ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের রাজধানী বেঙ্গালুরুতে একটি হাসপাতালের সীমানা দেওয়াল ধসে এক
মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় অন্তত সাতজন প্রাণ হারিয়েছেন। গত বুধবার বিকেলে শহরের একটি
হাসপাতাল কমপ্লেক্সের প্রায় ৮ ফুট উঁচু দেওয়ালটি হঠাৎ ধসে পড়লে এই হতাহতের ঘটনা
ঘটে। কয়েক সপ্তাহের তীব্র দাবদাহ ও ভ্যাপসা গরমের পর হঠাৎ শুরু হওয়া ভারী বৃষ্টি
এবং ঝোড়ো হাওয়ার প্রভাবে এই বিপর্যয় ঘটেছে বলে স্থানীয় প্রশাসন ও আবহাওয়া দপ্তর
নিশ্চিত করেছে।
কর্ণাটকের উপ-মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার এই দুর্ঘটনার বিস্তারিত তথ্য দিয়ে
জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে একটি শিশু ও চারজন হকার রয়েছেন। এ ছাড়া কেরালা রাজ্যের
দুইজন ব্যক্তিও এই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার করা একজনের
পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দুর্ঘটনায় আরও অন্তত তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন,
যাদের বর্তমানে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আহতদের মধ্যে
একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র
মোদি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই ঘটনাকে
অত্যন্ত ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে অভিহিত করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর
সমবেদনা জানিয়েছেন। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা এবং
আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ঘটনার তদন্ত
শুরু করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, কয়েক সপ্তাহের চরম অস্বস্তিকর আবহাওয়ার পর বুধবার হুট
করেই বেঙ্গালুরুতে প্রবল বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টি শুরু হয়। তীব্র গতির বাতাসের কারণে
জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে এবং শহরের বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। মূলত ঝোড়ো
হাওয়ার ধাক্কায় জরাজীর্ণ দেওয়ালটি পথচারীদের ওপর ধসে পড়ে। বৃষ্টির ফলে অনেক জায়গায়
গাছ উপড়ে পড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে, যা উদ্ধার অভিযানে
কিছুটা বিঘ্ন ঘটায়।
বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা কাজ
করছেন। আহতদের মধ্যে এক নারীকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত স্বাস্থ্য পরীক্ষার
জন্য বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক
দিন ওই অঞ্চলে আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই দুর্ঘটনার পর শহরের অন্যান্য
জরাজীর্ণ অবকাঠামোগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট
কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে কর্ণাটক সরকার।
























