ইরানকে নতুন করে হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হরমুজ প্রণালি
না খুললে ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালানো হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
সোমবার আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানের খারগ দ্বীপ এবং তেল, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
স্থাপনায় হামলা চালানো হবে। হরমুজ প্রণালি ব্যবস্থার জন্য দ্রুত খুলে না দিলে এ
ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন,
কোনো সমঝোতা দ্রুত না হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, তেলক্ষেত্র
এবং খার্গ দ্বীপ লক্ষ্য করে হামলা চালাতে পারে।
তিনি দাবি করেন, আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তবে সমঝোতা না হলে পরিস্থিতি
আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠবে। এর আগে ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের
কোনো সরাসরি আলোচনা হয়নি, তবে বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান
হয়েছে। এ মধ্যস্থতাকারীদের মধ্যে পাকিস্তানের নামও উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানের তেলশিল্পের নিয়ন্ত্রণ নিতে চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ
প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ইরানে তার ‘অগ্রাধিকার হবে তেলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া’।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি জোরদারের প্রেক্ষাপটে ব্রিটিশ
সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এ কথা বলেন।
ট্রাম্প গত রোববার ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে সাক্ষাৎকারটি দেন। ইরানের তেলশিল্পের
নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে সম্ভাব্য এ পদক্ষেপের সঙ্গে তিনি ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতির তুলনা
করেন।
যুক্তরাষ্ট্র গত জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার প্রতাপশালী নেতা নিকোলা মাদুরোকে তুলে নিয়ে
যায়। এরপর দেশটির তেলশিল্পকে ‘অনির্দিষ্টকালের জন্য’ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার
পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন।
ট্রাম্পের এ মন্তব্য এমন সময়ে এল, যখন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ
মধ্যপ্রাচ্যকে গভীর সংকটে ফেলেছে। বিশ্ববাজারে তেলের দাম হঠাৎ করে বেড়ে গেছে। মাত্র
এক মাসে তেলের দাম ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। সোমবার এশিয়ার বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের
দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৬ ডলার ছাড়িয়ে যায়, যা এই সংঘাত শুরুর পর থেকে সর্বোচ্চের
কাছাকাছি।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাঘেই বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের
প্রস্তাবিত ১৫ দফা পরিকল্পনাকে তেহরান ‘অতিরিক্ত ও অযৌক্তিক’ হিসেবে দেখছে। তিনি
আরও বলেন, আলোচ্য বিষয়গুলোতে ইরানের অবস্থান স্পষ্ট এবং দেশটি নিজস্ব কাঠামোর
ভিত্তিতেই এগোচ্ছে।
তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। বলেন, আমেরিকায় কতজন
মানুষ তাদের কূটনৈতিক দাবিকে গুরুত্ব দেয়, তা নিয়েই প্রশ্ন আছে। আমাদের অবস্থান
শুরু থেকেই পরিষ্কার, কিন্তু অন্য পক্ষ বারবার অবস্থান পরিবর্তন করছে।
বাঘেই জানান, ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোকে শত্রু হিসেবে দেখে না। বরং তাদের সঙ্গে
সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। তিনি বলেন, ইরানের সামরিক
পদক্ষেপ কেবল সেইসব ঘাঁটি ও স্থাপনাকে লক্ষ্য করে, যেগুলো থেকে ইরানের ওপর হামলা
চালানো হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, সৌদিআরবসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ইরানের
কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রয়েছে। সংঘাত থেকে দূরে থাকার জন্য কিছু আঞ্চলিক দেশকে
ধন্যবাদও জানিয়েছেন তিনি।

























