বাংলাদেশের শ্যুটিং অঙ্গনে একের পর এক প্রতিভাবান শ্যুটারের বিদায় বড় ধরনের সংকটের
ইঙ্গিত দিচ্ছে। শোভন চৌধুরী ও অর্নব শারারের দেশ ছাড়ার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার
শ্যুটিংকে বিদায় জানিয়ে দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এই সময়ের অন্যতম
প্রতিশ্রুতিশীল শ্যুটার শায়রা আরেফিন। মাত্র ১৮ বছর বয়সে দেশের শ্যুটিং ইতিহাসে
অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স দেখানো এই শ্যুটার নতুন জীবনের খোঁজে ইউরোপের দেশ
জার্মানিতে পাড়ি জমাচ্ছেন। তাঁর এই আকস্মিক প্রস্থানের খবরে দেশের শ্যুটিং ভবিষ্যৎ
ও দীর্ঘমেয়াদী অলিম্পিক পরিকল্পনা বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে।
হাংঝু এশিয়ান গেমসে ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে ৬২৮ পয়েন্ট অর্জন করে শায়রা দেশের
পক্ষে সর্বোচ্চ স্কোরের রেকর্ড গড়েছিলেন। সেই অসামান্য সাফল্যের ওপর ভিত্তি করেই
তাঁকে ঘিরে বাংলাদেশ শ্যুটিং স্পোর্টস ফেডারেশন একটি সুনির্দিষ্ট অলিম্পিক রোডম্যাপ
তৈরি করেছিল। এমনকি আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি থেকেও তাঁর জন্য বিশেষ স্কলারশিপের
ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তবে বর্তমানে শায়রার অনুপস্থিতি ও বিদেশ যাওয়ার সিদ্ধান্তে
সেই বিশেষ স্কলারশিপও ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ফেডারেশন সূত্রে জানা
গেছে, প্রায় মাসখানেক ধরে জাতীয় শ্যুটিং ক্যাম্পে তাঁর কোনো উপস্থিতি নেই। যদিও
প্রাথমিকভাবে ব্যক্তিগত ছুটির কথা বলা হয়েছিল, তবে প্রকৃত তথ্য অনুযায়ী, বাগদান
সম্পন্ন হওয়ার পর জার্মানিতে স্থায়ী হওয়ার লক্ষ্যেই তিনি শ্যুটিং থেকে নিজেকে সরিয়ে
নিচ্ছেন।
শ্যুটিংয়ের মতো সূক্ষ্ম ও একাগ্রতার খেলায় ধারাবাহিক অনুশীলন অপরিহার্য। একজন
শ্যুটার দীর্ঘ সময় ক্যাম্পের বাইরে থাকলে তাঁর মানসিক প্রস্তুতি ও ফোকাস ধরে রাখা
অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের মতে, শায়রার এই সিদ্ধান্তে পুরো দলের
প্রস্তুতির ধারাবাহিকতা ভেঙে পড়েছে। তাঁর জায়গায় এখন নতুন কাউকে তৈরি করা বা বিকল্প
পরিকল্পনা গ্রহণ করা কর্তৃপক্ষের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ। সংশ্লিষ্ট কোচ ও
কর্মকর্তারা মনে করছেন, শায়রার মতো প্রতিভাবান শ্যুটারের বিদায় শুধু একজন খেলোয়াড়ের
চলে যাওয়া নয়, বরং দেশের একটি সুপরিকল্পিত অলিম্পিক স্বপ্নের অপমৃত্যু।
বাংলাদেশের শ্যুটিং ফেডারেশন বর্তমানে প্রতিভা ও বাস্তবতার এক কঠিন সন্ধিক্ষণে
দাঁড়িয়ে আছে। শায়রার দক্ষতা তাঁকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার
সম্ভাবনা তৈরি করেছিল, কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনের অগ্রাধিকার এখন সেই সম্ভাবনাকে
ম্লান করে দিয়েছে। এশিয়ান গেমস ও বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের মতো আসরে তাঁর ধারাবাহিক
স্কোর বাংলাদেশের শ্যুটিংয়ের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত ছিল। তাঁর অনুপস্থিতিতে এখন
আন্তর্জাতিক ক্যালেন্ডার ও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের হিসাব নতুন করে কষতে হচ্ছে
কর্তৃপক্ষকে। শায়রার এই প্রস্থান দেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য একটি বড় ক্ষতি হিসেবে
দেখা হচ্ছে, যা প্রমাণ করে যে দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য অর্জনে খেলোয়াড়দের ধারাবাহিক
উপস্থিতি ও সংকল্প কতটুকু জরুরি।























