বাংলাদেশের নাট্যাঙ্গন ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব, বিশিষ্ট অভিনেতা
ও নাট্যনির্দেশক আতাউর রহমান পরলোকগমন করেছেন। দীর্ঘ দশ দিন হাসপাতালের নিবিড়
পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) যমে-মানুষে লড়াই করার পর সোমবার দিবাগত রাতে রাজধানীর
একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর চিরবিদায়ের সংবাদটি
নিশ্চিত করেছেন অভিনেতা রওনক হাসান।
বিদেহী আত্মার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করে রওনক হাসান বলেন, “স্বাধীনতা
পদকপ্রাপ্ত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, মঞ্চসারথি আতাউর রহমান না ফেরার দেশে চলে গেলেন।
আমরা তার আত্মার শান্তি কামনা করছি।”
পারিবারিক ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার নিজ বাসভবনে আকস্মিক পড়ে গিয়ে
আতাউর রহমানের শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটে। তৎক্ষণাৎ তাঁকে গুলশানের একটি
হাসপাতালে নেওয়া হলেও সেখানে আইসিইউ সুবিধা না থাকায় পরবর্তীতে ধানমন্ডির একটি
হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পরপরই তাঁকে কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাসের
(লাইফ সাপোর্ট) সহায়তায় রাখা হয়েছিল। মাঝে অবস্থার সামান্য উন্নতি হওয়ায় একবার লাইফ
সাপোর্ট সরিয়ে নেওয়া হলেও রোববার পুনরায় তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং শেষ
পর্যন্ত তিনি পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী এবং এক ছেলে ও এক
মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
১৯৪১ সালের ১৮ জুন নোয়াখালীতে জন্ম নেওয়া আতাউর রহমান ছিলেন এদেশের শিল্প-সংস্কৃতির
এক বহুমাত্রিক আলোকবর্তিকা। নাট্যজন, অভিনেতা ও লেখক হিসেবে তাঁর পরিচিতি
সর্বজনবিদিত। বিশেষ করে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে আধুনিক
মঞ্চনাটক আন্দোলনের তিনি ছিলেন অন্যতম পথিকৃৎ। দেশের সংস্কৃতি ও নাট্যকলায় অসামান্য
অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ রাষ্ট্র তাঁকে একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদকের মতো সর্বোচ্চ
সম্মানে ভূষিত করেছে। তাঁর মৃত্যুতে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতার
সৃষ্টি হয়েছে

























