ঋণ অনিয়মের কারণে সংকটে পড়া পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক
প্রতিষ্ঠান উত্তরা ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের বিদ্যমান পরিচালনা
পর্ষদ বিলুপ্ত করে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে কোম্পানিটি এই
তথ্য নিশ্চিত করেছে। ফাইন্যান্সিয়াল কোম্পানি আইন, ২০২৩ অনুযায়ী কেন্দ্রীয় ব্যাংক
এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় নতুন বোর্ডে মোট পাঁচজন পরিচালক নিয়োগ দিয়েছে। নবগঠিত এই
পরিচালনা পর্ষদে স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়েছেন মো. মুখতার
হোসেন। বোর্ডের অন্য স্বতন্ত্র পরিচালকরা হলেন— মোহাম্মদ শাফিউল আজম, মো. নিয়ামুল
কবির এবং মো. রফিকুল ইসলাম (এফসিএস)। এছাড়া পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো.
মাহবুব আলম।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, ‘আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সুশাসন ও কার্যক্রমে স্বচ্ছতা
নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন পরিচালনা পর্ষদের মাধ্যমে উত্তরা
ফাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা
হচ্ছে।’ পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি হিসেবে নিয়মিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের
বাধ্যবাধকতা থাকলেও উত্তরা ফাইন্যান্স ২০১৯ সালের পর থেকে তা প্রকাশ করছে না। তবে
গত বছরের ৬ অক্টোবর প্রকাশিত ২০২০ সালের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২০ সালের
৩১ ডিসেম্বর শেষে কোম্পানির সুদ বাবদ লোকসান হয়েছে ৬১ কোটি ১৮ লাখ টাকা এবং ওই বছরে
পরিচালন লোকসান দাঁড়িয়েছে ১০৮ কোটি ৩২ লাখ টাকা। সব ব্যয় মেটানোর পর কোম্পানিটির কর
পরবর্তী নিট লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৩৫ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ হিসাব বছর শেষে কোম্পানির মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৭১১ কোটি
৫৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে যোগ্য মূলধন ঘাটতি ৫৯ কোটি ৩৪ লাখ টাকা এবং ঝুঁকিপূর্ণ
সম্পদের ওপর ভিত্তি করে প্রয়োজনীয় মূলধন ঘাটতি ৬৫২ কোটি ২১ লাখ টাকা। মূলত
প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ভিত্তি অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়া এবং দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা
দূর করতেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক পর্ষদ পুনর্গঠনের এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। নতুন
পর্ষদ দায়িত্ব গ্রহণের ফলে আমানতকারী ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং
প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ফিরে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
























