশ একটি প্রকৃত সমৃদ্ধ
রাষ্ট্রে পরিণত হবে।
মাদারীপুর জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক মাওলানা আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই
বিশাল সমাবেশে দলের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করিমসহ
কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভায় বক্তারা দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন
এবং ইনসাফ কায়েমে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীদের বিজয়ী করার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা
করেন। মাদারীপুরের বিভিন্ন সংসদীয় আসনের প্রার্থীরাও এ সময় নিজ নিজ নির্বাচনি
পরিকল্পনা তুলে ধরে জনসাধারণের সমর্থন প্রার্থনা করেন।






















