দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের বর্তমান চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতি মোকাবিলায় গত মঙ্গলবার
অর্থ সচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে মিলিত হয়েছে বাংলাদেশ
পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)-এর একটি প্রতিনিধিদল।
বিজিএমইএ-এর সহ-সভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বে এই প্রতিনিধিদলে ছিলেন
সহ-সভাপতি মো. রেজোয়ান সেলিম, সহ-সভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান এবং পরিচালক ফয়সাল
সামাদ, যারা রপ্তানি সচল রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে নীতিগত ও জরুরি আর্থিক সহায়তার
অনুরোধ জানান।
বৈঠকে নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন যে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ নানা
প্রতিকূলতায় শিল্পটি এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে এবং “বৈশ্বিক অস্থিরতা ও
অভ্যন্তরীণ নানা চ্যালেঞ্জের কারণে চলতি অর্থবছরের প্রথম ৭ মাসে পোশাক রপ্তানি
প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৪৩% হ্রাস পেয়েছে এবং ২০২৫-এর অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর, এই তিন
মাসে পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের তুলনায় তৈরি পোশাকের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি গড়ে ৯
দশমিক ৪৩% হ্রাস পেয়েছে।”
প্রতিনিধিদল অর্থ সচিবের নিকট উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান যে, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও
অর্ডার কমে যাওয়ার ফলে গত এক বছরে প্রায় ৪০০টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে এবং
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও পবিত্র ঈদুল ফিতরের কারণে ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে কর্মদিবস
কমে যাওয়ায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এসএমই) প্রতিষ্ঠানগুলো বেতন-বোনাস পরিশোধে চরম সংকটে
পড়বে। ৬০ দিনের মধ্যে কারখানা মাত্র ৩৫ দিন খোলা থাকলেও মার্চ মাসে নিয়মিত বেতনের
পাশাপাশি বোনাস এবং অগ্রিম বেতন মিলিয়ে কারখানাগুলোকে প্রায় দ্বিগুণ মজুরি পরিশোধ
করতে হবে, যা সময়মতো দিতে না পারলে শিল্পে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলে তারা সতর্ক
করেন। এই পরিস্থিতি উত্তরণে বিজিএমইএ দুটি সুস্পষ্ট অনুরোধ জানিয়ে বলেছে, “লিয়েন
ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রক্রিয়াধীন থাকা বকেয়া নগদ সহায়তার আবেদনগুলো দ্রুত
নিষ্পত্তি করে অর্থ ছাড়করণের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান” করতে হবে এবং
শ্রমিকদের পাওনা নিশ্চিত করতে “সফট লোন” বা স্বল্প সুদে সহজ শর্তে ৬ মাসের বেতনের
সমপরিমাণ ঋণ প্রদানসহ অন্যান্য জরুরি সহযোগিতা প্রদান করতে হবে। অর্থ সচিব মো.
খায়েরুজ্জামান মজুমদার বিজিএমইএ প্রতিনিধিদলের প্রস্তাবসমূহ গুরুত্বসহকারে শোনেন
এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ইতিবাচক আশ্বাস প্রদান
করেন।

























