বিনোদন জগতের রঙিন পথচলা থেকে চিরতরে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তরুণ
প্রজন্মের সম্ভাবনাময়ী অভিনেত্রী ও মডেল নওবা তাহিয়া হোসাইন। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি)
রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এক আবেগঘন পোস্টের মাধ্যমে তিনি শোবিজের সব
ধরনের কাজ থেকে অবসরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানান। মিডিয়ায় গত চার বছরের স্মৃতিময়
যাত্রার ইতি টেনে এই তরুণ অভিনেত্রী এখন থেকে নিজের ধর্ম (দীন), উচ্চশিক্ষা এবং
ব্যক্তিগত উন্নয়নের দিকেই পূর্ণ মনোযোগ দিতে চান বলে জানিয়েছেন। তাঁর এই আকস্মিক
ঘোষণা শোবিজ অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
নওবা তাহিয়া তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, মিডিয়ায় কাটানো চারটি বছর তাঁর জীবনের জন্য
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয় একটি অধ্যায় ছিল। এই পথচলার জন্য তিনি সবার কাছে
আজীবন কৃতজ্ঞ থাকবেন। তবে জীবনের বর্তমান পর্যায়ে এসে তিনি আধ্যাত্মিকতা, আত্মিক
শান্তি এবং পরিবারের সঙ্গেই প্রকৃত সুখ খুঁজে পাচ্ছেন। তিনি মনে করেন, নিজের মেধা ও
শ্রম এখন পড়াশোনা ও চারিত্রিক উন্নতির পেছনে ব্যয় করাই তাঁর জীবনের জন্য সবচেয়ে
সঠিক সিদ্ধান্ত। নওবা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, এখন থেকে তাঁর আর কোনো নতুন কাজ—হোক
সেটি নাটক, বিজ্ঞাপনচিত্র (টিভিএসি) কিংবা ওটিটি প্ল্যাটফর্ম—আসবে না। যদিও তাঁর
আগে সম্পন্ন করা কিছু কাজ ভবিষ্যতে প্রকাশিত হতে পারে, তবে সেসবের প্রচার বা
সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকাণ্ডে তিনি আর অংশ নেবেন না।
পেশাদার জীবনের এই পরিবর্তনের কথা জানাতে গিয়ে নওবা তাঁর ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের
প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, হৃদয়ের গভীর থেকে দর্শকরা তাঁকে যে
ভালোবাসা ও নিঃশর্ত সমর্থন দিয়েছেন, তা তাঁর চলার পথের বড় অনুপ্রেরণা ছিল। মূলত
নিজের ভেতরের নতুন উপলব্ধি এবং জীবনবোধ পরিবর্তনের কারণেই তিনি গ্ল্যামার জগতের
হাতছানি উপেক্ষা করে শান্তির পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
নওবা তাহিয়ার বিনোদন জগতের যাত্রা শুরু হয়েছিল বেশ বর্ণিলভাবে। বাংলাদেশ টেলিভিশনের
(বিটিভি) ছোটবেলার জনপ্রিয় শিশুতোষ অনুষ্ঠান ‘কাননে কুসুম কলি’-তে উপস্থাপিকা
হিসেবে তাঁর হাতেখড়ি হয়। চমৎকার বাচনভঙ্গি আর সাবলীল উপস্থাপনার কারণে তিনি
ছোটবেলাতেই পরিচিতি পান। বড় হয়েও তিনি একই অনুষ্ঠানের উপস্থাপনার দায়িত্ব পালন করেন
এবং সেখান থেকেই বিটিভির সাপ্তাহিক নাটক ‘ফেরার গল্প’-এর মাধ্যমে বড় পর্দায় তাঁর
অভিষেক ঘটে। সেই নাটকে প্রধান চরিত্র ‘বর্ষা’-তে অভিনয় করে তিনি নবাগত হিসেবে
দারুণভাবে আলোচিত হন। এরপর থেকে বিভিন্ন নাট্য ও ওটিটি প্রজেক্টে তিনি তাঁর
প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে আসছিলেন। তাঁর এই বিদায় ঘোষণাকে অনেক দর্শক ইতিবাচকভাবে
দেখছেন এবং তাঁর নতুন জীবনের জন্য শুভকামনা জানাচ্ছেন। মূলত সৃজনশীলতা ও মেধার
স্বাক্ষর রেখেও আধ্যাত্মিক শান্তিকে প্রাধান্য দেওয়ার এই সাহসী সিদ্ধান্ত নওবাকে এক
ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
























