লন্ডনের এমিরেটস স্টেডিয়ামে এক স্নায়ুচাপের লড়াই শেষে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের
সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে আর্সেনাল। কোয়ার্টার ফাইনালের ফিরতি লেগের রোমাঞ্চকর
ম্যাচে পর্তুগিজ ক্লাব স্পোর্টিং সিপির বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করলেও, প্রথম লেগের
অর্জিত লিডই শেষ পর্যন্ত মিকেল আর্তেতার দলের জন্য রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করেছে। দুই
লেগ মিলিয়ে ১-০ অগ্রগামিতায় ইউরোপ সেরার এই প্রতিযোগিতার শেষ চারে পা রাখল গানাররা।
ম্যাচের শুরু থেকেই ঘরের মাঠে দাপট দেখানোর চেষ্টা করেছে আর্সেনাল। মাঠের নিয়ন্ত্রন
নিজেদের দখলে রেখে প্রায় ৫৫ শতাংশ সময় বল পায়ে রাখে স্বাগতিক ফুটবলাররা। পরিসংখ্যান
অনুযায়ী, আর্সেনাল প্রতিপক্ষের গোলবার লক্ষ্য করে মোট ১৬টি শট নেয়, যদিও ফিনিশিংয়ের
অভাবে এর মধ্যে মাত্র একটি ছিল লক্ষ্যভেদী। অন্যদিকে, স্পোর্টিং সিপিও ছেড়ে কথা
বলেনি। ৪৫ শতাংশ বল পজেশন নিয়ে তারা ১০ বার আর্সেনালের রক্ষণ পরীক্ষা করার চেষ্টা
করে। স্বাগতিকদের জন্য সবচেয়ে আক্ষেপের মুহূর্ত ছিল লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ডের একটি
আক্রমণ, যার হেডটি দুর্ভাগ্যবশত গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসে।
লিসবনে অনুষ্ঠিত প্রথম লেগের ম্যাচে কাই হাভার্টজের গোলে জয় পাওয়ায় মানসিকভাবে
কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে ছিল আর্সেনাল। তবে ফিরতি লেগে স্পোর্টিং সিপি শুরু থেকেই
আর্সেনালকে চাপে রাখার কৌশল অবলম্বন করে। বিশেষ করে ম্যাচের শেষ দিকে পর্তুগিজ
ক্লাবটি গোলের বেশ কিছু সুবর্ণ সুযোগ তৈরি করেছিল। তবে গোলপোস্টের নিচে অতন্দ্র
প্রহরী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ডেভিড রায়া এবং আর্সেনাল রক্ষণভাগের ইস্পাত-দৃঢ়
সংহতির কারণে কোনো বিপদ ঘটতে পারেনি। শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথেই উৎসবে মেতে ওঠে
পুরো এমিরেটস স্টেডিয়াম।
চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে আর্সেনালের সামনে এখন এক কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা
করছে। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে তাঁদের মোকাবিলা করতে হবে দিয়েগো সিমিওনের রণকৌশলী দল
অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের। উল্লেখ্য যে, স্প্যানিশ এই ক্লাবটি গত মঙ্গলবার
বার্সেলোনাকে ৩-২ অ্যাগ্রিগেটে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে। নির্ধারিত সূচি
অনুযায়ী, আগামী ৩০ এপ্রিল প্রথম লেগের ম্যাচে মাদ্রিদের মেত্রোপলিতানো স্টেডিয়ামে
আতিথ্য নেবে আর্সেনাল এবং ৬ মে নিজেদের মাঠ এমিরেটসে ফিরতি লেগের গুরুত্বপূর্ণ
লড়াইয়ে নামবে তারা।
অন্যদিকে, প্রতিযোগিতার অন্য সেমিফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ফরাসি জায়ান্ট
প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) এবং জার্মান পরাশক্তি বায়ার্ন মিউনিখ। পিএসজি দুই
লেগ মিলিয়ে লিভারপুলকে ৪-০ ব্যবধানে বিধ্বস্ত করে শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে। একই
সাথে রিয়াল মাদ্রিদকে ৬-৪ ব্যবধানে হারিয়ে নিজেদের শক্তিমত্তার প্রমাণ দিয়েছে
বায়ার্ন মিউনিখ। সব মিলিয়ে ইউরোপীয় ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট কার মাথায় উঠবে, তা
নির্ধারণে এখন ফুটবল বিশ্ব তাকিয়ে আছে এই চার শক্তিশালী দলের পরবর্তী লড়াইয়ের দিকে।
আর্সেনাল ভক্তরা এখন স্বপ্ন দেখছেন সব বাধা পেরিয়ে ট্রফি জয়ের নতুন ইতিহাস গড়ার।
























