ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার প্রথম দফার নির্বাচনে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকাল ৭টায় (স্থানীয় সময়) প্রথম দফার ভোট গ্রহণ শুরু হয়।
সকাল থেকে জেলায় জেলায় বিভিন্ন বুথের বাইরে সারিতে দাঁড়াতে শুরু করেন ভোটাররা। ভোট
গ্রহণ চলে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। ৯০ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছেন বলে প্রাপ্ত তথ্যে জানা
গেছে।
ভারতের নির্বাচন কমিশন এক বিবৃতিতে বলেছে, বিকেল ৫টা পর্যন্ত ৮৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ
ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোট কাস্ট হয়েছে দক্ষিণ
দিনাজপুরে। সেখানকার ৯৩ দশমিক ১২ ভোটার ভোট দিয়েছেন।
পশ্চিমবঙ্গের এবারের বিধানসভার নির্বাচন দুই ধাপে হচ্ছে। রাজ্যটির ২৯৪টি আসনের
মধ্যে গতকাল ভোট হয়েছে ১৫২টি আসনে। যার মধ্যে ৮০টি আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে
ধারণা করা হচ্ছে। এগুলোতে ভোটার আছেন সাড়ে তিন কোটিরও বেশি। দ্বিতীয় ধাপের ভোটগ্রহণ
হবে আগামী ২৯ এপ্রিল। কিন্তু ওইদিনই ফলাফল ঘোষণা করা হবে না। রাজ্যটিতে আগামী পাঁচ
বছরের জন্য কে ক্ষমতায় আসবে সেটি জানা যাবে ৪ মে।
পশ্চিমবঙ্গে সর্বশেষ ২০২১ সালে নির্বাচন হয়। সেবার মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন
তৃণমূল কংগ্রেস ২৯৪টি আসনের ২১৫টিতে একাই জয় পেয়েছিল। অপরদিকে প্রধান বিরোধী দল
বিজেপি পেয়েছিল ৭৭টি আসন। ওইবারের নির্বাচনের মাধ্যমে তৃণমূল কংগ্রেস টানা তৃতীয়বার
রাজ্যটির ক্ষমতায় আসে। সর্বশেষবার বিজেপি খুব বেশি আসন না পেলেও; এবার তারা ক্ষমতায়
আসার পরিকল্পনা করছে। যার অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পশ্চিমবঙ্গে এসে
বিজেপির হয়ে প্রচারণা চালিয়েছেন।
প্রচণ্ড গরমেও ভোটকেন্দ্রে দীর্ঘ সারি
প্রখর রোদ আর গরমের কারণে অনেকেই সকাল সকাল ভোটের সারিতে দাঁড়িয়েছেন। কেন্দ্রীয়
বাহিনীর সদস্যরা ফটকেই ভোটারদের পরিচয়পত্র দেখে ভোটকেন্দ্রে ঢুকতে দেন। সকালে
ইভিএম খারাপ থাকায় তিনটি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ শুরু হতে কিছুটা দেরি হওয়ার খবর পাওয়া
গেছে। এ তিনটি কেন্দ্র হলো মুর্শিদাবাদের রানীনগর, ঝাড়গ্রামের হাড়দা রামকৃষ্ণ
উচ্চবিদ্যালয় আর বীরভূমের সিউরি কেন্দ্র।
প্রথম দফার এ ১৫২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ১ হাজার ৪৭৮ প্রার্থী। তাদের
মধ্যে নারী প্রার্থী ১৬৭ জন। সবচেয়ে বেশি ১৫ জন করে প্রার্থী রয়েছেন কোচবিহার
দক্ষিণ, করনদিঘি ও ইটাহার আসনে। আর কম প্রার্থী রয়েছেন পশ্চিম মেদিনীপুরের
চন্দ্রকোনায়, ৫ জন করে।
ভোটারের সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি ভোটার পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুরে। ভোটারসংখ্যা ২ লাখ
৯৬ হাজার। আর সবচেয়ে কম মুর্শিদাবাদের শমসেরগঞ্জে, ১ লাখ ৬১ হাজার। প্রবাসী ভোটার
রয়েছেন ৪৩ জন।
ভোটগ্রহণে ইভিএম ক্রুটি, বিপাকে ভোটাররা
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে ইভিএম ত্রুটির
অভিযোগ পাওয়া গেছে। যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে মুর্শিদাবাদ ও শিলিগুড়ির বেশ কয়েকটি
বুথে নির্ধারিত সময়ে ভোটগ্রহণ শুরু করা সম্ভব হয়নি।
আনন্দবাজার পত্রিকা জানিয়েছে, মুর্শিদাবাদের কান্দি বিধানসভার ১৩০ নম্বর বুথে
ইভিএম-এ ত্রুটি দেখা দেয়। সকাল ৭টা ২৫ মিনিট বেজে গেলেও সেখানে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া
শুরু করা যায়নি। একই জেলার শমসেরগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের ২১২ নম্বর বুথেও ইভিএম-এ
ত্রুটির অভিযোগ উঠেছে। ফলে সেখানেও সময়মতো ভোট শুরু করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট
কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, শিলিগুড়ি বিধানসভার ২৬/৩১ নম্বর বুথেও একই ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে।
মার্গারেট স্কুলের ওই বুথে ভোট দিতে ভোর থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন ভোটারেরা। তবে
ইভিএম সমস্যার কারণে নির্ধারিত সময়ে ভোটগ্রহণ শুরু করা সম্ভব হয়নি। এই বিলম্বের
কারণ সম্পর্কে নির্বাচন কমিশন এখন পর্যন্ত স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি বলে অভিযোগ
উঠেছে।
নির্বাচনে বিক্ষিপ্ত সহিংসতা
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলাকালীন রাজ্যজুড়ে বেশ কিছু জায়গায়
বিক্ষিপ্ত সহিংসতার মধ্যে দিয়ে শেষ হয়েছে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ। এদিন রাজ্যটির
বেশকিছু বুথে জটলা, ভোট দানে বাধা, ভুয়া ভোট, গাড়ি ভাংচুরের মতো ঘটনার মধ্যে
দিয়ে ভোটগ্ৰহণ পর্ব শেষ হয়। নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর
নজরদারির মধ্যেই প্রথম দফার ১৫২ টি আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়।
সকালের দিকে ভোটগ্রহণ পর্ব শান্তিপূর্ণ থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাপক
উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। দক্ষিণ দিনাজপুর কুমারগঞ্জে পুলিশের সামনে বিজেপির প্রার্থীকে
কিল, চর, ঘুশি মারা হয়। যার কারণে নির্বাচন কমিশনার স্থানীয় জেলার প্রশাসন থেকে
রিপোর্ট তলব করে।

























