রাজধানীর সংগীতাঙ্গনে নতুন প্রাণের সঞ্চার করতে আয়োজিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ, ভারত ও
পাকিস্তানের জনপ্রিয় শিল্পীদের সমন্বয়ে বহুল প্রতীক্ষিত ত্রিদেশীয় কনসার্ট ‘ইন্ডি
ফেস্ট’। প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতার কারণে ইতিপূর্বে নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠানটি আয়োজন
করা সম্ভব না হলেও, সকল বাধা পেরিয়ে নতুন তারিখ ঘোষণা করেছে আয়োজক পক্ষ। আগামী ৮ মে
রাজধানীর ১০০ ফিট মাদানি এভিনিউর ‘কোর্টসাইড’ ভেন্যুতে এই বৃহৎ সংগীত আয়োজনটি
অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজকরা নিশ্চিত করেছেন যে, প্রয়োজনীয় সকল অনুমতি পাওয়ার পর মে মাসের
দ্বিতীয় সপ্তাহকেই তারা চূড়ান্ত সময় হিসেবে বেছে নিয়েছেন।
এবারের কনসার্টে দক্ষিণ এশিয়ার তিনটি দেশের ভিন্ন ধারার সংগীতের এক অনন্য মেলবন্ধন
দেখা যাবে। পাকিস্তান থেকে এই আয়োজনে অংশ নিতে আসছেন বর্তমান সময়ের অত্যন্ত জনপ্রিয়
গায়ক আব্দুল হান্নান এবং জনপ্রিয় ব্যান্ড দল ‘বায়ান’। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে
সুরের জাদু ছড়াতে মঞ্চে থাকবে ‘তালপাতার সেপাই’। অন্যদিকে, স্বাগতিক বাংলাদেশের হয়ে
মাতিয়ে রাখবে ব্যান্ড ‘লেভেল ফাইভ’। ভিন্ন তিন দেশের সুর ও তালের এই সংমিশ্রণ
ঢাকার শ্রোতাদের জন্য এক নতুন অভিজ্ঞতা বয়ে আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।
আয়োজক প্রতিষ্ঠানের তথ্যমতে, কনসার্টের দিন অর্থাৎ ৮ মে দুপুর ৩টা থেকে দর্শকদের
জন্য ভেন্যুর গেট উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। মূল সংগীতানুষ্ঠান শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা
থেকে, যা রাত পর্যন্ত চলবে। টিকিট সংগ্রহের জন্য অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘টিকিফাই’-এর
মাধ্যমে ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর আগে প্রশাসনিক জটিলতার কারণে টিকিট বিক্রি
সাময়িকভাবে স্থগিত থাকলেও, বর্তমানে তা পুনরায় সচল করা হয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর
দর্শকরা যাতে নির্বিঘ্নে টিকিট সংগ্রহ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে কারিগরি প্রস্তুতিও
সম্পন্ন হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, গত শীত মৌসুমে পাকিস্তানের জাল, কাভিশ, আতিফ আসলাম ও আলী আজমতসহ
ভারতের অনুভ জৈনের অংশগ্রহণে বেশ কয়েকটি কনসার্ট আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু
নিরাপত্তাজনিত এবং প্রশাসনিক কারণে সেই বড় আয়োজনগুলো বাতিল হয়ে যায়, এমনকি আতিফ
আসলাম ও আলী আজমত ঢাকায় পৌঁছানোর পরও শেষ পর্যন্ত মঞ্চে উঠতে পারেননি। সেই
প্রেক্ষাপটে ‘ইন্ডি ফেস্ট’ হতে যাচ্ছে দীর্ঘ বিরতির পর প্রথম বড় কোনো আন্তর্জাতিক
উন্মুক্ত কনসার্ট। ফলে সাধারণ সংগীতপ্রেমীদের মধ্যে এই অনুষ্ঠানটি নিয়ে ব্যাপক
কৌতূহল ও উদ্দীপনা বিরাজ করছে।
আয়োজক পক্ষ জানিয়েছে, ভেন্যু এবং দর্শকদের নিরাপত্তার বিষয়টি এবার সর্বোচ্চ
অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। কোর্টসাইডের মনোরম পরিবেশে সুশৃঙ্খলভাবে কনসার্টটি উপভোগ
করার জন্য প্রয়োজনীয় সকল প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। আন্তর্জাতিক এই কনসার্টের
মাধ্যমে তিন দেশের সাংস্কৃতিক বিনিময় যেমন ত্বরান্বিত হবে, তেমনি ঢাকার
বিনোদনপ্রেমীদের দীর্ঘদিনের খরাও কাটবে। এখন কেবল ৮ মে-র প্রতীক্ষায় প্রহর গুনছেন
হাজারো তরুণ ও সংগীতানুরাগী। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এবার কোনো বিঘ্ন ছাড়াই সফলভাবে
এই সুরের উৎসব সম্পন্ন হবে।

























