উত্তর আমেরিকার (যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা) বক্স অফিসে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করে এক
নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে এবারের ঈদুল ফিতরে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘বনলতা
এক্সপ্রেস’। আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলা সিনেমার জয়যাত্রা অব্যাহত রেখে মাত্র দুই
সপ্তাহের মাথায় ছবিটি ছাড়িয়ে গেছে এ যাবৎকালে উত্তর আমেরিকায় আয়ের শীর্ষে থাকা
সিনেমা ‘হাওয়া’-র লাইফটাইম গ্রস কালেকশনকে। এর মাধ্যমে বিদেশের মাটিতে ঢালিউডের
সবচেয়ে সফল সিনেমার তকমা এখন ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর দখলে।
শুক্রবার আন্তর্জাতিক বক্স অফিস ট্র্যাকার ‘কমস্কোর’ এবং সিনেমাটির বিশ্ব পরিবেশক
সংস্থা ‘স্বপ্ন স্কেয়ারক্রো’ এই ঐতিহাসিক রেকর্ডের তথ্যটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত
করেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত ‘হাওয়া’ সিনেমাটি উত্তর
আমেরিকার বাজার থেকে মোট ৩ লাখ ৫৮ হাজার মার্কিন ডলার আয় করেছিল। কিন্তু তানিম নূর
পরিচালিত ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ মুক্তির মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যেই ৩ লাখ ৬১ হাজার
মার্কিন ডলার আয় করে সেই দীর্ঘদিনের রেকর্ড ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। বর্তমানে উত্তর
আমেরিকার ৫৪টি প্রেক্ষাগৃহে সফলতার সঙ্গে প্রদর্শিত হওয়া এই সিনেমাটি আয়ের দিক থেকে
এখন সবার শীর্ষে অবস্থান করছে।
সিনেমাটির এই অভাবনীয় সাফল্যে সংশ্লিষ্ট মহলে বইছে আনন্দের জোয়ার। পরিচালক তানিম
নূর দর্শকদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, এই অর্জন কেবল একটি
সিনেমার নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলা সিনেমার অমিত সম্ভাবনার এক অনন্য
স্বীকৃতি। এটি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বাংলাভাষী দর্শকদের দেশীয় চলচ্চিত্রের প্রতি
প্রবল আকর্ষণেরই বহিঃপ্রকাশ। ছবির এই ব্যবসায়িক সাফল্যে উচ্ছ্বসিত হয়ে সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যমে আনন্দ ভাগ করে নিয়েছেন সিনেমার অন্যতম অভিনয়শিল্পীরাও।
‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমাটি বুড়িগঙ্গা টকিজ প্রযোজনা করেছে এবং এর সহ-প্রযোজনায়
রয়েছে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হইচই প্রোডাকশন। একঝাঁক শক্তিমান ও জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পীর
উপস্থিতি সিনেমাটিকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ছবিটির প্রধান চরিত্রগুলোতে অভিনয়
করেছেন মোশাররফ করিম, চঞ্চল চৌধুরী, ইন্তেখাব দিনার, জাকিয়া বারী মম, আজমেরী হক
বাঁধন, সাবিলা নূর এবং শরীফুল রাজের মতো তারকারা। মূলত গল্পের নিপুণ গাঁথুনি আর
শক্তিশালী অভিনয়ের মেলবন্ধনেই বিদেশের মাটিতে এমন ইতিহাস গড়া সম্ভব হয়েছে বলে মনে
করছেন চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা।
উল্লেখ্য যে, গত শুক্রবার থেকে উত্তর আমেরিকা এবং যুক্তরাজ্যের মোট ২২টি
প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটি তৃতীয় সপ্তাহের মতো প্রদর্শিত হচ্ছে। বক্স অফিসের এই
উর্ধ্বমুখী গ্রাফ দেখে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন যে, সামনের দিনগুলোতে আয়ের এই অংক
আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর এই জয়জয়কার বিশ্ব চলচ্চিত্র বাজারে
বাংলাদেশের শৈল্পিক ও বাণিজ্যিক সক্ষমতাকে নতুনভাবে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে, যা আগামী
দিনের নির্মাতাদের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। সব মিলিয়ে বিদেশের মাটিতে
বাংলা সিনেমার নতুন এক সোনালী যুগের সূচনা করল ‘বনলতা এক্সপ্রেস’।

























