ঢাকাই চলচ্চিত্রে পাইরেসি আতঙ্ক আবারও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। গত বছর ‘তাণ্ডব’ ও
‘বরবাদ’ সিনেমার পর এবার মুক্তির আগেই অনলাইনে ফাঁস হয়ে গেল নির্মাতা রাশিদ পলাশের
বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘রঙবাজার’। বর্তমানে ইন্টারনেটে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ
মাধ্যম ও পাইরেসি সাইটে সিনেমাটির পূর্ণাঙ্গ এইচডি (HD) প্রিন্ট পাওয়া যাচ্ছে।
প্রেক্ষাগৃহে আসার আগেই এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় নির্মাতা ও প্রযোজকসহ পুরো
চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট মহল চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
দীর্ঘ চার বছর আগে একটি ৪শ’ বছরের পুরোনো যৌনপল্লি উচ্ছেদের সত্য ঘটনা অবলম্বনে
‘রঙবাজার’ নির্মাণ করেছিলেন রাশিদ পলাশ। সিনেমাটি বেশ কয়েকবার মুক্তির প্রস্তুতি
নিলেও বিভিন্ন কারিগরি ও কৌশলগত কারণে তা বারবার পিছিয়ে যায়। সর্বশেষ পবিত্র ঈদুল
ফিতরে এটি মুক্তির লক্ষ্যে ট্রেলার ও ফার্স্টলুক প্রকাশ করা হয়েছিল। তবে বড় আয়োজনে
মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা থেকে নির্মাতা সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, কোরবানির ঈদের
পর সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে আসবে। কিন্তু সেই আনুষ্ঠানিক মুক্তির আগেই পাইরেসি পুরো
প্রজেক্টটিকে বড় ব্যবসায়িক ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
লাইভ টেকনোলজিস প্রযোজিত এই সিনেমার চিত্রনাট্য লিখেছেন গোলাম রাব্বানী এবং মূল
গল্প সরবরাহ করেছেন তামজিদ অতুল। ২০২২ সালে শুরু হওয়া এই সিনেমার অধিকাংশ দৃশ্যধারণ
করা হয়েছে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া যৌনপল্লিতে। একটি ঐতিহ্যবাহী পল্লী এক রাতের মধ্যে
গুঁড়িয়ে দেওয়ার নেপথ্য কাহিনী এবং সেখানে বসবাসকারী নারীদের জীবনসংগ্রাম ও সামাজিক
সংকট এতে নিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। বাস্তবসম্মত চিত্রায়নের জন্য সিনেমাটি শুরু
থেকেই চলচ্চিত্র প্রেমীদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।
সিনেমাটিতে বিভিন্ন বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয় করেছেন একঝাঁক শক্তিমান অভিনয়শিল্পী।
একজন চিত্রনায়িকার চরিত্রে দেখা যাবে পিয়া জান্নাতুলকে এবং যৌনকর্মীর চরিত্রে অভিনয়
করেছেন শম্পা রেজা, নাজনীন হাসান চুমকী ও তানজিকা আমিন। এ ছাড়াও মাদক কারবারির
ভূমিকায় মৌসুমী হামিদ এবং রাজনৈতিক নেতার চরিত্রে অভিনয় করেছেন লুৎফর রহমান জর্জ ও
মাহমুদুল ইসলাম মিঠু। শাহজাহান সম্রাট ও প্রণব ঘোষসহ আরও অনেক দক্ষ শিল্পী এতে
গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।
পাইরেসির এই ঘটনায় নির্মাতা রাশিদ পলাশ তীব্র ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে জানিয়েছেন
যে, তাঁরা ইতোমধ্যে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। তিনি বিষয়টি
প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানকে অবগত করেছেন এবং সাইবার অপরাধীদের শনাক্ত করে কঠোর শাস্তির
আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। ঢাকাই সিনেমার সুসময়ে বারবার এমন পাইরেসির হানা
সামগ্রিক চলচ্চিত্রের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা ও নির্মাতাদের পরিশ্রমকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে
বলে মনে করছেন চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা। এখন দেখার বিষয়, আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে এই
পাইরেসি কতটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়।
























